কালীপুজো হোক বা ভাইফোঁটা অথবা জগদ্ধাত্রী পুজো, উৎসব এখনও শেষ হয়নি। তার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে নতুন পোশাকও। রয়েছে নতুন শাড়ি ও কেতাদুরস্ত ব্লাউজ়ও। কিন্তু দুর্গাপুজোয় পিঠকাটা ব্লাউজ় পরতে গিয়ে টের পেয়েছেন, পিঠের ত্বকের অবস্থা ভাল নয়। তার আগে নজরেও আসেনি। সারাবছর চোখে পড়ে না, মনেও আসে না। পিঠের ত্বক তাই উপেক্ষিত হতেই থাকে। ফলে পিঠকাটা ব্লাউজ় বা ড্রেস পরার পরে পিঠের ব্রণ নিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয় অনেককেই।
পুরুষদেরও এই সমস্যা দেখা দেয়। ছবি: সংগৃহীত
পিঠে ব্রণ কেন হয়?
পিঠের ত্বক বছরের বেশির ভাগ সময়েই পোশাকে ঢাকা থাকে। ফলে সেখানে ঘাম জমে থাকা অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে, সিন্থেটিক কাপড়ের ব্লাউজ়, প্যাডেড ব্লাউজ়, আঁটোসাঁটো অন্তর্বাস বা শারীরচর্চার পোশাক দীর্ঘক্ষণ পরে থাকলে ত্বকে ঘাম ও আর্দ্রতা আটকে যায়। এর ফলে রোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ দেখা দিতে পারে। আবার ব্যাগের বেল্ট বা ভারী কাজের ব্লাউজ়ের ঘষা লেগেও পিঠে ব্রণ হতে পারে। এই ধরনের সমস্যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘অ্যাকনে মেকানিকা’। অনেক সময় ব্রণের দাগ দেখা যায় ঠিক অন্তর্বাসের স্ট্র্যাপের আশপাশেই। পিঠে ব্রণ হওয়ার পিছনে এমন কিছু কারণ রয়েছে, যা সহজে চোখে পড়ে না। যেমন, চুলে কন্ডিশনার লাগিয়ে ধোয়ার সময়ে সেই উপাদান পিঠ বেয়ে নেমে আসে। একই ভাবে রাতে চুলে তেল মেখে খোলা চুল নিয়ে ঘুমোলেও তেলের অবশিষ্টাংশ ত্বকের সংস্পর্শে আসতে পারে। তবে, পিঠে ছোট ছোট দানা উঠলেই সেটিকে ব্রণ ভেবে নেওয়া ঠিক নয়। দানাগুলি যদি প্রায় একই রকমের আকারের হয়, খুব চুলকায়, তা হলে তা ছত্রাকজনিত ফলিকিউলাইটিসও হতে পারে। কিন্তু সাধারণ ব্রণের ক্রিমে এই সমস্যা কমে না। অথবা স্ক্রাবার দিয়ে পিঠ ঘষলে উল্টে বেড়ে যেতে পারে। তাই পিঠে ফুস্কুড়ির মতো কিছু দেখা গেলে নিজে থেকে ব্রণের ওষুধ বা স্টেরয়েড মেশানো ক্রিম ব্যবহার করবেন না। চর্মরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি এমন ক্ষেত্রে।
কী ভাবে মুক্তি মিলবে?
· পিঠের ব্রণ কমাতে বেনজ়য়েল পারঅক্সাইডযুক্ত বডি ওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে তা লাগিয়েই ধুয়ে ফেললে খুব একটা লাভ হবে না। ফেনা তৈরি করে ২-৩ মিনিট রেখে তার পরে ধুয়ে ফেলতে হয়। এই উপাদান কাপড়ের রং নষ্ট করতে পারে, তাই ব্যবহারের পরে সাদা তোয়ালে ব্যবহার করা ভাল। রোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে স্যালিসিলিক অ্যাসিডযুক্ত বডি ওয়াশ বা স্প্রেও কাজে আসতে পারে। শেষে কোনও হালকা ময়েশ্চারাইজ়ার মেখে নেওয়া যেতে পারে।
আরও পড়ুন:
· ঘাম হওয়ার পরে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্নান করে নেওয়া দরকার।
· নিয়মিত বালিশের কভার বদলানো উচিত।
· ভারী কাজের ব্লাউজ়ের ভিতরে নরম সুতির আস্তরণ ব্যবহার করা ভাল।
· পিঠখোলা পোশাক পরলে সেই অংশে সানস্ক্রিন লাগাতে ভুলবেন না। রোদের দাপটে পিঠের পুরনো ব্রণের দাগ আরও গাঢ় হয়ে যেতে পারে।