Advertisement
E-Paper

বর্ষায় কেন বাড়ে এগ্‌জ়িমা? জ্বালা-চুলকানিতে নাজেহাল দশা, কী ভাবে যত্ন নেবেন ত্বকের?

বর্ষার সময়ে স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ত্বকে র‌্যাশ, ছত্রাকের সংক্রমণ হয় অনেকের। এগ্‌জ়িম বা সোরিয়াসিসের মতো চর্মরোগ থাকলে, তার প্রকোপ বাড়ে। এই সময়ে ত্বকের যত্ন নিতে হবে বিশেষ উপায়ে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ ১৭:২১
বর্ষায় বাড়ে এগ্‌জ়িমা, ত্বকের যত্ন কী ভাবে নিলে জ্বালা-চুলকানি কমবে?

বর্ষায় বাড়ে এগ্‌জ়িমা, ত্বকের যত্ন কী ভাবে নিলে জ্বালা-চুলকানি কমবে? ছবি: ফ্রিপিক।

এগ্‌জ়িমা সারা বছর ধরেই ভোগায়। তবে বর্ষার সময়ে এর প্রকোপ আরও বাড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় এর নাম ‘অ্যাটপিক ডার্মাটাইটিস’। ত্বক শুষ্ক হয়ে ফেটে যাওয়া, চুলকানি, খসখসে হয়ে যাওয়া, ফোস্কা পড়া এগ্‌জ়িমার অন্যতম লক্ষণ। সোরিয়াসিসের সমস্যা যাঁদের আছে, তাঁদের ত্বকও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে এই সময়ে। শুষ্ক ত্বকের সমস্যা দূর করতে ও চর্মরোগ থেকে বাঁচতে, ত্বকের যত্ন নিতে হবে বিশেষ উপায়ে।

বর্ষায় কেন বাড়ে এগ্‌জ়িমা?

বর্ষায় বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে। এই সময়ে ঘাম বেশি হয় অনেকের। ঘাম জমে ত্বকের রোমকূপ বন্ধ হয়ে সেখানে মৃতকোষ জমে চর্মরোগ হয়। তা ছাড়া স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে কয়েক রকম প্রজাতির ছত্রাক ও ব্যাক্টেরিয়ার দ্রুত বংশবিস্তার ঘটে। এই জীবাণু সংক্রমণের কারণেও এগ্‌জ়িমার সমস্যা আরও বেড়ে যায়।

বর্ষার দিনে ঠিকমতো না শুকোনো জামাকাপড় পরলে ত্বকে অ্যালার্জি ও র‌্যাশের সমস্যা বাড়ে। তা থেকেও চর্মরোগ হতে দেখা যায়। সাবান, শ্যাম্পু, ডিটারজেন্ট, রাসায়নিক দেওয়া প্রসাধনী থেকেও বিপদ বাড়ে। আবার অ্যালার্জির কারণে অথবা বিশেষ কোনও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এমন হতে পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব চলাকালীন হরমোনের মাত্রা ওঠানামায় এগ্‌জ়িমার লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

এগ্‌জ়িমার নানা প্রকার লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন, হাত ও মাথার তালুতে র‌্যাশ। হাঁটু, কনুই, ঘাড়, গলায় র‌্যাশ হতে দেখা যায়। চামড়া খসখসে এবং পুরু হয়ে যায়। সেখানে জ্বালা ও চুলকানি হতে থাকে।

কী ভাবে যত্ন নেবেন ত্বকের?

অ্যালো ভেরা জেল

চুলকানি ও প্রদাহ কমাতে উপযোগী হতে পারে অ্যালো ভেরা জেল। আক্রান্ত জায়গাগুলিতে ভাল করে মালিশ করতে হবে। সপ্তাহে তিন বার করলেই উপকার পাওয়া যাবে। তবে ত্বক বেশি স্পর্শকাতর হলে অ্যালো ভেরা ব্যবহারের আগে এক বার চিকিৎসকের থেকে জেনে নেওয়া ভাল।

ওট্‌স ও দুধের প্যাক

এক কাপের একটু কম হালকা গরম দুধ নিন। তাতে মেশান অর্ধেক কাপ ওট্‌স। মিশ্রণটা ঠান্ডা হলে ক্লেনজ়ার হিসাবে মুখে ও ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। এতে ত্বকের প্রদাহ কমবে। ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে এর সঙ্গে একটু মধু মিশিয়ে নিতে পারেন।

নারকেল তেল ও অলিভ অয়েল

১ চামচ নারকেল তেল ও ১ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। স্নানের ঠিক পর পরই সামান্য ভেজা ত্বকে ভাল ভাবে মালিশ করে নিন। এটি ত্বকের প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজ়ার হিসেবে কাজ করবে এবং জ্বালা-চুলকানি কমাবে।

টি ট্রি তেল ও নারকেল তেল

দেশের ‘ফার্মাকোলজি অ্যান্ড ফিজ়িয়োলজি’ জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, টি ট্রি অয়েলে আছে ‘টারপিনেন-৪-ওএল’ নামক একটি উপাদান যা প্রদাহ কমাতে পারে। ত্বকে ক্ষত বা এগ্‌জ়িমা, সোরিয়াসিসের সংক্রমণ হলে যে জ্বালা-যন্ত্রণা হয়, তা কমাতে পারবে টি ট্রি অয়েল। এক চামচ নারকেল তেলের সঙ্গে ২-৩ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে ত্বকে মাখলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

মধু ও দই

এক চামচ মধুর সঙ্গে এক চামচ দই মিশিয়ে শুষ্ক, খসখসে ত্বকে মালিশ করুন। ১০ মিনিট অপেক্ষা করে পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিন। এতে র‌্যাশ, চুলকানির সমস্যা অনেক কমে যাবে।

eczema Skin Disease Monsoon Care

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy