কেউ বলেছিলেন বড় কোনও অসুখ হয়েছে। কেউ বলেছিলেন, ওজ়েম্পিকের জন্যই মেদ ঝরেছে। গত বছরেই অভিনেতা-পরিচালক কর্ণ জোহরের চেহারার বদল ছিল অনুরাগীদের আলোচ্য বিষয়বস্ত। কারণ অনেকটা ওজন কমিয়েছিলেন তিনি।
ওজন কমানোর ওষুধ নিয়েই মেদ গলেছে এই নিয়ে কানাঘুষো শুরু হতেই, বিতর্কে থামিয়ে কর্ণ বলেছিলেন, পরিশ্রমের জোরেই কাজ হয়েছে। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে তিনি জানালেন, ওজন কমানোর বিড়ম্বনার কথা।
শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকতে চিকিৎসকের পরামর্শেই ওজন কমাতে উদ্যোগী হয়েছিলেন কর্ণ। চিনি ছেড়েছিলেন। কড়া ডায়েট করছিলেন। সমস্ত নিয়ম মানার পরেও এক সময় ওজন হয়ে গিয়েছিল স্থির। কর্ণের কথায়, ‘‘আমি আগে অবাক হয়ে ভাবতাম—ডায়েট করছি, খাওয়া কমিয়েছি, ওজন কমানোর জন্য যা যা করা সম্ভব সবই করছি, তাও কেন ওজন কমছে না! আমি খাবারের তালিকা থেকে চিনি বাদ দিয়েছিলাম। প্রতি তিন দিন পর পর মাত্র এক টুকরো চকলেট খেতাম। সারা দিন কঠোর ডায়েট মেনেই চলতাম, আর তারপর রাতের ক্ষীর খেয়ে ফেলতাম।’’
আরও পড়ুন:
ঠাণের একটি হাসপাতালের চিকিৎসক সুজিত নায়ার জানাচ্ছেন, ওজন কমা শুধু চিনি ছাড়া বা ক্যালোরি কমানোর উপর নির্ভর করে না।কেউ সচেতন ভাবে হয়তো মিষ্টি খাচ্ছেন না অথচ চিনি দেওয়া পানীয় পান করছেন বা খাবারে চিনি থাকছে, তা হলেও কিন্তু অনেকটা ক্যালোরি শরীরে যাবে। তবে চিনি বাদ দিলে ক্যালোরির মাত্রা এবং ওজন দুই-ই কমানো সম্ভব। তবে একই শ্রমে, কার কতটা ওজন কমবে তা নির্ভর করে বিপাকহার, শারীরচর্চার মাত্রা, ঘুম এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সমস্যার উপরে।
কর্ণ জানিয়েছেন, তিনি জানতেনই না আটা বা দুধে তাঁর সমস্যা রয়েছে। গ্লুটেন, ল্যাক্টোজ় কোনওটাই তাঁর হজম হয় না। ফলে ভাত, আলুই তাঁর জন্য স্বাস্থ্যবান্ধব। থাইরয়েড মাত্রায় থাকা সত্ত্বেও তাঁকে থাইরয়েডের ওষুধ চালু করতে হয় চিকিৎসকের পরামর্শে। তবে একসময় লক্ষ্যলাভ সম্ভবও হয়।
চেষ্টার পরেও ওজন কমানো কারও জন্য কঠিন হয় কেন?
ওজনের সঙ্গে বিএমআর সম্পর্কিত। চিকিৎসকেরা মনে করাচ্ছেন, প্রত্যেকের বেসাল মেটাবলিক রেট (বিএমআর) আলাদা। বিপাকহার যাঁর বেশি, তিনি অনেক খেয়েও হজম করে ফেলতে পারবেন। আর যাঁর কম, তিনি অল্প খেয়েও ওজন কমাতে পারবেন না। বিএমআর বেশি হলে অনেক বেশি ক্যালোরি পোড়ে খুব কম সময়ে। এমনকি, বিশ্রামের সময়েও। তাই এমন মানুষজন খেয়েদেয়ে, শুয়ে-বসে কাটিয়েও মোটা হবেন না। ক্যালোরি পোড়াতে পেশিরও বড় ভূমিকা আছে। পেশির ঘনত্ব বেশি হলে খুব তাড়াতাড়ি ক্যালোরি ক্ষয় হয়। শরীরে জমা মেদ পুড়িয়ে তা থেকে শক্তি আহরণ করে পেশি। সে জন্য পেশিবহুল ও বিপাকহার বেশি, এমন লোকজন পরিমাণে অনেক বেশি খেয়েও নির্মেদ চেহারা ধরে রাখতে পারেন। ইনসুলিন হরমোন শরীরে ঠিকমতো কাজ না করলেও, ওজন কমায় সমস্যা হতে পারে।
ওজন কমানোর সঠিক পন্থা কী
ওজন কমানোর জন্য সঠিক ডায়েট জরুরি। তারকাদের পিলাটিজ় প্রশিক্ষক ইয়াসমিন করাচিওয়ালা এবং পুষ্টিবিদ নেহা সহায় একটি পডকাস্টে বলছেন, তাড়াহুড়ো নয়, বরং ধৈর্য এবং চেষ্টাতেই মিলতে পারে সাফল্য। শুধু দৈনন্দিন ক্যালোরি গ্রহণের মাত্রা কমালেই হয় না, বিপাকীয় স্বাস্থ্যের সঙ্গেও ওজন কমানোর প্রক্রিয়া ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। চিনি বাদ, মেপেজুপে খাওয়া, খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, ফাইবারের আধিক্য, ডায়াবিটিস, থাইরয়েড, ফ্যাটি লিভারের মতো অসুখ সামলে রাখতে পারলে ওজন কমাতে বেগ পাওয়ার কথা নয়।