Advertisement
E-Paper

‘অবশ্যই শুনব’! ককরোচদের মিছিলে ‘পুলিশি জুলুম’ নিয়ে মামলা শুনতে রাজি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের সামনে সংসদ অভিযানে পুলিশের ‘অতিসক্রিয়তার’ বিষয়টি তোলেন আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ। তিনি জানান, বিক্ষোভকারীদের ‘মারধরের’ ঘটনায় দু’টি মামলা দাখিল করা হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬ ১৭:৪৮
Supreme Court agrees to hear petitions against police action on student protesters

নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে বিক্ষোভ। ছবি: পিটিআই।

‘ককরোচ জনতা’ দলের (সিজেপি) সংসদ অভিযানে ‘পুলিশি জুলুম’-এর অভিযোগ তুলে দায়ের হওয়া মামলা শুনতে রাজি সুপ্রিম কোর্ট। শুধু সংসদ অভিযান নয়, তার পরে ধারাবাহিক ভাবে নিট-কেলেঙ্কারি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হওয়া বিক্ষোভে পুলিশের ‘অত্যাচারের’ কথাও উল্লেখ রয়েছে আবেদনে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আগামী সোমবার মামলাগুলি শোনা হবে। পরে একটি কর্মসূচিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, তাঁর মন্তব্য ‘ভুল ভাবে উদ্ধৃত’ করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের সামনে সংসদ অভিযানে পুলিশের ‘অতিসক্রিয়তার’ বিষয়টি তোলেন আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ। তিনি জানান, বিক্ষোভকারীদের ‘মারধরের’ ঘটনায় দু’টি মামলা আনুষ্ঠানিক ভাবে দাখিল করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে মামলাগুলির শুনানির আর্জিও জানানো হয়। লাইভ ল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইনজীবী শঙ্করনারায়ণ বলেন, ‘‘সারা দেশে ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে হিংসার ঘটনা ঘটছে। সেই সংক্রান্ত দু’টি আবেদন আগেই করা হয়েছিল। কিন্তু ডায়েরি নম্বরের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এখন আমরা ডায়েরি নম্বর পেয়েছি। আবেদনে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিকেও পক্ষ করা হয়েছে।’’

কেন জরুরি ভিত্তিতে শুনানি চান, তার ব্যাখ্যাও করেছেন ওই আইনজীবী। বেঞ্চের সামনে তিনি বলেন, ‘‘প্রতি দিন এমন ঘটনা ঘটছে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের উপর অবাধেই বলপ্রয়োগ করছে। এখানে কিছু নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন। আমাদের এবং পুলিশের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে আদালত।’’ তার পরেই প্রধান বিচারপতি জানান, বিষয়টি তালিকাভুক্ত করা হোক। বিবেচনা করে দেখা হবে। ওই আইনজীবী আবার জরুরি শুনানির কথা বলেন। তখন প্রধান বিচারপতি মামলাগুলি সোমবার শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেন।

দিন দুয়েক আগে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের সামনেই সংসদ অভিযানে পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন এক আইনজীবী। চিঠি দিয়ে আবেদন গ্রহণের উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রধান বিচারপতি সেই আবেদন গ্রহণ করতে চাননি। শুধু তা-ই নয়, সংসদ অভিযানের সময়কার কিছু ভিডিয়ো আইনজীবী দেখাতে চাইলেও প্রধান বিচারপতি তা দেখতে চাননি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল। প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, ‘‘ভিডিয়ো দেখার সময় নেই। আমাদের সময় নষ্ট করবেন না।’’ যদিও একই দিনে দিল্লি হাই কোর্টে একই বিষয় উল্লেখ করে দায়ের করা মামলায় পুলিশের জবাব তলব করেছেন বিচারপতি।

এই প্রসঙ্গেই শুক্রবার প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘সমাজমাধ্যমে আমার মন্তব্য ভুল ভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে। যাঁরা ন্যায়বিচার চান, তাঁদের জন্য সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে নিয়ম মেনে আসতে হবে।’’

অন্য দিকে, বিচারপ্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট কিছু অংশ সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে অপপ্রচার করা এবং আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ তুলে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, এতে বিচারব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ জানায়, আদালত কোনও ২৪ ঘণ্টার বিনোদনের চ্যানেল নয়। তাই নির্বিচারে সওয়াল-জবাবের প্রক্রিয়ার ভিডিয়ো তুলে তা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া যাবে না। কোনও অডিয়ো বা ভিডিয়ো পোস্ট করার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি নিতে হবে।

সংক্ষেপে
  • দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠক করার পর সিজেপি জানায়, তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার পরেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তাদের আবেদন, এত দিন যে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলছিল, তা তুলে নিন।
  • ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের চাপে ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিল সিজেপি।
  • ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এই ‘জয়ের’ কৃতিত্ব পুরোটাই দেশের পড়ুয়া এবং যুব সমাজকে দিচ্ছে সিজেপি। কয়েক দিনের এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ দীপকে। শত ‘চাপে’ অনড় ছিলেন দাবিতে। সেই দাবি পূরণ হতেই বাঁধভাঙা আনন্দে ফেটে পড়েন তিনি।
Supreme Court CJI Surya Kant

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy