শিশুর ত্বক খুবই সংবেদনশীল। আবহাওয়র বদলে ছোটদের ত্বকে প্রভাব পড়ে সবচেয়ে বেশি। শীতের আগে ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায়। অনেকের আবার ত্বকে র্যাশ বেরিয়ে যায়। চুলকানিও হয়। তাই আগে থেকেই ত্বকের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সব সময়ে শিশুদের স্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা দরকার। তাদের ত্বকের পরিচর্যাও যথার্থ নিয়মেই হওয়া প্রয়োজন।
শীতের আগে শিশুর ত্বকের যত্ন নেওয়ার কিছু টিপ্স
তেল দিয়ে পরিচর্যা
শিশুদের ত্বক খুব সংবেদনশীল হয়। তাই সব রকম তেল বা ক্রিম মাখানো নিরাপদ নয়। অনেক অভিভাবক সন্তানের জন্যও নিজেদের ব্যবহার করার তেল-ক্রিমই বরাদ্দ করেন। অন্তত ১০ বছর বয়স পর্যন্ত তার ত্বকের যত্ন নিন বেবি প্রোডাক্টেই। প্রতি দিন স্নানের আগে শিশুর ত্বকে ভাল করে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল মালিশ করুন। তার পর শিশুকে কিছু ক্ষণ রোদে রাখুন। এতে ত্বক ভিটামিন ডি পাবে। তার পর স্নান করান শিশুকে।
দুধ ঘন করে জ্বাল দিয়ে উপরের সর তুলে নিতে হবে। এই সর পরিষ্কার পাত্রে রাখবেন। এ বার একটি পাত্রে সেই মালাই নিয়ে ভাল করে ফেটিয়ে নিতে হবে। তাতে এক এক করে মিশিয়ে দিতে হবে নারকেল তেল, আমন্ড অয়েল, অলিভ অয়েল। এই মিশ্রণটি রোজ স্নানের আগে মাখাতে হবে। এটি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজ়ারের মতো কাজ করবে।
আরও পড়ুন:
সানস্ক্রিন
ছোটদেরও সানস্ক্রিন লাগানো জরুরি। ছোটরা বাইরে বেশিক্ষণ খেলাধুলো করলে সান ট্যান, সান বার্ন, অ্যালার্জির মতো সমস্যা দেখা যায়। এতে গালে সাদা ছোপ ছোপ দাগ তৈরি হয়। বাইরে বেরোলে সানস্ক্রিন তাই আবশ্যিক। ছোটদের ক্ষেত্রে এসপিএফ ২০ বা ৩০ হলেই যথেষ্ট।
ছোটদের ফেসপ্যাক
নিম আর দইয়ের প্যাক
নিমে আছে ভিটামিন ই, ফ্যাটি অ্যাসিড। এর অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল এবং অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণ ত্বকের যে কোনও সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে। দই খুব ভাল প্রোবায়োটিক। এক চামচ নিমপাতা বাটার সঙ্গে ২ চা চামচ দই মিশিয়ে মাখালে শিশুর ত্বক ভাল থাকবে। ফুস্কুড়ি বা র্যাশের সমস্যা হবে না।
ছোটদেরও প্রয়োজন ক্লিনজ়ার
স্কুল থেকে ফিরলে বা বাইরে থেকে খেলে এলে মুখ ও হাত ধোয়ার প্রয়োজন হয়। সে জন্য এমন ক্লিনজ়ার ব্যবহার করুন, যা শিশুর কোমল ত্বক পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি আর্দ্রতাও ধরে রাখবে। তবে বাজারচলতি ক্লিনজ়ার না চাইলে, ঘরে ওট্সের মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। দুধের সঙ্গে দু’কাপ ওট্সের গুঁড়ো মিশিয়ে তাতে ১ চা চামচ মধু দিয়ে প্যাক তৈরি করুন। স্নানের আগে মুখে ও সারা গায়ে এই প্যাক লাগিয়ে মিনিট পনেরো অপেক্ষা করে স্নান করিয়ে দিন।