দিনের বেলা যতই রোদ থাকুক, ভোরের দিকে বা রাতে খোলা হাওয়ায় শিরশিরানি টের পাওয়া যাচ্ছে। দুর্গাপুজো শেষ হয়েছে। সময় এ বার ধীরে ধীরে এগোচ্ছে শীতের দিকে। ইতিমধ্যেই ত্বকে শুষ্ক ভাব দেখা দিতে শুরু করেছে।
এমন মরসুমে কী ভাবে ত্বকের যত্ন নিলে, কালীপুজোর আগেই ফিরবে ত্বকের জেল্লা, টানটান ত্বকে থাকবে যথাযথ আর্দ্রতা?
ক্লিনজ়িং, ময়েশ্চরাইজ়িং: দিনের শেষে ক্লিনজ়িং জরুরি। দরকারে বদলে ফেলুন ফেসওয়াশ। এই সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কমতে থাকায়, শুষ্ক ত্বকের উপযোগী ক্রিম বেস্ড ক্লিনজ়ার বেছে নিন।
সারা বছর ব্যবহার করা ময়েশ্চারাইজ়ারও বদলে ফেলার সঠিক সময় এটাই। বিশেষত, ত্বকের ধরন শুষ্ক হলে সেরামাইড, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, সিয়া বাটার যুক্ত ময়েশ্চারইজ়ার বেছে নিন।
ধোঁয়া-দূষণ, সূর্যালোক থেকে ত্বককে বাঁচানো জরুরি: রোদে বার হলে তো অবশ্যই, ঘরে থাকলেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। সানস্ক্রিন সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগনি রশ্মি থেকে ত্বককে বাঁচায়। শীত আসার আগে থেকেই বাতাসে ধূলিকণা বাড়তে থাকে। তার উপর আতসবাজি পোড়ানো হলে দূষণের মাত্রা আরও বাড়ে। তাই মুখ পরিষ্কার রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে ক্লিনজ়িং জরুরি।
এক্সফোলিয়েশন: শুধু ক্লিনজ়িং নয়, মাঝেমধ্যে এক্সফোলিয়েশনও জরুরি। ত্বকে জমে থাকা মৃত কোষ না সরালে ত্বকে তেল-ময়লা জমে সংক্রমণ হতে পারে।
ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রসাধনী বাছাই: ত্বক যদি মিশ্র বা স্পর্শকাতর হয়, নায়াসিনামাইড বেছে নিন। আবার ব্রণ দেখা দিল স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা বেঞ্জল পারঅক্সাইড ভাল। তবে নতুন কোনও প্রসাধনী বা সিরাম ব্যবহার করতে হলে প্যাচ টেস্ট জরুরি। মুখের একটি অংশে সিরাম লাগিয়ে রাখুন। ২ ঘণ্টা পরেও ত্বকে জ্বালা, চুলকানি না হলে সেটি মাখুন।
ঠোঁট, পায়ের পাতা, হাত: শুধু মুখ নয়, পরিচর্যা প্রয়োজন ঠোঁট, পা এবং হাতেরও। এই মরসুমে ঠোঁট, পায়ের পাতা, গোড়ালি ফাটতে থাকে। বিশেষত অযত্ন হলেই ত্বক খসখসে হয়ে যেতে পারে। স্ক্রাব করার পরে ঠোঁটে লিপবাম মাখুন। সপ্তাহে ২ দিন ঈষদুষ্ণ জলে পা ডুবিয়ে রাখুন। ঝামা দিয়ে ঘষে পায়ের পাতা পরিষ্কার করে পেট্রোলিয়াম জেলি মাখুন। বডি লোশন মাখুন গায়ে এবং হাতে।
আর্দ্রতা জরুরি: ত্বকের জেল্লা বজায় রাখতে হলে আর্দ্রতা জরুরি। শুধু ক্রিম মাখলেই হল না, পর্যাপ্ত জল খাওয়া প্রয়োজন। ত্বকের জেল্লা বৃদ্ধিতে , আর্দ্রতার জোগানে সাহায্য করে ফল। খাদ্যতালিকায় নানা রকম ফল রাখুন। পাশাপাশি, ত্বকের উপযোগী ময়েশ্চারাইজ়ার, সিরাম মাখাও জরুরি।