জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, রাতের সময়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। কারণ এই সময় আমাদের চারপাশের শক্তি বা এনার্জি পুনর্গঠিত হয়। বিশ্বাস করা হয় যে, রাতে ঘুমোনোর আগে কয়েকটি বিশেষ কাজ করলে জীবনের নেতিবাচকতা দূর হয় এবং সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির দুয়ার খোলে। প্রতি রাতে নিয়ম মেনে যে চারটি কাজ করলে ভাগ্য ফিরতে পারে তা নিয়ে বিস্তারে আলোচনা করা হল—
দরজার সামনে আলো জ্বালানো
ঘরের মূল প্রবেশদ্বার দিয়ে ইতিবাচক শক্তি প্রবেশ করে। বিশ্বাস করা হয়, এর ফলে দেবী লক্ষ্মী ঘরে প্রবেশ করেন এবং আর্থিক অনটন দূর হয়। সে কারণে রাতে ঘুমোনোর আগে ঘরের সদর দরজার সামনে হালকা আলো জ্বালিয়ে রাখা প্রয়োজন। অন্ধকার প্রবেশদ্বার নেতিবাচক শক্তিকে আকর্ষণ করে।
রান্নাঘর পরিষ্কার করা
রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে রান্নাঘর পরিচ্ছন্ন না রাখা জ্যোতিষমতে অত্যন্ত অশুভ বলে মনে করা হয়। নোংরা রান্নাঘর মা অন্নপূর্ণা এবং রাহু-কেতুর দশায় প্রভাব ফেলতে পারে। রান্নাঘর পরিষ্কার রাখলে এবং কোনও পাত্রে জল ভরে রাখলে ঘরে ধন-ধান্যের অভাব হয় না এবং শান্তি বজায় থাকে। প্রতি রাতে এঁটো বাসন ধুয়ে রান্নাঘর পরিষ্কার করে ঘুমোতে যান। পাশাপাশি, রান্নাঘরে অন্তত একটি পাত্রে পরিষ্কার জল ভরে রাখুন।
কপূর্র ব্যবহার
নেতিবাচক শক্তি দূর করতে কর্পূরের ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকরী। এটি ঘরের সমস্ত নেতিবাচক শক্তি নষ্ট করে দেয়। ফলে মানসিক চাপ কমে, ভাল ঘুম হয় এবং পিতৃদোষ ও দেবদোষ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় যা ভাগ্যোদয়ে সাহায্য করে। রাতে ঘুমোনোর ঠিক আগে শোওয়ার ঘরে একটি ছোট পাত্রে সামান্য কর্পূর জ্বালিয়ে নিন। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে ঘরে হালকা কোনও প্রাকৃতিক সুগন্ধি বা ধূপ ব্যবহার করতে পারেন।
হাত-পা ধুয়ে ঘুমোনো
সারা দিনের ক্লান্তি এবং বাইরের নেতিবাচক প্রভাব দূর করতে শরীর এবং মনের পরিচ্ছন্নতা জরুরি। জ্যোতিষমতে, পরিষ্কার শরীরে ঘুমোলে এবং ঈশ্বর স্মরণ করলে নেতিবাচক স্বপ্ন আসে না। এর ফলে কুণ্ডলীতে চন্দ্র এবং বুধের অবস্থান মজবুত হয়, যা ভাগ্যকে চমকাতে সাহায্য করে। কখনও নোংরা পায়ে বা ভেজা পায়ে ঘুমোতে যাবেন না। ঘুমোনোর আগে হাত-পা ভাল করে ধুয়ে-মুছে নিন। তার পর বিছানায় বসে অন্তত দু’মিনিট নিজের ইষ্টদেবতা বা ঈশ্বরকে স্মরণ করুন এবং সারা দিনের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে কৃতজ্ঞতা জানান।