শখ করে পাতাবাহার, ফুলের গাছ কিনে বারান্দায় রাখলেন। দিনকতক সতেজও রইল সেই গাছ। কিন্তু তার পরেই সমস্যা শুরু। প্রথমে পাতা হলদে হয়ে ঝরে পড়ল, কিছুদিনের মধ্যেই মারা গেল সেই গাছ।
গাছ যাঁরা প্রতিপালন করেন এবং ব্যবসায়িক ভাবে বিক্রি করেন, তাঁরা মনে করাচ্ছেন, গাছের জন্য শুধু যত্ন নয় উপযুক্ত পরিবেশ জরুরি। লোকে গাছ কেনেন দেখতে ভাল লাগে বলে। কিন্তু সেই গাছ বাড়ির বারান্দায় বেড়ে ওঠার উপযোগী কি না, ভাবেন না কেউ।
মাটিতে গাছ যখন বেড়ে ওঠে, সেখানে পরিবেশের যথেষ্ট প্রভাব থাকে। শিকড় মাটিতে ছড়ানোর সুযোগ পায়। কিন্তু বারান্দায় গাছ করলে টবের আকার থেকে মাটির মান, সারের পরিমাণ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। নার্সারিতে যে গাছটি হয়তো সতেজ ছিল, দেখা যায় বাড়িতে আনার পরে পরিবেশগত বদলে, সেই গাছটি আর তেমন বেড়ে উঠতে পারছে না।
বারান্দার গাছের ক্ষেত্রে সূর্যালোক খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি গাছ বেড়ে ওঠার জন্য কিছু আদর্শ পরিবেশ রয়েছে। ভুল জায়গায় গাছ লাগালে, সেই গাছ শুকিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক।
বারান্দায় রোদ: বারান্দায় বাগান করতে চাইলে, তার অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণের বারান্দায় আলো-হাওয়ায় মেলে। তবে ফ্ল্যাটের গায়েই অন্য আবাসন থাকলে রোদ আসতে অসুবিধা হতে পারে। যে বারান্দায় দিনে অন্তত ৬ ঘণ্টা রোদ আসে সেখানে জবা, গোলাপ, জুঁই, চন্দ্রমল্লিকা, বোগেনভেলিয়া-সহ বেশিরভাগ ফুলের গাছই ভাল হবে। সব্জির গাছও লাগানো যেতে পারে। কারণ, আলো-হাওয়া বেশি থাকলে গাছ সহজে বেড়ে উঠতে পারে।
আংশিক রোদ: হয়তো বারান্দায় শুধু বিকালে রোদ আসে কিংবা সকালটুকুতেই সূর্যালোক মেলে। এমন জায়গার জন্য রাবার, পিসলিলি, মানি প্ল্যান্ট, শৌখিন ফার্ন এই ধরনের পাতাবাহার গাছ বেছে নিতে পারেন।
রোদের অভাব: যে সমস্ত বারান্দায় রোদের অভাব সেখানে রাখতে পারেন স্নেক, জ়েডজ়েড প্ল্যান্ট, ব্যাম্বু পামের মতো বাহারি গাছ। কারণ এই গাছগুলি খুব কম আলোতে মানিয়ে নিতে পারে। বরং বেশি রোদে গাছের ক্ষতি হয়।