Advertisement
E-Paper

টাইগার শ্রফের উপর হামলার ‘দায়স্বীকার’ বিশ্নোই গ্যাংয়ের! কায়দা একই: স্ক্রিনশট ছড়ানো, কেন অস্তিত্ব রাখে না লিঙ্কের?

টাইগারের উপর হামলার পর ‘অনিল পণ্ডিত অনমোল বিশ্নোই’ নামে এক সমাজমাধ্যম হ্যান্ডলের স্ক্রিনশট প্রকাশ্যে আসে। ওই পোস্টেই বিশ্নোই গ্যাং হামলার ‘দায়স্বীকার’ করে। কিন্তু ওই মূল পোস্টটির, এমনকি হ্যান্ডলটিরও আর কোনও অস্তিত্ব নেই সমাজমাধ্যমে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১১
(বাঁ দিকে) আক্রান্ত হওয়ার পর টাইগার শ্রফ। গ্যাংস্টার লরেন্স বিশ্নোই (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) আক্রান্ত হওয়ার পর টাইগার শ্রফ। গ্যাংস্টার লরেন্স বিশ্নোই (ডান দিকে)। ছবি: পিটিআই।

দু’বছর আগে সলমন খানের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠতার কারণে’ খুন হন বাবা সিদ্দিকী। হামলার পর পরই সমাজমাধ্যমে দায়স্বীকার করেছিল লরেন্স বিশ্নোইয়ের গ্যাং। এ বার বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের উপর হামলাতেও উঠে এল সেই একই দুষ্কৃতীদলের যোগ। এ বারও সমাজমাধ্যম পোস্টে হামলার ‘দায়স্বীকার’ করল বিশ্নোই গ্যাং। তার স্ক্রিনশটও ছড়িয়ে পড়ল সমাজমাধ্যমে। যদিও হামলার নেপথ্যে বিশ্নোই গ্যাংই রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত ভাবে জানায়নি পুলিশ। অভিনেতার উপর হামলার ঘটনায় সোমবার সকালে রাজস্থান থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধরা হয়েছে এক নাবালককেও।

তবে জেলবন্দি গ্যাংস্টার লরেন্সের দুষ্কৃতীদলের এ ভাবে ‘দায়স্বীকারের’ প্রবণতা নতুন নয়। দু’বছর আগে সলমনের বাড়ির সামনে গুলি চলার ঘটনা হোক বা চলতি বছরের শুরুতে পরিচালক রোহিত শেট্টীর বাড়ির সামনে গুলি চলা— অতীতে বিভিন্ন সময়ে একই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। একই ভাবে সমাজমাধ্যম ব্যবহার করে ঘটনার দায় স্বীকার করেছে তারা। প্রায় সব ক্ষেত্রেই সেই দায়স্বীকারের বার্তা ছড়ানো হয়েছে স্ক্রিনশটের মাধ্যমে।

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে, পুলিশের হাতে ধরা পড়া এড়াতে চাইলে এ ভাবে দায়স্বীকার করা হয় কেন? আর সেগুলি স্ক্রিনশটের মাধ্যমেই বা কেন ছড়ানো হয়? প্রকাশ্যে এমন দাবি তদন্তে নতুন সূত্রের জোগান দিতে পারে। আবার সেই একই প্রকাশ্য দাবি সাধারণ মানুষের মনে ভয়ও ধরাতে পারে। কোনও বৃহত্তর গোষ্ঠীর উপর তার ছাপ ফেলতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিশ্নোই গ্যাংয়েরও সেই একই লক্ষ্য বলে মনে করেন অনেকে।

