Advertisement
E-Paper

মুক্তোর গুঁড়ো থেকে ছত্রাকের রস, প্রাচীন চিনে কী ভাবে রূপচর্চা করতেন রানিরা, সে সব পদ্ধতি এখন কেমন?

প্রাচীন চিনে রূপচর্চার উপকরণ নেওয়া হত প্রকৃতি থেকেই। পদ্ম বীজের নির্যাস, চাল ধোয়া জল থেকে সাদা মাশরুম, ত্বকের পরিচর্যা হত নানা ভাবে। সেই সঙ্গেই আকুপাংচার থেরাপিরও চল হয়, বর্তমান সময়ে ত্বকের চিকিৎসায় যার প্রয়োগ হয় নানা ভাবে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ অগস্ট ২০২৬ ১০:০৫
From Gua Sha, Snow Fungus to Bojin Therapy, the Ancient Chinese Path to Ageless Beauty

যৌবন ধরে রাখতে কী মাখতেন রানিরা, বর্তমান সময়ে সে সব পদ্ধতি কেমন? ফাইল চিত্র।

মিশরের রানিদের রূপচর্চার কিছু কৌশল ছিল অদ্ভুত। শোনা যায়, রানি ক্লিওপেট্রা নাকি গাধার দুধে স্নান করতেন। যদিও সে সবের সত্যতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে চিনে রূপচর্চার কৌশল ছিল ভিন্ন। রানি বা রাজপরিবারের সদস্যেরা ভেষজ উপাদানেই ত্বকের পরিচর্যা করতে পছন্দ করতেন। পদ্মের বীজ থেকে ছত্রাকের রস— রূপচর্চায় ব্যবহার করা হত প্রাকৃতিক উপাদানই। বর্তমান সময়েও সে সব পদ্ধতি ব্যবহারের চল রয়েছে, তবে তাতে নানা বদল এসেছে। নামও বদলেছে।

গুয়া শা হয়েছে জ়েড রোলার

গুয়া শা হয়েছে জ়েড রোলার

গুয়া শা হয়েছে জ়েড রোলার

প্রাচীন চিনে (বিশেষ করে সপ্তম শতাব্দীতে) রাজপ্রাসাদের রানি ও রাজকুমারীদের নিত্যদিনের রূপচর্চার অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল ‘গুয়া শা’। একটি বিশেষ রকম থেরাপি যা প্রয়োগ করে যৌবন ধরে রাখতেন রানিরা। বর্তমান সময়ে এরই উন্নত রূপ হল জ়েড রোলার। দু’টি ভিন্ন আকারের জ়েড পাথর লাগানো থাকে তাতে। মুখের বিভিন্ন প্রেসার পয়েন্টে চাপ দিয়ে মাসাজ করা হয়। এতে মুখের রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, ঝুলে যাওয়া চামড়া টানটান হয়। বলিরেখা দূর করতে এবং মুখ ও গলা থেকে বার্ধক্যের ছাপ মুছে ফেলতে এই থেরাপি করান অনেকেই।

পার্ল পাউডার

পার্ল পাউডার দিয়ে রূপচর্চা হয় এখনও

পার্ল পাউডার দিয়ে রূপচর্চা হয় এখনও

চিনের রানিদের উজ্জ্বল ও দাগছোপহীন কাচের মতো ত্বকের রহস্য ছিল মুক্তোর গুঁড়ো। এমনই শোনা যায়। মুক্তোর গুঁড়োর সঙ্গে ডিমের সাদা অংশ, মধু ও আরও নানা উপাদান মিশিয়ে মুখে মাখা হত বা পানীয়ের সঙ্গে সেবন করা হত। বর্তমান সময়েও অবশ্য রূপচর্চায় মুক্তোর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। মুক্তোকে মিহি গুঁড়ো করে বানানো হয় পার্ল পাউডার যা দিয়ে পার্ল ফেশিয়াল করা হয়।

