Advertisement
E-Paper

‘ফেরিটিন ফেস’-এ ভুগছেন আপনি? রূপচর্চার জগতে নয়া শব্দবন্ধ! এর অর্থ কী, কী হয় এতে

সমাজমাধ্যমে চলছে আলোচনা। উজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার জন্য ত্বকের পরিচর্যার পাশাপাশি রক্তে ফেরিটিনের মাত্রা পরীক্ষা করার পরামর্শও দিচ্ছেন একে অপরকে। কিন্তু ‘ফেরিটিন ফেস’ আদপে কী?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:৫৮
‘ফেরিটিন ফেস’ কী?

‘ফেরিটিন ফেস’ কী? ছবি: সংগৃহীত।

‘কর্টিসল ফেস’-এর পর রূপচর্চার জগতে নয়া আবির্ভাব— ‘ফেরিটিন ফেস’। এই শব্দযুগল নিয়ে আলোচনা চলছে সমাজমাধ্যমে।

মুখ ফ্যাকাশে, ত্বক নিস্তেজ, চোখের তলায় কালি, চুল পড়া, এমন নানা সমস্যাকে কেউ কেউ শরীরে আয়রনের ঘাটতির সঙ্গে জুড়ছেন। উজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার জন্য ত্বকের পরিচর্যার পাশাপাশি রক্তে ফেরিটিনের মাত্রা পরীক্ষা করার পরামর্শও দিচ্ছেন একে অপরকে। কেউ দাবি করছেন, সাপ্লিমেন্ট নিয়ে ত্বক ভাল হয়েছে। সে না হয় ভাল কথা, কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন, ‘ফেরিটিন ফেস’ কোনও স্বীকৃত চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষা নয়। তাই একে অপরকে এই পরামর্শ দেওয়া থেকে বিরত থাকার উপদেশ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। কারণ এতে নানা ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে।

‘ফেরিটিন ফেস’ কী?

‘ফেরিটিন ফেস’ কী? ছবি: সংগৃহীত

এই ‘ফেরিটিন’ কী, ‘ফেরিটিন ফেস’ই বা কী?

ফেরিটিন হল এমন একটি প্রোটিন, যা শরীরে আয়রন সঞ্চয় করে রাখে। শরীরে কতটা আয়রন জমা রয়েছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিতে পারে রক্তে ফেরিটিনের মাত্রা। তাই শুধু চেহারা দেখে শরীরে আয়রনের ঘাটতি রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তার জন্য রক্তপরীক্ষা প্রয়োজন।

ত্বকে আয়রনের ঘাটতির প্রভাব কেমন?

তবে শরীরে আয়রনের ঘাটতি যে ত্বক, চুল ও নখের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, তার ভিত্তি চিকিৎসাবিজ্ঞানে রয়েছে। গুরুতর আয়রনের ঘাটতি, বিশেষ করে তা থেকে রক্তাল্পতা তৈরি হলে, ত্বক স্বাভাবিকের তুলনায় ফ্যাকাশে দেখাতে পারে। কারও ক্ষেত্রে ঠোঁট, নখের গোড়া বা চোখের তলার পাতার ভিতরের অংশে ফ্যাকাশে ভাব বেশি চোখে পড়তে পারে। ত্বক কিছুটা নিষ্প্রভ বা ক্লান্তও দেখাতে পারে।

তবে ‘ফেরিটিন ফেস’ নিয়ে সমাজমাধ্যমের দাবিগুলিকে একটু সাবধানে দেখা দরকার। চোখের নীচে কালি, মুখের ফোলা ভাব, ত্বকের নিস্তেজ ভাব বা ক্লান্ত চেহারার পিছনে ঘুমের অভাব, জল কম খাওয়া, মানসিক চাপ, বংশগত কারণ বা অন্য শারীরিক কারণও থাকতে পারে। নির্দিষ্ট কোনও মুখের গড়ন দেখেই ফেরিটিনের মাত্রা চিহ্নিত করা যায় না। ‘ফেরিটিন ফেস’ নিয়ে সমাজমাধ্যমে যতই আলোচনা হোক, মুখ দেখেই আয়রনের সাপ্লিমেন্ট খাওয়া শুরু করে দেওয়া ঠিক নয়। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত আয়রন শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আয়রন বা ফেরিটিনের ঘাটতি সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় রক্তপরীক্ষা করানোই সঠিক পথ।

ত্বক শরীরের ভিতরের কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে ঠিকই, কিন্তু শরীরে আয়রনের ঘাটতি আছে কি না, তার উত্তর আয়নার সামনে নয়, প্রয়োজনীয় রক্তপরীক্ষাতেই মিলবে।

Skin Care Iron

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy