আত্মার বিনাশ হয় না, দেহের বিনাশ হয়। নির্দিষ্ট সময়ে যেমন বস্ত্র পরিবর্তন করা হয়, তেমনই কর্মফল অনুযায়ী মৃত্যুর পরে দেহেরও পরিবর্তন হয়। শাস্ত্রমতে, পূর্বপুরুষের আত্মা যেখানেই, যে শরীরই ধারণ করে থাকুক, উত্তরপুরুষের শ্রদ্ধার সঙ্গে জলদান (তর্পণ), পূর্বপুরুষের আত্মাকে তৃপ্তি দান করে। তবে পিতৃপুরুষ ছাড়াও দেবতা, গুরু এবং ঋষিদেরও শ্রদ্ধা জানিয়ে তর্পণ করার বিধান শাস্ত্রে রয়েছে। বিভিন্ন তর্পণের প্রক্রিয়া ভিন্ন। পূর্বপুরুষের মৃত্যুতিথিতেই তর্পণ করা উচিত। সম্ভব না হলে পিতৃপক্ষের শেষ দিন, অর্থাৎ অমাবস্যায় তর্পণ করা যেতে পারে। চলতি বছর ১০ অক্টোবর, শনিবার মহালয়া। বিশেষ এই তিথিতে মৃত ব্যক্তির আত্মার শান্তির উদ্দেশে সন্তানেরা তর্পণ করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে কেবল পুত্র সন্তানকেই তর্পণ করতে দেখা যায়। মহিলারা সাধারণত এ কাজ করেন না। তবে শাস্ত্রে কি মহিলাদের তর্পণ করা নিয়ে কোনও বিধিনিষেধ রয়েছে? শাস্ত্রমত জেনে নিন।
আরও পড়ুন:
মহিলারা কি তর্পণ করতে পারেন?
শাস্ত্র জানাচ্ছে, বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে মহিলারাও তর্পণ করতে পারেন। বিশেষ করে, যদি পুত্রসন্তান না থাকে, তখন কন্যাসন্তানের শ্রাদ্ধ ক্রিয়া করার অধিকার রয়েছে। প্রাচীন গরুড় পুরাণেই বর্ণিত আছে, পবিত্র মনে যদি কোনও নারী তর্পণ করে, তা হলে সে পিতৃঋণের পরিপূর্ণ ফল পায়। অর্থাৎ নারীরাও এই কাজ করতে পারেন, পুত্রসন্তানের অনুপস্থিতিতে। সাধারণত পুরুষরাই পিণ্ডদান করেন, তবে মহিলাদের যে এ কাজ করার অধিকার নেই, এমন কিছু শাস্ত্রে কিছু বলা নেই।
আরও পড়ুন:
মহিলাদের তর্পণ করার নিয়ম-
তর্পণ যে নিয়মে করা হয়, মহিলারাও সেই নিয়মেই তর্পণ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কোনও বিশেষ নিয়ম মেনে চলার নিদান শাস্ত্র জানায় না। মন্ত্রোচ্চারণ করে কুশ, তিল মেশানো জল, চাল, দুধ, সাদা ফুল একত্রে নিবেদন করা হয় পূর্বপুরুষের উদ্দেশে। সাধারণত দক্ষিণ মুখে বসে, হাতে কুশ নিয়ে ‘ওম আগচ্ছন্তু মে পিতর, গ্রহন্তু জলাঞ্জলিম’ মন্ত্র পাঠ করে জল অর্পণ করতে হয়। শাস্ত্র মতে, এই ভাবে তর্পণ করলে আত্মা প্রশান্তি লাভ করে। এ কাজ অবশ্যই বাড়ির কাছে নদী থাকলে সেখানে, অথবা কোনও জলাশয়ের কাছে গিয়ে করতে হবে।