বুড়ো হতে কেউই চান না। যৌবন ধরে রাখার অদম্য বাসনাতেই মেতেছে বিশ্ব। তা শুধু তারকাদের প্রয়াস নয়, সাধারণ মানুষজনও বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখার নানা থেরাপিতে ভরসা করছেন এখন। বয়স যতই বাড়ুক, ত্বকে সামান্য বলিরেখাটুকুও রাখতে চাইছেন না অনেকে। সে জন্য অ্যান্টি-এজিং থেরাপির এত পসার বাড়ছে। কেউ লেজ়ার দিয়ে বলিরেখার চিহ্ন মিটিয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ নানা রকম রিজেনারেটিভ থেরাপির দিকে ঝুঁকছেন। এর মধ্যেই চকোলেট থেরাপি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। চকোলেট এখন মুখে মাখার চলও হয়েছে। আর তা এখন বিলাসবহুল স্পা ও বিউটি ক্লিনিকগুলিতে রীতিমতো জনপ্রিয়। চকোলেটে থাকা উচ্চমাত্রার ফ্ল্যাভোনল ও পলিফেনল ত্বককে ভিতর থেকে টানটান ও তরুণ রাখতে সাহায্য করে বলেই দাবি করা হয়েছে।
চকোলেট দিয়ে কী কী থেরাপি হচ্ছে?
চকোলেট অ্যান্টি-এজিং সিগনেচার ফেশিয়াল
ত্বক ঝুলে যাওয়া এবং বলিরেখা দূর করতে এই ফেশিয়াল করাচ্ছেন অনেকে। মনে করা হয়, চকোলেট মুখে মাখলে কোলাজেনের উৎপাদন বাড়ে, এতে ত্বকের মৃত কোষ পুনরুজ্জীবিত হয়ে ওঠে। ফলে ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বেড়ে জেল্লা ফিরে আসে। এই ফেশিয়ালে ওট্মিল ও কোকো ক্লিনজ়ার দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করে এক্সফোলিয়েশন করে নেওয়া হয়। তার পর আলট্রাসনিক যন্ত্রের সাহায্যে ডার্ক চকোলেট অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সিরাম ত্বকের ভিতরে প্রবেশ করানো হয়। শেষে কোকো মাস্ক দিয়ে মালিশ করা হয়।
চকোলেট ফেশিয়াল
খরচ: পার্লার বা ক্লিনিকে এই ফেশিয়ালের প্রতি সেশনের খরচ দেড় হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকার মতো। তবে কী ধরনের ক্লিনিক বা স্পা-তে করাচ্ছেন, তার উপর খরচ নির্ভর করবে।
আরও পড়ুন:
কোকো হাইড্রেটিং বডি র্যাপ
এটি এক প্রকার ‘ডিটক্সিফিকেশন থেরাপি’। গোটা শরীরেই চকোলেটের মাস্ক লাগিয়ে দেওয়া হয়। ডার্ক চকোলেট গলিয়ে নিয়ে তার সঙ্গে এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে পুরো শরীরে লেপে দেওয়া হয়। এর পর একটি থার্মাল ফয়েল বা চাদর দিয়ে শরীর ৩০ মিনিট মুড়িয়ে রাখা হয়, যাতে চকোলেটের পুষ্টিগুণ ত্বকের ভিতর প্রবেশ করে। শেষে ঈষদুষ্ণ জলে স্নান করিয়ে দেওয়া হয়।
গোটা শরীরে চকোলেটের প্রলেপ দিয়ে থেরাপি করা হয়।
খরচ: এই থেরাপির আনুমানিক খরচ প্রতি সেশনে ৩০০০ থেকে ৬০০০ টাকা। তবে শরীরের কতটা অংশে চকোলেট র্যাপ করা হবে ও তা কতক্ষণ থাকবে, সেই অনুযায়ী খরচ নির্ভর করবে।
হোয়াইট চকোলেট অ্যান্ড রোজ ডি-ট্যান থেরাপি
রোদে পোড়া দাগছোপ, মেচেতার দাগ বা বহু পুরনো কোনও দাগ তুলতে এই থেরাপি করান অনেকেই। এটি করলে ত্বকে বলিরেখা পড়ে না বলেই দাবি করা হয়। স্পর্শকাতর ত্বকের জন্যও এই থেরাপি কার্যকর। হোয়াইট চকোলেটের নির্যাস এবং গোলাপজলের একটি হাইড্রেটিং মাস্ক তৈরি করে ত্বকে মালিশ করা হয়। এটি ত্বকের মেলানিন উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে। থেরাপিটি করার পরেই ত্বক খুব উজ্জ্বল ও মসৃণ দেখায়।
চকোলেট দিয়ে হয় ডি-ট্যান থেরাপি।
খরচ: এই থেরাপির আনুমানিক খরচ ১২০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা। তবে গোটা শরীরে ডি-ট্যান থেরাপি করাতে হলে যে কোনও বিলাসবহুল স্পা-তে প্রতি সেশনে খরচ পড়তে পারে প্রায় ৪০০০ থেকে ৫০০০ টাকা।
চকোলেট ও রেড ওয়াইন থেরাপি
তারকাদের খুবই পছন্দের চকোলেট দিয়ে ‘স্কিন গ্লো থেরাপি’
হলিউড ও বলিউডে তারকাদের খুবই পছন্দের ‘স্কিন গ্লো থেরাপি’। রেড ওয়াইনের রেসভেরাট্রল এবং চকোলেটের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট মিলে ত্বকের ক্ষত মেরামত করতে পারে। মৃত কোষ ও ত্বকে জমে থাকা টক্সিনও দূর হয় এই থেরাপিতে। এটি করালে মুখ ও গলার চামড়া কুঁচকে যায় না বলেই দাবি করা হয়। ডার্ক চকোলেট গলিয়ে তার সঙ্গে রেড ওয়াইন ও মধু মিশিয়ে ত্বকে মালিশ করা হয়। তবে বিলাসবহুল স্পা বা ক্লিনিকে এর সঙ্গে আরও নানা রকম এসেনশিয়াল অয়েলও মেশানো হয়। কেবল মাসাজ নয়, চকোলেট ও রেড ওয়াইন দিয়ে ত্বকের কিছু থেরাপিও করানো হয়।
খরচ: আনুমানিক খরচ নামী ক্লিনিকগুলিতে সেশন প্রতি ৮০০০ থেকে ১৫০০০ টাকার মতো। কী কী উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে, তার উপর ভিত্তি করে খরচ আরও বেশিও হতে পারে।