বাস্তুশাস্ত্রে রান্নাঘরকে কেবল খাবার তৈরির স্থান হিসাবে দেখা হয় না। বাস্তুমতে রান্নাঘর হল পরিবারের শান্তি এবং আর্থিক সমৃদ্ধির মূল কেন্দ্র। আবার সনাতন ধর্মমতে, রান্নাঘরকে দেবী অন্নপূর্ণার বাসস্থান মনে করা হয় এবং বাড়ির শক্তিঘর বলেও গণ্য করা হয়। রান্নাঘর মূলত অগ্নি উপাদানের প্রতিনিধিত্ব করে। সঠিক স্থানে রান্নাঘর থাকলে ঘরের নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং ইতিবাচক শক্তির প্রবৃত্তি ঘটে।
রান্নাঘর যদি বাস্তুসম্মত হয়, তবে ঘরে কখনও অন্নের অভাব হয় না এবং অযথা অর্থ অপচয় বন্ধ হয়। রান্নার সময় কোন দিকে মুখ রেখে গৃহিণী, গৃহকর্তা, পরিবারের অন্য কোনও সদস্য অথবা রাঁধুনি রান্নাবান্না করছেন, তার উপর পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি নির্ভর করে। ভুল দিকে মুখ রেখে রান্না করলেই হিতে বিপরীত হতে পারে। রান্না করার শুভ এবং অশুভ দিক নিয়ে বিস্তারে আলোচনা করা হল—
আরও পড়ুন:
- বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, রান্নার সময় পূর্ব দিকে মুখ করে থাকা সবচেয়ে শুভ বলে মনে করা হয়। পূর্ব দিক হল উদীয়মান সূর্যের দিক। বাস্তুমতে সকালে পূর্ব দিকে মুখ রেখে রান্না করলে গৃহে সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায় এবং শান্তি বজায় থাকে। ঘরে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
- বাস্তুমতে দক্ষিণ দিকে মুখ রেখে রান্না করা অত্যন্ত অশুভ মনে করা হয়। দক্ষিণ দিককে যমদেব বা নেতিবাচক শক্তির দিক ধরা হয়। এই দিকে মুখ করে রান্না করলে পরিবারে অর্থনৈতিক অনটন দেখা দেয় এমনকি পরিবারের কোনও সদস্যের ঋণগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
- পশ্চিম দিকে মুখ রেখে রান্না করাকে শুভ বলে মনে করা হয় না। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, এই দিকে মুখ করে রান্না করলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে পারে এবং মেজাজ খিটখিটে হয়ে যেতে পারে।
- উত্তর দিককে বলা হয় কুবেরের দিক বা অর্থের দিক। এই দিকে মুখ রেখে রান্না করলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। ব্যবসা বা কর্মক্ষেত্রে ক্ষতি হতে পারে এবং অনাবশ্যক অর্থব্যয় বাড়ে।
- রান্নাঘরটি বাড়ির অগ্নি কোণে অর্থাৎ দক্ষিণ-পূর্ব দিকে হওয়া সবচেয়ে ভাল। যদি দক্ষিণ-পূর্ব কোণে তৈরি করা সম্ভব না হয়, তবে উত্তর-পশ্চিম দিক অর্থাৎ বায়ু কোণে রাখা যেতে পারে।
- রান্নাঘরের উত্তর-পূর্ব দিক অর্থাৎ ঈশান কোণে জলের সিঙ্ক রাখা শুভ। রান্নার গ্যাস এবং সিঙ্ক যেন একদম পাশাপাশি না থাকে সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে।