সনাতন ধর্মে, ঘরের মন্দিরে দেব-দেবীর মূর্তি স্থাপনের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। ঘরের মন্দিরে বা পুজোর ঘরে একই দেবতার একাধিক মূর্তি বা ছবি রাখা অশুভ বলে মনে করা হয়। একই পুজোর ঘরে একই দেব বা দেবীর দু’টি বা তার বেশি মূর্তি বা ছবি রাখা অনুচিত। এর ফলে ঘরে কিছু নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। নীচে এর কারণ এবং পরিবারের সদস্যদের জীবনে সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে বিস্তারে আলোচনা করা হল—
শক্তির ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়া
বাস্তুমতে, প্রতিটি মূর্তি থেকে একটি নির্দিষ্ট শক্তির তরঙ্গ নির্গত হয়। যখন একই দেবতার একাধিক মূর্তি পাশাপাশি বা সামনাসামনি রাখা হয়, তখন তাঁদের শক্তির তরঙ্গের মধ্যে সংঘাত তৈরি হয়। এর ফলে পুজোর ঘরের ইতিবাচক শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং একটি অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে।
মানসিক স্থিরতার অভাব
পুজো করার মূল উদ্দেশ্য হল মনকে শান্ত করা এবং ঈশ্বরের প্রতি মনোনিবেশ করা। কিন্তু সামনে যদি একই দেবতার একাধিক রূপ বা মূর্তি থাকে তবে, অবচেতন ভাবেই মন বিভ্রান্ত হতে পারে। এর ফলে প্রার্থনার সময় একাগ্রতা এবং শান্তির অভাব দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন:
পারিবারিক অশান্তি
পুজোর ঘরে একই দেবতার একাধিক মূর্তি রাখলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ, ভুল বোঝাবুঝি এবং মানসিক দূরত্ব তৈরি হতে পারে। বাস্তুমতে, গণেশ, রাধাকৃষ্ণ বা লক্ষ্মী দেবীর একাধিক মূর্তি একসঙ্গে রাখলে দাম্পত্যজীবনে বা পরিবারের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।
আর্থিক উন্নতিতে বাধা
ধনদেবী লক্ষ্মী বা বিঘ্নহর্তা গণেশের একাধিক মূর্তি যদি সঠিক নিয়ম না মেনে পাশাপাশি রাখা হয়, তবে তা আর্থিক সমৃদ্ধির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। আয়ের চেয়ে ব্যয়ের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া বা ব্যবসায় মন্দা দেখা দেওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।
যদি আপনার পুজোর ঘরে ইতিমধ্যে একই দেবতার একাধিক মূর্তি থাকে, তবে নীচের নিয়মগুলি মেনে চললে উপকার পাবেন—
- একই দেবতার দু’টি মূর্তি কখনও একে অপরের দিকে মুখ করে বা একদম পাশাপাশি রাখবেন না।
- ঘরে যদি দু’টি গণেশ মূর্তি রাখতেই হয়, তবে তা যেন পুজোর স্থানের আলাদা আলাদা জায়গায় থাকে। বাস্তুমতে, তিনটি গণেশ মূর্তি একসঙ্গে রাখা একেবারেই নিষিদ্ধ।
- ঘরের মন্দিরের জন্য মূর্তির আকার সব সময় ছোট সাধারণত বুড়ো আঙুলের মাপের বা সর্বোচ্চ ৪-৫ ইঞ্চি হওয়াই শ্রেয়। বড় মূর্তি রাখার ক্ষেত্রে প্রাণপ্রতিষ্ঠা ও নিত্যপুজোর কঠোর নিয়ম মানতে হয়।
আরও পড়ুন:
- মূর্তি যদি সামান্যতমও ভেঙে যায় বা ফাটল ধরে তবে, তা অবিলম্বে পুজোর ঘর থেকে সরিয়ে কোনও জলাশয়ে বিসর্জন দেওয়া উচিত। ভাঙা মূর্তি ঘরে রাখা অত্যন্ত নেতিবাচক বলে মনে করা হয়।
- সম্ভব হলে বাড়তি বা অতিরিক্ত মূর্তিগুলি সসম্মানে কোনও মন্দিরে দান করে দিতে পারেন অথবা কোনও পবিত্র স্থানে রেখে আসতে পারেন। পুজোর ঘর যত পরিচ্ছন্ন, গুছোনো এবং কম জিনিসপত্র দিয়ে সাজানো থাকবে, ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ তত বৃদ্ধি পাবে।