Advertisement
E-Paper

ককরোচ-কর্মসূচি শুরুর আগেই যন্তর মন্তর ঘিরে ৪ কিমি পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ! সুপ্রিম কোর্টের ‘হাতুড়ি’ নিয়েও বৈঠকে পুলিশ

শনিবার দিল্লি জুড়ে থাকবে কড়া নিরাপত্তা। সূত্রের খবর, তার রূপরেখা তৈরি করতে শুক্রবার বিকেলে বৈঠকে বসে পুলিশ। সেখানে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করা নিয়েও কথাবার্তা হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:৩৯
ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে যখন যন্তর মন্তরে আন্দোলন করেছিল সিজেপি।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে যখন যন্তর মন্তরে আন্দোলন করেছিল সিজেপি। — ফাইল চিত্র।

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র কর্মসূচির দিনে দিল্লিতে বহু পথঘাট, মেট্রো, ট্রেন বন্ধ করা হয়েছিল আগেই। তা সচল করতে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তার পরে আন্দোলনস্থল যন্তর মন্তরের চার পাশে চার কিলোমিটার পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিল দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে সেই পরিষেবা। তাতে সম্মতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। শনিবার দিল্লি জুড়ে থাকবে কড়া নিরাপত্তা। সূত্রের খবর, তার রূপরেখা তৈরি করছে শুক্রবার বিকেলে বৈঠকে বসে পুলিশ। সেখানে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করা নিয়েও কথাবার্তা হয়েছে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা চেয়ে শনিবার দিল্লিতে কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি এবং দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠন। তার আগের দিন, শুক্রবার দিল্লি পুলিশের তরফে নির্দেশিকা দিয়ে জানানো হয়েছে, যন্তর মন্তরের চার পাশে চার কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টা ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হবে। সেই নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে এয়ারটেল, ভোডাফোন, জিও, এমটিএনএলের মতো টেলিকম সংস্থাগুলিকে। ২০২৩ সালের টেলিকমিউনিকেশন আইন অনুসারে সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার দিল্লিতে ট্রেন, মেট্রো চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় পুলিশ। তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। শুক্রবার সেই মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য, ‘‘মাছি মারতে কেউ হাতুড়ি চালায় না!’’ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, শহরের এক প্রান্ত থেকে মানুষজন অন্য প্রান্তে যাতায়াত করেন। তাঁদের কথাও ভাবতে হবে। যাত্রীদের প্রাথমিক পরিষেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য সেই সুবিধা থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা যায় না। শনিবার মেট্রো, ট্রেন পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে ভাবনাচিন্তা করতে বলেছে তারা।

তার পরেই শুক্রবার বিকেলে বৈঠকে বসে দিল্লি পুলিশ। সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নিয়ে আলোচনা হয় সেই বৈঠকে। সেই সঙ্গে রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন করার বিষয়েও কথাবার্তা হয়েছে বলে খবর। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দিল্লিতে ২০ হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হবে। যন্তর মন্তর-সহ সারা শহরে থাকবে ৩০০-র বেশি সিসি ক্যামেরা। যন্তর মন্তর, তার আশপাশের দেড় কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকাকে স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে খবর। সেখানে মোতায়েন থাকবেন সাড়ে ছয় হাজার পুলিশকর্মী। প্রতিবাদের প্রত্যেক মুহূর্ত নজরবন্দি করতে ভিডিয়োগ্রাফার, চিত্রগ্রাহক রাখছে পুলিশ। সূত্রের খবর, পুলিশের বিরুদ্ধে যাতে আন্দোলনকারীরা আঙুল তুলতে না পারেন, তাই এই ব্যবস্থা। এর আগে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চেয়ে সিজেপি যখন আন্দোলন করেছিল, তখন পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন আন্দোলনকারীদের একাংশ। এ বার সেই নিয়েই সচেতন দিল্লি পুলিশ।

শনিবার দিল্লিগামী বহু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। দিল্লির সব মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার নির্দেশও দেয় পুলিশ। সেই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে নতুন করে বিবেচনা করা হবে বলে খবর। তবে বন্ধ রাখা হচ্ছে কনট প্লেস, ভগীরথ প্যালেস, চাঁদনি চকের বাজার।

এই কড়াকড়ি নিয়ে মুখ খুলেছেন এনডিএর শরিক লোকজনশক্তি পার্টি (রামবিলাস)-র সাংসদ চিরাগ পাসোয়ান। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে তিনি জানিয়েছেন, এ সব করে দেশের যুবসমাজকে আটকানো যাবে না। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথায়, ‘‘এঁরা ভারতের যুবসমাজ। তাঁদের কেউ আটকাতে পারবে না। যারা ভুল বার্তা ছড়াচ্ছে, জিজ্ঞেস করছি, কত ট্রেন বন্ধ করা যাবে? কত রাস্তা বন্ধ করা যাবে?’’

সংক্ষেপে
  • দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠক করার পর সিজেপি জানায়, তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার পরেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তাদের আবেদন, এত দিন যে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলছিল, তা তুলে নিন।
  • ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের চাপে ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিল সিজেপি।
  • ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এই ‘জয়ের’ কৃতিত্ব পুরোটাই দেশের পড়ুয়া এবং যুব সমাজকে দিচ্ছে সিজেপি। কয়েক দিনের এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ দীপকে। শত ‘চাপে’ অনড় ছিলেন দাবিতে। সেই দাবি পূরণ হতেই বাঁধভাঙা আনন্দে ফেটে পড়েন তিনি।

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy