দুর্গাপুজোয় কোনও দিন নিরামিষ খাওয়ার চল, কোনও দিন আমিষ। এক এক পরিবারে এক একরকম রেওয়াজ। তবে উৎসব মানেই কব্জি ডুবিয়ে খাওয়া তা আমিষ হোক বা নিরামিষ। একঘেয়ে ডাল-পোস্ত পুজোর দিনে চলে না। নিরামিষের দিন রেঁধে ফেলুন মোচার পাতুরি থেকে পটল মুগেশ্বরী। পাতে থাক লাউয়ের তিলমোহিনীও।
মোচার পাতুরি
রেঁধে নিতে পারেন মোচার পাতুরি। ছবি:সংগৃহীত।
মোচা মিহি করে কুচিয়ে নুন-হলুদ দিয়ে ভাপিয়ে জল ঝরিয়ে নিন। ছোলার ডাল ভিজিয়ে বেটে নিন। একটি পাত্রে ভাপানো মোচা, ছোলার ডাল, নারকেল কোরা, স্বাদমতো নুন, চিনি, লঙ্কার গুঁড়ো, কাঁচালঙ্কা, সর্ষের তেল, সর্ষেবাটা দিয়ে মেখে নিন। কলাপাতায় অল্প করে মোচার মিশ্রণ দিয়ে পাতুরির মতো মুড়ে নিন। কড়াইয়ে অল্প তেল দিয়ে উল্টপাল্টে মিনিট ১৫ রান্না করে নিন। গরম ভাতে দারুণ লাগবে।
লাউয়ের তিলমোহিনী
সাদা তিলবাটা দিয়ে রেঁধে নিন তিলমোহিনী। ছবি:সংগৃহীত।
কড়াইয়ে সর্ষের তেল দিয়ে শুকনো লঙ্কা, তেজপাতা, জিরে ফোড়ন দিন। যোগ করুন আদাবাটা। খানিক কষানো হলে ঝিরিঝিরি করে কাটা লাউ যোগ করুন। নুন-হলুদ দিয়ে অল্প নাড়াচাড়া করুন। যোগ করুন কয়েকটি কাঁচালঙ্কা। আঁচ কমিয়ে ঢাকা দিন। লাউ থেকে জল বেরোবে, সেই জলেই রান্না হবে। এই সময় সাদা তিল শুকনো খোলায় নাড়িয়ে, কাঁচালঙ্কা এবং জল দিয়ে মিহি করে বেটে মিশিয়ে দিন।
লাউ সেদ্ধ হয়ে এলে যোগ করুন স্বাদমতো চিনি। রান্নায় খানিক মিষ্টি স্বাদ থাকবে। তিলবাটা মিশিয়ে আরও মিনিট ৫-৭ রান্না করুন। শেষে ভাজা বড়ি ছড়িয়ে আরও ২ মিনিট রান্না করে নিন। তা হলেই তৈরি হয়ে যাবে লাউয়ের তিলমোহিনী।
পটল মুগেশ্বরী
পটল মুগেশ্বরীও রাখতে পারেন ভাতের সঙ্গে। ছবি:সংগৃহীত।
পটল এবং মুগডালই এই রান্নার উপকরণ। ভাত দিয়ে খেতেই ভাল লাগবে। পটলের খোসা খানিক রেখে ছাড়িয়ে নিন। দুই প্রান্ত আড়াআড়ি কেটে নিন। ছুরি দিয়ে লম্বালম্বি খানিকটা কেটে নিন পটলের দুই দিক। নুন-হলুদ মাখিয়ে পটল ভেজে নিন। পটল ভাজা হবে, কিন্তু বেশি নরম যেন হয়ে না যায়।
একটি কড়াইয়ে মুগডাল হালকা নাড়াচাড়া করে জলে ধুয়ে নিন। রান্নার জন্য বানিয়ে ফেলুন মশলা। ধনে, জিরে, লঙ্কা, হলুদগুঁড়ো অল্প জল দিয়ে গুলে নিন। কড়াইয়ে তেল দিন। তেল গরম হলে তেজপাতা, গোটা গরমমশলা, হিং, শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিন। যোগ করুন আদাবাটা। হালকা কষিয়ে নিয়ে মশলা দিয়ে দিন। মশলার কাঁচা গন্ধ চলে গেলে দিন ধুয়ে রাখা মুগডাল। যোগ করুন স্বাদমতো নুন। মশলার সঙ্গে কষিয়ে অল্প জল দিয়ে আঁচ কমিয়ে মুগডাল সেদ্ধ হতে দিন। ৫০ শতাংশ হয়ে এলে যোগ করুন এক বাটি দুধ। দুধেই মুগডাল সেদ্ধ হবে। ডাল সেদ্ধ হয়ে গেলে ভাজা পটল দিয়ে নাড়াচাড়া করে নিন। শেষ ধাপে যোগ করুন অল্প একটু ঘি এবং গরমমশলা।