সংসদের বাদল অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি হয়ে গিয়েছে প্রায় দু’সপ্তাহ আগে। কিন্তু প্রথা মেনে অধিবেশন শেষের বিজ্ঞপ্তি জারি এখনও হয়নি! ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার সরকার তলে তলে বিশেষ অধিবেশন ডেকে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের বিল পাস করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। এই আবহে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন কংগ্রেসের সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে।
খড়্গে বৃহস্পতিবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে চিঠি লিখে জানতে চেয়েছেন, লোকসভার সীমানা পুনর্বিন্যাস ও আসনবৃদ্ধি সংক্রান্ত বিলগুলি পাস করার জন্য সরকার সংসদের বিশেষ অধিবেশন আয়োজনের কোনও পরিকল্পনা করেছে কি না। রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা দাবি, তিনি এমন প্রশ্ন করছেন কারণ কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু বুধবার রাতে একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে প্রকাশ্যে বলেছেন যে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হতে পারে। চিঠিতে খড়্গের মন্তব্য, “সম্ভবত এটিই বাদল অধিবেশন মুলতবি করার বিজ্ঞপ্তি জারির ক্ষেত্রে বিলম্বের কারণ।”
কয়েক দিন আগে কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছিল, অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি হওয়ার ১০ দিন পরেও লোকসভা কেন মুলতুবি করা হয়নি। প্রশ্ন তুলেছিল— কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এখনও কি ‘দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সন্ধানে’ রয়েছেন, যাতে বিশেষ অধিবেশনে সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিলটি পাস করানো যায়?’’ বিরোধীদের অভিযোগ, মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিলকে শিখণ্ডী করে আসলে লোকসভার আসন বাড়াতে সক্রিয় হয়েছে বিজেপি। দক্ষিণ ভারতের দলগুলির দাবি মেনে মোদী-শাহেরা রাজ্যগুলির আসনসংখ্যার আনুপাতিক বৃদ্ধিতে সমতা আনলেও, সংখ্যার হিসাবে উত্তর ও মধ্য ভারতের হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলির আসন বাড়বে বেশি। ফলে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে বিজেপি।
৫৪৩ আসনের লোকসভায় বর্তমানে তিনটি আসন খালি রয়েছে। যে কোনও সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় পাশ করানোর জন্য মোট ভোটদানকারী সাংসদদের দুই-তৃতীয়াংশের (৬৬.৬৭ শতাংশ) সমর্থন প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ, সব সাংসদ ভোটাভুটিতে অংশ নিলে ৩৬০ জনের সমর্থন পেতে হবে সরকারপক্ষকে। প্রসঙ্গত, গত ১৭ এপ্রিল মোদী সরকার লোকসভার আসন বাড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণের জন্য সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল পাশ করাতে ব্যর্থ হয়েছিল, দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা না থাকায়। সে সময় উপস্থিত ৫২৮ জনের মধ্যে ৩৫২টি ভোট দরকার ছিল বিল পাশ করাতে। সরকার পেয়েছিল ২৯৮টি। এর পরে তৃণমূল থেকে বেরনো ২০ জন এবং উদ্ধবের শিবসেনা থেকে বেরোনো ৬ জনকে নিলে এনডিএ-র পক্ষে ৩২৪ জন রয়েছেন। ডিএমকে-র ২২ জন সরকারের পক্ষে ভোট দিলে এনডিএ-র ভোট ৩৪৬ হবে।
এ ছাড়া শরদ পওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি (এসপি)-র ৮ লোকসভা সাংসদের সমর্থনও যেতে পারে সরকারের দিকে। সম্প্রতি শরদ-কন্যা তথা এনসিপি (এসপি)-র লোকসভা সাংসদ সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের কন্যা রেবতী সুলের বিয়ে হয়েছে নাগপুরের শিল্পপতি ও রাজনীতিবিদ অরুণ লাখানির পুত্র সারাং লাখানির সঙ্গে। কিছুদিন আগেই অরুণ বিজেপির সমর্থনে মহারাষ্ট্রের বিধান পরিষদের সদস্য হয়েছেন। অর্থাৎ, ‘হিসাব’ ঠিকমতো মিললে ৩৫২-য় পৌঁছে যাওয়া কঠিন নয় এনডিএর পক্ষে। সে ক্ষেত্রে মাত্র ৮টি ভোট প্রয়োজন হবে মোদী-শাহদের। ইতিমধ্যেই সুখবীর বাদলের শিরোমণি অকালি দলের সঙ্গে পঞ্জাবে জোট-আলোচনা শুরু হয়েছে বিজেপির। সুখবীরের স্ত্রী হরসিমরত লোকসভার সাংসদ। এমডিএমকে, অকালি দল (পিডি), এবং জম্মু ও কাশ্মীর আওয়ামি ইত্তেহাদ পার্টির ১ জন করে সাংসদের সমর্থন পেলে লক্ষ্যের আরও কাছে পৌঁছে যাবেন মোদী শাহেরা।