কাশি হোক বা গলা ব্যথা কিংবা মুখে দুর্গন্ধ— হেঁশেলের এক মশলাই হতে পারে সমাধান। সেটি হল লবঙ্গ। এতে রয়েছে ‘ইউজেনল’-এর মতো শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সহায়ক। শুধু রান্নায় স্বাদ বৃদ্ধিতে নয়, লবঙ্গের খোঁজ পড়ে সর্দি-কাশি বা গলা ব্যথা হলেই। খুকখুকে কাশিতে জেরবার! মুখে লবঙ্গ রাখলেই মিলবে স্বস্তি। দাঁত ব্যথা থেকে মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে পারে লবঙ্গের তেল। এত যার গুণ, সেই মশলা দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রাখতেই হয়। কিন্তু দিনে ক’টা? ১০-১২টি লবঙ্গ খাওয়া কি যথেষ্ট?
ঠাণের একটি বেসরকারি হাসপাতালের পুষ্টিবিদ অমরীন শেখ বলছেন, লবঙ্গ উপকারী হলেও, কেউ যদি দিনে ১০-১২টি করে খেতে শুরু করেন উপকারের বদলে অপকার হতে পারে।মাঝেমধ্যে একটু বেশি খেলে সমস্যা না হলেও, নিয়মিত এত বেশি পরিমাণে খেলে শরীরে বিরূপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অতিরিক্ত লবঙ্গ খেলে কী কী সমস্যা হতে পারে?
পেটের সমস্যা: অতিরিক্ত লবঙ্গ খেলে অ্যাসিডিটি, বুক ও পেটে জ্বালাভাব দেখা দিতে পারে। হজমের গোলমাল হতে পারে।
মুখের ভিতরে জ্বালা: লবঙ্গ তেল ঝাঁঝালো। বেশি লবঙ্গ খেলে মুখ বা জিভে দীর্ঘক্ষণ জ্বালাভাব কিংবা অস্বস্তি রয়ে যেতে পারে।
রক্ত পাতলা হওয়া: লবঙ্গের মূল উপাদান ইউজেনল রক্ত তরল বা পাতলা করতে সহায়ক। যাঁরা রক্ত পাতলা রাখার ওষুধ খাচ্ছেন বা যাঁদের কোনও অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে, তাঁদের সতর্ক থাকা উচিত। কারণ, বেশি লবঙ্গ খেলে তাঁদের রক্ত বন্ধ না হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
লিভারের উপর চাপ: দীর্ঘদিন ধরে খুব বেশি পরিমাণে লবঙ্গ খেলে লিভারের ক্ষতি হতে পারে। তবে রান্নায় ব্যবহারে এই ঝুঁকি থাকে না।
প্রতিদিন কতটা খাওয়া নিরাপদ?
লবঙ্গ উপকারী হলেও, এর এমন কোনও জাদুকরী ক্ষমতা নেই, যা মুহূর্তে শারীরিক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে। রান্নায়, চায়ে দেওয়া যেতে পারে। কেউ মুখে এক বা দু’টি লবঙ্গে রেখে চুষে খেতে পারেন। বিশেষত, কাশির সময় মুখে লবঙ্গ রাখলে গলার অস্বস্তি কমে। তবে পুষ্টিবিদের পরামর্শ কোনও একটি মশলা অতিরিক্ত ব্যবহার না করে, বিভিন্ন জিনিস খাওয়া জরুরি। এতে পুষ্টির সামঞ্জস্য বজায় থাকে।
সমাজমাধ্যমে দেখে বা বেশি উপকারের আশায় কোনও কিছু খাদ্যতালিকায় নিয়ম করে জুড়তে হলে তার ভাল-খারাপ দিকগুলি খতিয়ে দেখা জরুরি, মনে করাচ্ছেন চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিদেরা।