বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, ঘরের পরিবেশের উপর ছবির গভীর প্রভাব পড়ে। রাহু এবং কেতুর মতো ছায়া গ্রহ দু’টিকে অশুভ বলে গণ্য করা হয়। পরিবারে এই দুই গ্রহের কুদৃষ্টি পড়লে তা মানসিক অশান্তি, পারিবারিক কলহ, হতাশা এবং কাজে বাধা নিয়ে আসতে পারে। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, ঘরের দেওয়ালে কিছু বিশেষ ধরনের ছবি টাঙালে রাহু-কেতুর কুনজর বা নেতিবাচক শক্তি বাড়ে বলে মনে করা হয়। কোন কোন ছবি দেওয়ালে লাগানো অশুভ তা নিয়ে বিস্তারে আলোচনা করা হল—
যুদ্ধের ছবি
মহাভারত বা অন্য কোনও যুদ্ধের দৃশ্য, তলোয়ার, বন্দুক বা হিংসাত্মক ছবি থাকলে ঘরে রাহু-কেতুর প্রভাব বাড়ে এবং পারিবারিক অশান্তি দেখা দেয়।
আরও পড়ুন:
হতাশার ছবি
কাঁদো কাঁদো মুখ, দুঃখী বা একাকী কোনও ব্যক্তির ছবি অথবা হাত বাড়িয়ে থাকা কোনও দুঃস্থ মানুষের ছবি দেওয়ালে ঝুলিয়ে রাখলে ঘরে নেতিবাচকতার জন্ম নেয়।
ভুল স্থানে পূর্বপুরুষদের ছবি
পূর্বপুরুষদের ছবি শ্রদ্ধেয় হলেও তা শোয়ার ঘর বা ঠাকুরঘরে রাখা উচিত নয়। ঘরের উত্তর বা পূর্ব দেওয়ালে পূর্বপুরুষদের ছবি টাঙালে রাহুর অশুভ দৃষ্টি পড়তে পারে। বাস্তুর সঠিক নিয়ম মেনে পূর্বপুরুষদের ছবি শুধুমাত্র ঘরের দক্ষিণ দেওয়ালে লাগানো উচিত।
পশুপাখির ছবি
বাঘ, সিংহ, শকুন বা বাজের মতো শিকারি পাখি অথবা সাপের ছবি রাহু এবং কেতুর নেতিবাচক শক্তিকে আকর্ষণ করে। এর ফলে পরিবারের সদস্যদের মনে উগ্রতা তৈরি হয়।
ধ্বংসের ছবি
ডুবন্ত জাহাজ, ভাঙা বাড়ি বা প্রাসাদ, শুকনো গাছ বা পাতাহীন বৃক্ষের ছবি ঘরে নৈরাশ্য আনে এবং রাহু ও শনির কুদৃষ্টি বাড়ায়।
ঝড়ের ছবি
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, জলোচ্ছ্বাস বা তীব্র ঝড়ের ছবি মনের স্থিরতা নষ্ট করে এবং রাহুর অশুভ প্রভাবে পরিবারে অপ্রত্যাশিত বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
ঘরকে ইতিবাচক ও শান্ত রাখার জন্য উদীয়মান সূর্য, সবুজ প্রকৃতি, পরিচ্ছন্ন নদী বা পরিবারের হাসিখুশি ছবি ঘরের উত্তর বা পূর্ব দেওয়ালে টাঙানো সবচেয়ে শুভ বলে মনে করা হয়।