Advertisement
E-Paper

কী ভাবে বিদেশে পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছিলেন? আরটিআই করে তদন্তের দাবি উঠতেই নথি-সহ জবাব দিলেন দীপকে

রবিবার সিজেপি-র তহবিল সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন দীপকে। তিনি বলেন, “সিজেপি আগামী দিনে সাধারণ মানুষের কাছে অর্থসাহায্যের জন্য (ক্রাউডফান্ডিং) আর্জি জানাবে।”

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ অগস্ট ২০২৬ ১৩:২৪
সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। —ফাইল চিত্র।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন, তা অভিজিৎ দীপকের পরিবার জুগিয়েছিল কী ভাবে? এই প্রশ্ন তুলে তথ্য জানার অধিকার আইন বা আরটিআই অ্যাক্টে তদন্তের দাবি তুলেছিলেন সুরতের সমাজসৈনিক অমিত তিওয়ারি। এ বার সেই প্রশ্নের জবাব দিলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। নিজের বক্তব্যের সপক্ষে নথিও প্রকাশ করেছেন তিনি।

সাংবাদিক বরখা দত্তকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দীপকে জানান, তিনি আমেরিকার বস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বৃত্তি (স্কলারশিপ) পেয়েছিলেন। বাকি খরচ জোগাড় করতে তিনি শিক্ষা ঋণ বা এডুকেশন লোন নেন। সেই ঋণের টাকা তিনি এখন শোধ করছেন বলেও জানিয়েছেন দীপকে। তাঁর কথায়, “বস্টন বিশ্ববিদ্যালয় আমায় বৃত্তি দিয়েছিল। তা ছাড়াও আমি কিছু পরিমাণ শিক্ষা ঋণ নিয়েছিলাম। সেগুলি এখন আমি শোধ করছি।” তার পরেই বস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া বৃত্তির নথি দেখান তিনি।

গত ১ অগস্ট আরটিআই কর্মী অমিত প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, দীপকের বাবা কী ভাবে নিজের পুত্রের বিদেশে পড়াশোনার খরচ জোগালেন? দীপকের বাবা ভগবানরাও দীপকে মহারাষ্ট্র শিল্পোন্নয়ন নিগমে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কর্মরত ছিলেন। অমিতের প্রশ্ন ছিল যে, ওই চাকরির জন্য মাসে ৬০-৬৫ হাজার টাকা বেতন পাওয়ার পর কী ভাবে পুত্রকে বিদেশে পাঠালেন ভগবানরাও? এই সূত্রেই দীপকের বাবার বিষয়-আশয় নিয়ে তদন্ত দাবি করেন তিনি। এর পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় জিএসটি কর্তৃপক্ষের কাছে সিজেপি-র নথিভুক্তিকরণ সংক্রান্ত বিষয় এবং তহবিল নিয়ে অনুসন্ধান করার দাবি জানান তিনি।

রবিবার সিজেপি-র তহবিল সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন দীপকে। তিনি বলেন, “সিজেপি আগামী দিনে সাধারণ মানুষের কাছে অর্থসাহায্যের জন্য (ক্রাউডফান্ডিং) আর্জি জানাবে।” এই বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। যন্তর মন্তরের ছাত্রবিক্ষোভের প্রসঙ্গ তুলে দীপকে-র সংযোজন, সেই সময় সাধারণ মানুষই তাঁদের সাহায্য করেছিলেন।

দিল্লির যন্তর মন্তরের সমাবেশ এবং গত ২০ জুলাই সংসদ অভিযানে শামিল হওয়া বহু আন্দোলনকারীর উপর এফআইআর দায়ের হয়েছিল। আইনি লড়াই লড়ার জন্য সিজেপি-কে এক কোটি টাকা অর্থসাহায্য করেছিলেন আইনজীবী কপিল সিব্বল। বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। সিজেপি নথিভুক্ত রাজনৈতিক দল কি না এবং সিব্বল এই ভাবে তাদের অর্থসাহায্য করতে পারেন কি না, প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হন ওই আরটিআই কর্মী। তিনি বলেন, বহু মানুষ খাবার, জলের বোতল দিয়ে সাহায্য করেছেন। দিল্লি পুলিশের কয়েক জন আমাদের কাছে এসে বলেছেন, আমরা তোমাদের জলের বোতল দেব। কিন্তু আমাদের পরিচয় প্রকাশ্যে এনো না।”

ওই আরটিআই কর্মী অমিতকে নিশানা করেছে সিজেপি। তাদের অন্যতম মুখপাত্র বৈষ্ণবী গৌর বলেন, “যাঁরা একজন ব্যক্তির (দীপকে) বিরুদ্ধে আরটিআই করে যাচ্ছেন, তাঁদের পিএম কেয়ার্স ফান্ডের বিষয়টিও দেখা উচিত। মোদীজি (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী) আপনাদের ক্ষমা করে দেবেন। ভয় পাবেন না।”

সংক্ষেপে
  • দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠক করার পর সিজেপি জানায়, তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার পরেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তাদের আবেদন, এত দিন যে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলছিল, তা তুলে নিন।
  • ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের চাপে ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিল সিজেপি।
  • ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এই ‘জয়ের’ কৃতিত্ব পুরোটাই দেশের পড়ুয়া এবং যুব সমাজকে দিচ্ছে সিজেপি। কয়েক দিনের এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ দীপকে। শত ‘চাপে’ অনড় ছিলেন দাবিতে। সেই দাবি পূরণ হতেই বাঁধভাঙা আনন্দে ফেটে পড়েন তিনি।
CJP Cockroach Janta Party Abhijeet Dipke RTI

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy