সমাজমাধ্যমের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত রিল, ভিডিয়োতে ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’, ‘অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট’-এর মতো শব্দবন্ধগুলি প্রায়ই শোনা যায়। কোন খাবার খেলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমবে, তা নিয়ে পরামর্শও থাকে। কিন্তু অক্সিডেটিভ স্ট্রেস আসলে কী?
মানবশরীরে বিপাক ক্রিয়ার ফলে বা বাইরের পরিবেশগত কারণে ক্ষতিকর কিছু অণু তৈরি হয়, যেগুলিকে ফ্রি র্যাডিক্যাল বলে। শরীরে ফ্রি র্যাডিক্যালের প্রভাব বেড়ে গেলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি হয়। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এই ফ্রি র্যাডিক্যালগুলিকে নিষ্ক্রিয় করে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে।
আরও পড়ুন:
অক্সিডেটিভ স্ট্রেস সামগ্রিক ভাবে শরীরের যেমন ক্ষতি করে, তেমনই অকালবার্ধক্যের কারণও হতে পারে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বেড়ে গেলে কোষও ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে এবং কার্যক্ষমতা হারাতে থাকে। তার ফলে, ত্বকের টানটান ভাব কমে যায়, কোষের শক্তি উৎপাদনকারী মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করে। তার ফলে দোসর হয় দৈনন্দিন ক্লান্তি এবং মানসিক চাপ।
শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের প্রভাব
হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির ক্ষতি: অক্সিডেটিভ স্ট্রেস রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। তার ফলে ধমনীতে প্লাক জমার (স্নেহপদার্থের স্তর) প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এটি রক্তনালির ভিতরের দেওয়ালে প্রদাহ তৈরি করে, ফলে উচ্চ রক্তচাপের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
লিভারের কার্যক্ষমতা হ্রাস: অতিরিক্ত অক্সিডেটিভ স্ট্রেস লিভারের কোষেও প্রদাহ তৈরি করে। এর ফলে লিভারের কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বা নিয়মিত মদ্যপান করলে লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বেড়ে গেলে শরীরের প্রতিটি প্রত্যঙ্গই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে মুক্তি মিলবে কী ভাবে
প্রাণয়াম: প্রতিদিন কয়েক মিনিটের জন্য ধীরে ও গভীর ভাবে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস কার্যকর হতে পারে। এটি মানসিক চাপের কারণে তৈরি হওয়া ক্ষতিকর ‘ফ্রি র্যাডিক্যালস’ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
ওমেগা-৩ যুক্ত খাবার খাওয়া: সপ্তাহে অন্তত কয়েক দিন খাদ্যতালিকায় আখরোট, তিসি বা সামুদ্রিক ও তৈলাক্ত মাছ রাখুন। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড কোষের প্রাচীর মজবুত রাখতে, প্রদাহ কমাতে এবং মস্তিষ্ক পুনরুজ্জীবিত করতে অত্যন্ত কার্যকর।
চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার বর্জন: মিষ্টি এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, যা ফ্রি র্যাডিক্যালের মাত্রাও বৃদ্ধি করে। তাজা শাকসব্জি, ফল এবং পুষ্টিকর খাবারে মেলে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা ফ্রি র্যাডিক্যালের মোকাবিলার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
শান্তিপূর্ণ যাপন: দিনে অন্তত ৫ থেকে ১০ মিনিট হাঁটাহাটি করা, ধ্যান বা প্রাণায়াম করা জরুরি। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়, যা ফ্রি র্যাডিক্যালের উৎপাদন বৃদ্ধি করে। এতে মন শান্ত হয়। হরমোনের ভারসাম্য ঠিক থাকে।
অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবার
আখরোট, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম, কুমড়োর বীজ, তিসির বীজ, সাদা তিল, চিয়াবীজ, পালংশাক, ব্রকোলি, তৈলাক্ত মাছ, আমলকি, বিভিন্ন রকম ফল সহ বেশ কিছু খাবার অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে পূর্ণ। এই খাবারগুলি রোজের খাদ্যতালিকায় মিলিয়েমিশিয়ে রাখা জরুরি।