নিজেই নিজের সাবান বানান। ফেসপ্যাক, ফেসস্ক্রাব, বডি স্ক্রাব, সবই নিজের হাতে তৈরি করেন তিনি। দোকান থেকে কেনা, বাজারচলতি কোনও পণ্য গায়ে ছোঁয়ান না অভিনেত্রী তথা বিজেপি নেত্রী খুশবু সুন্দর। তাই তাঁর কাছে মিলবে ঘরোয়া টোটকার বাহারি সম্ভার। সম্প্রতি তার এক ঝলক প্রকাশ করলেন অনুরাগীদের জন্য।
দামি প্রসাধনী নয়, বরং বাড়িতে থাকা পরিচিত উপকরণ দিয়েই ত্বকের যত্ন নিতে ভালবাসেন ৫৬ বছরের খুশবু। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, নিজের হাতে বডি ও ফেস স্ক্রাব, সাবান এবং ফেসপ্যাক তৈরি করেন তিনি। তাঁর ঘরোয়া রূপচর্চার তালিকায় রয়েছে আলু, বিট, গাজর, কমলালেবু ও কলার খোসা। উদাহরণ হিসেবে খুশবু জানালেন, কখনও কমলালেবুর খোসা ফুটিয়ে তাতে কর্নস্টার্চ, মধু, দই মিশিয়ে ত্বকে মাখেন, অথবা আলুর থেকে স্টার্চ বার করে তার সঙ্গে অলিভ অয়েল, আমন্ড অয়েল বা চাল ধোয়া জল মিশিয়ে ব্যবহার করেন। এটাকে মাস্ক হিসেবে মুখে মাখেন খুশবু। কোনও দিন আবার চালের গুঁড়ো, বা বেঁচে যাওয়া ভাতের সঙ্গে টক দই, অ্যালো ভেরা জেল ও মধু দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে ফেসমাস্ক হিসেবেও ব্যবহার করেন তিনি।
অভিনেত্রী তথা বিজেপি নেত্রীর ঘরোয়া রূপচর্চা ছবি: সংগৃহীত
খুশবুর মতো কোনও তারকার রূপচর্চার অভ্যাস দেখে কৌতূহল তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু একজনের ত্বকে যে উপকরণ মানিয়ে যাচ্ছে, অন্যের ত্বকেও তা একই ভাবে কাজ করবে, এমন নয়। ত্বকের ধরন এবং আগে থেকে থাকা সমস্যার কথা মাথায় রেখেই রূপচর্চার রুটিন তৈরি করা উচিত। ব্রণ, পিগমেন্টেশন বা ত্বকে জ্বালা ভাব দীর্ঘদিন থাকলে ঘরোয়া টোটকার বদলে চর্মরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আরও পড়ুন:
ফল ও সব্জির খোসায় অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট-সহ নানা ধরনের উদ্ভিজ্জ উপাদান এবং অ্যাসিড থাকে। এগুলির মধ্যে কিছু উপাদান ত্বকের যত্নে ভাল কাজ করে। কিন্তু কাঁচা ফলের খোসা সরাসরি মুখে ঘষলেই যে ত্বকের জেল্লা বাড়বে, দাগছোপ কমবে বা বয়সের ছাপ মুছে যাবে, এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ফল বা সব্জির খোসায় বিভিন্ন উপাদানের পরিমাণ নির্দিষ্ট থাকে না। ফলের ধরন, তা কতখানি পরিপক্ব এবং তার সংরক্ষণের পদ্ধতির উপরেও বিষয়টি নির্ভর করতে পারে। ফলে প্রাকৃতিক উপাদান হলেই তা ত্বকের জন্য নিরাপদ বা কার্যকর হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। তাই প্রয়োগ করার আগে কনুইয়ে অল্প করে মেখে দেখে নিতে হবে, ত্বকে তা কোনও অসুবিধা সৃষ্টি করছে কি না।