বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, সন্তানের শোয়ার বা পড়ার ঘরের পরিবেশ তাদের মানসিক বিকাশ, মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং ইতিবাচক চিন্তাভাবনাকে গভীর ভাবে প্রভাবিত করে। সন্তানের ঘর বাস্তু মেনে সঠিক ভাবে সাজালে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে সন্তানের জীবনে। কী কী জিনিস দিয়ে পরিবারের খুদে সদস্যের ঘর সাজানো শুভ তা নিয়ে বিস্তারে আলোচনা করা হল—
- পড়ার টেবিলটি এমন ভাবে রাখুন যেন পড়ার সময় সন্তান পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে বসে। পূর্ব দিক জ্ঞানের এবং উত্তর দিক উন্নতি ও বুদ্ধির প্রতীক। এই দিকে মুখ করে পড়লে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।
- উত্তর-পূর্ব অর্থাৎ ঈশান কোণে অথবা পড়ার টেবিলের সামনে মা সরস্বতী বা গণেশের মূর্তি বা ছবি রাখতে পারেন। দেবী সরস্বতী জ্ঞান ও বিদ্যা এবং গণেশ বুদ্ধি ও প্রগতির দেবতা। তাঁদের উপস্থিতি ঘরের পরিবেশ শান্ত রাখে এবং সন্তানের মধ্যে শেখার আগ্রহ বাড়ায়।
আরও পড়ুন:
- পড়ার টেবিল, বইয়ের ভিতর অথবা ঘরের উত্তর-পূর্ব কোণে ময়ূরের পালক রাখা শুভ বলে মনে করা হয়। বাস্তুমতে, ময়ূরের পালক ঘরের নেতিবাচক শক্তি দূর করে। এটি সন্তানের একাগ্রতা বাড়াতে এবং পড়াশোনায় মন বসাতে সাহায্য করে।
- ঘরের উত্তর-পূর্ব বা পূর্ব দিকে একটি ক্রিস্টাল বল রাখা বাস্তুমতে শুভ বলে গণ্য করা হয়। ক্রিস্টাল বল ঘরে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার করে। দিনে অন্তত এক বার এটি ঘোরানো হলে তা ঘরের নেতিবাচক শক্তি শুষে নেয় এবং মানসিক স্পষ্টতা বাড়ায়।
- ঘরের পূর্ব দিকের দেওয়ালে উদীয়মান সূর্যের ছবি টাঙিয়ে রাখুন। উদীয়মান সূর্য নতুন আশা, তেজ, উৎসাহ এবং সাফল্যের প্রতীক। এটি সন্তানের অলসতা দূর করে এবং উদ্যম জোগায়।
- ঘরের পূর্ব বা উত্তর-পূর্ব কোণে ছোট ইন্ডোর প্ল্যান্ট রাখতে পারেন। গাছ ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ইতিবাচক ও প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করে। তবে, ক্যাকটাসের মতো কোনও কাঁটাযুক্ত গাছ সন্তানের ঘরে রাখা উচিত নয়।
- পড়ার টেবিলের উত্তর-পূর্ব বা উত্তর দিকে গ্লোব রাখা শুভ বলে মনে করা হয়। গ্লোব নিয়মিত ঘোরালে তা পড়াশোনায় আগ্রহ তৈরি করে এবং সন্তানের জ্ঞানের পরিধি ও সাধারণ জ্ঞান বাড়াতে সাহায্য করে।
- ঘুমোনোর সময় সন্তানের মাথা যেন পূর্ব বা দক্ষিণ দিকে থাকে, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এর ফলে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে না।
আরও পড়ুন:
- ঘরের দেওয়ালে হালকা নীল, সবুজ, হলুদ বা হালকা গোলাপির মতো হালকা এবং উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার করুন। গাঢ় রং এড়িয়ে চলাই ভাল।
- পড়ার টেবিলে অপ্রয়োজনীয় বই বা জিনিসপত্র জমতে দেবেন না। এটি সন্তানের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।