ঠোঁটের উপরে কিংবা থুতনিতে অবাঞ্ছিত লোম তোলা নিয়ে চিন্তা থাকেই। পার্লারে সে পদ্ধতি বেশ যন্ত্রণাদায়ক। সহজে রেজ়ার ব্যবহার করে লোম তোলা যাবে ঠিকই, তবে তাতে ত্বকে র্যাশ, ফুস্কুড়ির সমস্যা হতে পারে। ত্বক লাল হয়ে যেতে পারে। আবার ওয়্যাক্সিং অনেকের ত্বকেই ঠিক সহ্য হয় না। জ্বালা ভাব বাড়ে, ত্বকে ফোস্কাও পড়ে যায়। তা হলে বিকল্প উপায় কী হতে পারে? তিন পদ্ধতি রয়েছে যা দিয়ে ঘরোয়া উপায়েই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
শরীরে অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে মুখে অতিরিক্ত লোম গজাতে পারে। যাঁদের পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস থাকে অথবা হরমোনের গোলমাল বেশি হয়, তাঁদের এই সমস্যা বেশি হতে দেখা যায়। আবার বংশগত কারণেও মুখে অবাঞ্ছিত লোম গজানোর প্রবণতা থেকে যায়। কিছু নির্দিষ্ট স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এমন হতে পারে। তাই সে ক্ষেত্রে রেজ়ারের অতিরিক্ত ব্যবহার বা পার্লারে গিয়ে ঘন ঘন ওয়্যাক্সিং করালে হিতে বিপরীত হতে পারে।
মুখের লোম তোলার ঘরোয়া উপায়
ওট্মিল এবং মধুর প্যাক
কী ভাবে তৈরি করবেন: ২ চামচ ওট্সের গুঁড়ো, ১ চামচ মধু এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন।
ব্যবহারের নিয়ম: লোমযুক্ত স্থানে এই পেস্ট লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে দিন। শুকিয়ে গেলে উল্টো দিকে হালকা হাতে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। ওট্মিল ত্বকের মৃতকোষ তুলে দেয় এবং কালচে দাগছোপও উঠে যায়।
আরও পড়ুন:
ডিমের সাদা অংশের প্যাক
কী ভাবে তৈরি করবেন: একটি ডিমের সাদা অংশ, ১ চামচ চিনি এবং আধ চামচ কর্নফ্লাওয়ার ভাল করে ফেটিয়ে নিন।
ব্যবহারের নিয়ম: ঠোঁটের উপরে বা থুতনিতে এই মিশ্রণ লাগিয়ে শুকোনোর জন্য ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে পাতলা মাস্কের মতো টেনে তুলে ফেলুন। এটি প্রাকৃতিক ওয়্যাক্স হিসেবে কাজ করবে। ত্বকের ক্ষতিও হবে না। বরং ডিমের প্রোটিন ত্বকের কোলাজেন তৈরিতে সহায়ক হবে।
হলুদ এবং কাঁচা দুধের মিশ্রণ
কী ভাবে তৈরি করবেন: সমপরিমাণ কাঁচা হলুদের গুঁড়ো এবং কাঁচা দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
ব্যবহারের নিয়ম: লোমের জায়গায় লাগিয়ে বৃত্তাকারে মাসাজ করুন। শুকিয়ে গেলে হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে লোমের ঘনত্ব ও বৃদ্ধি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। দুধ যদি ব্যবহার না করেন তা হলে কাঁচা পেঁপে পেস্ট করে তার সঙ্গেও হলুদ মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।