সমাজমাধ্যমে দায়স্বীকার করার আরও একটি উদ্দেশ্য হল— নিজেদের ‘ক্ষমতা’ জাহির করা। যেমন রোহিতের বাড়ির সামনে গুলি চলার পরে বিশ্নোই গ্যাং বলেছিল, পরিচালক যেন তাদের বিষয় থেকে দূরে থাকেন। এই বার্তা শুধু রোহিতের উদ্দেশে ছিল না, বাকিদেরও সতর্ক করে দিয়েছিল লরেন্সের কুখ্যাত দুষ্কৃতীদল। টাইগারের ক্ষেত্রেও তা-ই। তাঁর গায়ে গুলি লাগেনি ঠিকই, তবে তাঁর গাড়িচালক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বারুদের গুঁড়ো এবং ভাঙা কাচে আহত হয়েছেন তিনি। এই ঘটনা মুম্বইয়ের চলচ্চিত্র জগৎকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে।

তবে এ বারও ‘দায়স্বীকারের’ মূল পোস্ট উবে গিয়েছে সমাজমাধ্যম থেকে। ঘুরে বেড়াচ্ছে কিছু স্ক্রিনশট। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুহুতে টাইগারের উপরে হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই ‘অনিল পণ্ডিত অনমোল বিশ্নোই’ নামে এক সমাজমাধ্যম হ্যান্ডলের স্ক্রিনশট প্রকাশ্যে আসে। ওই পোস্টের মাধ্যমেই বিশ্নোই গ্যাং হামলার ‘দায়স্বীকার’ করে। কিন্তু ওই মূল পোস্টটির, এমনকি হ্যান্ডলটিরও আর কোনও অস্তিত্ব রাখা হয়নি সমাজমাধ্যমে। মুছে ফেলা হয়েছে সে সব। পরে একটি অডিয়ো ক্লিপও ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। নিজেকে অনিল পণ্ডিত বলে দাবি করা ওই অডিয়ো ক্লিপেও এক ব্যক্তি হামলার ‘দায়স্বীকার’ করেন।

পুলিশ এখনও নিশ্চিত ভাবে কিছু না-বললেও প্রাথমিক ভাবে তদন্তকারীদের দাবি, দায়স্বীকারের ওই পোস্টটি বিশ্নোই গ্যাংই করেছে। কারণ, এই একই কায়দায় অতীতেও হামলার দায় স্বীকার করেছে তারা। মূলত তদন্তকারীদের হাত থেকে বাঁচতেই স্ক্রিনশটকে ঢাল করে লরেন্সের দুষ্কৃতীদল। মুম্বই পুলিশ সূত্রে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানাচ্ছে, আগে যখন বিশ্নোই গ্যাং দায়স্বীকার করে সমাজমাধ্যমে কোনও পোস্ট করত, সেটির আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করে পুলিশ বুঝে যেতে পারত, কে মূল পোস্টটি কে করেছেন, কোথা থেকে তা আপলোড করা হয়েছে। বিশ্নোই গ্যাংয়ের যে সদস্য পোস্ট করেছেন, তিনি কোথায় রয়েছেন, তা-ও বুঝে যেতে পারত পুলিশ।

পুলিশের ওই আধিকারিক ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে বলেন, “এই কারণেই ওরা নিজেদের কাজের ধরন বদলে ফেলে। এখন ওরা একটা করে আইডি তৈরি করে। দায় স্বীকার করে সেখান থেকে পোস্ট করে। তার পরে সেটির স্ক্রিনশট নিয়ে অ্যাকাউন্টটি ডিলিট করে দেয়। শেষে বেনামি কোনও হ্যান্ডল থেকে সেই স্ক্রিনশট সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।” এর ফলে মূল পোস্টটি কোথা থেকে করা হয়েছে, তা নিয়ে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার সুযোগ পেয়ে যায় বিশ্নোই গ্যাং। ওই আধিকারিকের কথায়, “এর ফলে এখন হামলার দায় স্বীকার করলেও, পরে তা অস্বীকার করার সুযোগ পেয়ে যায় দুষ্কৃতীদল। স্ক্রিনশট শেয়ার হওয়ার ফলে সেটির ইউআরএল-ও খুঁজে পাওয়া যায় না। ফলে প্রমাণ্য নথি হিসেবে এটির বিশেষ গুরুত্ব থাকে না।”

Tiger Shroff Larence Bishnoi

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy