বাবার ফোন বেজে গিয়েছে ৩ বার? বর্ষায় পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়া হচ্ছে? দূরে কোথাও ঝগড়া হচ্ছে? ফোন বাজলেই বুক ধক করে ওঠে? সবচেয়ে খারাপ পরিণতির কথা ভাবতে থাকে মন। সব সময়ে মনে হয়, কিছু একটা খারাপ হতে চলেছে। নতুন কোনও পরিস্থিতিতে গেলেই মন অজানা বিপদের আশঙ্কায় ভরে যায়। যদি এমন অনুভূতি বার বার হয় এবং বছরের পর বছর তা নিয়ে লড়াই করে যেতে হয়, তবে তা উপেক্ষা করার মতো নয়। শুধু ‘অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা’ বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। নেপথ্যে থাকতে পারে ‘হাইপারভিজিল্যান্স’ নামে একটি মানসিক অবস্থা।
হাইপারভিজিল্যান্স হল এমন একটি পরিস্থিতি, যেখানে মস্তিষ্ক সব সময়ে বিপদের আশঙ্কায় থাকে। আদপে কোথাও কোনও বিপদের ঝুঁকি না থাকলেও মনে হয়, যে কোনও মুহূর্তে খারাপ কিছু ঘটতে পারে। ফলে শরীর ও মন সব সময়ে সতর্ক অবস্থায় থাকে, যেন নিজেকে রক্ষা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মনোবিদদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে অতীতের কোনও মানসিক আঘাত বা দীর্ঘদিনের ভয়, নিরাপত্তার অভাব কিংবা কঠিন অভিজ্ঞতার পর মস্তিষ্ক এই ভাবে ভাবতে শুরু করে। তখন বিপদ কেটে গেলেও মস্তিষ্ক আর সতর্ক অবস্থা থেকে বেরোতে পারে না। ধীরে ধীরে যেন এটাই সয়ে যায়। অর্থাৎ শরীর নিরাপদ জায়গায় থাকলেও মস্তিষ্ক বার বার সঙ্কেত দেয়, এখনও বিপদ রয়েছে। তাই সব সময়ে পালানোর বন্দোবস্ত করে রাখতে হবে অথবা যুদ্ধে নামতে হবে।
সব সময়ে দুশ্চিন্তায় মন? ছবি: সংগৃহীত
এই অবস্থার কিছু সাধারণ লক্ষণ রয়েছে। যেমন—
· সব সময়ে খারাপ কিছু ঘটার আশঙ্কা করা
· আশপাশের শব্দ বা নড়াচড়ায় অতিরিক্ত চমকে ওঠা
· নতুন ব্যক্তি বা পরিবেশকে সহজে বিশ্বাস করতে না পারা
· সব সময়ে চারপাশ পর্যবেক্ষণ করতে থাকা
· মন শান্ত করতে না পারা
· ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা বা অতিরিক্ত ক্লান্তি
· সব সময়ে উল্টো দিকের ব্যক্তির অভিব্যক্তির দিকে নজর রাখা, কোনও খারাপ খবর রয়েছে কি না জানার চেষ্টা করা
· শরীরেও প্রভাব পড়ে, পেশি আড়ষ্ট হয়ে থাকতে পারে
· মাঝে মধ্যে অল্প শ্বাসকষ্ট
· মনোযোগের অভাব
হাইপারভিজিল্যান্স দুর্বলতা নয়, বরং অনেক সময়ে মস্তিষ্কের আত্মরক্ষার কৌশল। কিন্তু সেই কৌশলের প্রয়োজন না থাকলেও যদি মস্তিষ্ক সব সময়ে সক্রিয় হয়ে থাকে, তখনই সমস্যা তৈরি হয়। দীর্ঘ দিন ধরে যদি মস্তিষ্ক একই ভাবে আতঙ্কে কাটাতে থাকে, তা হলে তার প্রভাব রোজের জীবনেও পড়তে শুরু করে। কাজের প্রতি মনোযোগ কমে যেতে পারে, সম্পর্কের উপর প্রভাব পড়তে পারে এবং সব সময়ে উদ্বেগে ভুগতে হতে পারে। এর ফলে মাথায় বা মনে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। তাই এই সমস্যা যদি দীর্ঘ দিনের সঙ্গী হয়ে থাকে, তা হলে অবশ্যই মনোরোগ চিকিৎসকের কাছে গিয়ে ওষুধ নিতে হবে অথবা মনোবিদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা দূর করতে হবে।