তিথির হিসাব করা হয় সূর্য এবং চন্দ্রের দূরত্ব অনুসারে। সূর্য এবং চন্দ্র যখন সমডিগ্রিতে অবস্থান করে, তখন হয় অমাবস্যা তিথি। সূর্যের অবস্থান থেকে চন্দ্র প্রত্যেক ১২ ডিগ্রি দূরত্ব অতিক্রম করলে তিথি পরিবর্তন হয়। প্রতিপদ, দ্বিতীয়া, এই রূপে ১৫ নম্বর তিথি হয় পূর্ণিমা। চন্দ্র এক মাসের কিছু কম সময়ে ৩৬০ ডিগ্রি, অর্থাৎ রাশিচক্রের ১২টি রাশি প্রদক্ষিণ করে। প্রত্যেক মাসে সূর্যের থেকে চন্দ্রের নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থানকালে পূর্ণিমা তিথি হয়। শাস্ত্রে প্রত্যেক পূর্ণিমার বিশেষ তাৎপর্য আছে। আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা গুরুপূর্ণিমা নামে পরিচিত। এই গুরুপূর্ণিমার পুণ্য তিথিতে মুনি পরাশর এবং মাতা সত্যবতীর গৃহে জন্মগ্রহণ করেন মহাভারত রচয়িতা মহর্ষি বেদব্যাস। মহর্ষি বেদব্যাসকে সর্বশ্রেষ্ঠ গুরু মেনে এই পুণ্য তিথি গুরু আরাধনার তিথি হিসাবে পালন করা হয়। শাস্ত্রমতে দেবাদিদেব মহাদেব এই তিথিতে সাত ঋষিকে মহাজ্ঞান প্রদান করেন। ভগবান বুদ্ধ বোধিজ্ঞান লাভের পর পুণ্য গুরুপূর্ণিমার তিথিতে তাঁর পাঁচ সঙ্গীকে মহা উপদেশ দান করেছিলেন। মহাবীর এই পুণ্য তিথিতে তাঁর প্রধান শিষ্যকে দীক্ষা দান করেন। আগামী ২৯ জুলাই, ১২ শ্রাবণ, বুধবার পুণ্য গুরুপূর্ণিমা।
আরও পড়ুন:
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে–
পূর্ণিমা তিথি আরম্ভ:
বাংলা- ১১ শ্রাবণ, মঙ্গলবার।
ইংরেজি- ২৮ জুলাই, মঙ্গলবার।
সময়- সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট।
পূর্ণিমা তিথি শেষ:
বাংলা- ১২ শ্রাবণ, বুধবার।
ইংরেজি- ২৯ জুলাই, বুধবার।
সময়- রাত ৮টা ৬ মিনিট।
আরও পড়ুন:
গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে–
পূর্ণিমা তিথি আরম্ভ-
বাংলা: ১১ শ্রাবণ, মঙ্গলবার।
ইংরেজি- ২৮ জুলাই, মঙ্গলবার।
সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিট ৫ সেকেন্ড।
পূর্ণিমা তিথি শেষ-
বাংলা- ১২ শ্রাবণ, বুধবার।
ইংরেজি- ২৯ জুলাই, বুধবার।
সময়- সন্ধ্যা ৭টা ৩৯ মিনিট ৩ সেকেন্ড।