স্নো ফাঙ্গাস

স্নো ফাঙ্গাস দিয়েও হয় ত্বকের পরিচর্যা

স্নো ফাঙ্গাস দিয়েও হয় ত্বকের পরিচর্যা

ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য স্নো ফাঙ্গাস বা বিশেষ এক ধরনের সাদা মাশরুম দিয়ে ত্বকের পরিচর্যা করার চল রয়েছে চিনে। তারা মনে করে, এই মাশরুমের নির্যাস প্রাকৃতিক হায়ালুরোনিক অ্যাসিড হিসাবে কাজ করে। এটি ত্বককে আর্দ্র ও সতেজ রাখে এবং ত্বক দেখতে হয় স্বচ্ছ কাচের মতো। বর্তমান সময়ে যৌবন ধরে রাখার অ্যান্টি-এজিং থেরাপিতে এর প্রয়োগ হয় নানা ভাবে। এই ছত্রাক শরীরের জন্যও ভাল বলে দাবি করা হয়। স্যুপ বা চায়ে মিশিয়েও এটি খাওয়া হয়।

বোজিন থেরাপি

বোজিন থেরাপি

বোজিন থেরাপি

আকুপাংচার এবং আকুপ্রেসারের মতো একটি থেরাপি। প্রাচীন চিনে মোষের সিং বা পাথর দিয়ে থেরাপি করা হত। এখন আকুপাংচার স্টিক ব্যবহার করা হয়। মুখের বিভিন্ন প্রেসার পয়েন্টে চাপ দিয়ে এই থেরাপি করা হয়। চিনা ভাষায় ‘আকু’ শব্দের অর্থ সুচ, ‘পাংচার’ হল ফোটানো বা বিঁধিয়ে দেওয়া। শরীরের নির্দিষ্ট কিছু বিন্দু বা এনার্জি পয়েন্টে সুচ গেঁথে রোগ নিরাময়ের চেষ্টা করা হয়। এই পদ্ধতিই হল আকুপাংচার। প্রাচীন চৈনিক মত অনুযায়ী, আকুপাংচার করলে শরীরে ‘চি’ বা জীবনী শক্তি প্রবাহিত হয়। এই শক্তিপ্রবাহই রোগগ্রস্ত শরীরকে সুস্থ করে, ত্বকের জেল্লা ফিরিয়ে আনে। চিনে সং রাজবংশের আমলে (৯৬০-১২৭৯ খ্রিস্টাব্দ) রাজবধূরা তাঁদের সৌন্দর্য অক্ষয় রাখতে সারা মুখে ও শরীরে শলাকা বিদ্ধ করে চিকিৎসা করাতেন। এতে তাঁদের শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ত, বার্ধক্যের ছাপ পড়ত না।

চাল ধোয়া জল

চাল ধোয়া জল দিয়ে রূপচর্চা

চাল ধোয়া জল দিয়ে রূপচর্চা

চাল ভেজানো জল দিয়ে রূপচর্চা চিনে অতি প্রাচীন। বর্তমান সময়ে এরই নাম ‘রাইস ওয়াটার থেরাপি’। চালের জলে নানা প্রকার ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে যা ত্বকের দাগছোপ দূর করে, ত্বকের কোষকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলে। কাচের মতো ত্বক বা ‘গ্লাস স্কিন’ পেতে এখন এই পদ্ধতির জনপ্রিয়তা বেড়েছে।

পদ্মের বীজ

পদ্মের বীজের থেরাপি

পদ্মের বীজের থেরাপি

শুকনো পদ্ম বীজের মিহি গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য মধু, কাঁচা দুধ অথবা চাল ধোয়া জল মিশিয়ে তার প্রলেপ দেওয়া হত সারা শরীরে। মনে করা হত, এতেই ত্বকের যৌবন টিকে থাকবে বহুদিন।পদ্মের বীজে এমন কিছু উৎসেচক ও ভিটামিন আছে, যা ত্বকের কোলাজেন প্রোটিন তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। বর্তমান সময়েও পদ্মের বীজের নির্যাস থেকে ত্বকের থেরাপি করা হয়।

লাল খেজুরের চা

ত্বক ভাল রাখতে ও শরীর ডিটক্স করতে লাল খেজুর ও গজ়ি বেরির চা খাওয়ার চল রয়েছ চিনে। এগুলিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন সি, আয়রন ও ক্যালশিয়াম থাকে যা ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। এই পানীয় পান করলে, ত্বক ভিতর থেকে সতেজ হয়, গালে গোলাপি আভা আসে।

Skin Care Tips Acupuncture Beauty Hacks Anti Ageing

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy