ফল তো কিনেই খাওয়া হয়। কিন্তু নিজের হাতে বড় করা গাছে যদি ফল ধরে, তখন আলাদাই আনন্দ হয়। নিজের বাড়ির গাছের ফল পেড়ে খাওয়ার আনন্দও আলাদা। চাইলেই সেই শখ পূরণ করতে পারেন। ছাদ বা বারান্দায় টবেই বড় করতে পারেন বেদানা বা ডালিম গাছ। শুধু যথেষ্ট আলো এবং হাওয়া থাকতে হবে সেই জায়গায়। নয়াদিল্লির শখের বাগানি এবং নেটপ্রভাবী অনীশ সিংহ পরামর্শ দিলেন, কী ভাবে টবেই বেদানা ফলানো যায়।
টব কেমন নেবেন?
অন্তত ১৮ থেকে ২৪ ইঞ্চি মাপের বড় টব বা ড্রাম নিলে গাছ ভাল ভাবে বাড়বে। টবের জল নিকাশি ব্যবস্থা ভাল হওয়া জরুরি।
মাটি তৈরির পন্থা
সাধারণ বাগানের মাটি, বালি এবং শুকনো গোবর সার একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। যোগ করুন একটু নিম খোল আর ভার্মিকম্পোস্ট। এতে গাছ যথাযথ পুষ্টি পাবে। মাটি যেন হালকা এবং ঝুরঝুরে হয়। তা হলে জল জমবে না। শিকড় পর্যন্ত হাওয়া চলাচল করবে।
চারা বাছাই
বীজ থেকে গাছ না বানিয়ে নার্সারি থেকে কলমের চারা (ভাগওয়া জাত) কিনে আনুন। এতে খুব তাড়াতাড়ি ফল ধরবে।
চারা বসানোর নিয়ম
টবের নিচে কিছু শুকনো পাতা বা ইটের কুচি দিয়ে তারপরে সার মিশিয়ে নেওয়া মাটি ভরুন। চারাটির গোড়ার মাটির পিণ্ড না ভেঙে সাবধানে টবের মাঝে বসিয়ে দিন। পাশে মাটি দিয়ে চেপে হালকা জল দিন।
রোদ
টবটি এমন জায়গায় রাখুন যেখানে দিনে অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা রোদ আসে। বেদানা গাছের জন্য রোদ খুব দরকারি।
জল কীভাবে দেবেন?
রোজ মেপে জল দেওয়ার দরকার নেই। টবের উপরের মাটি শুকিয়ে এলে তবেই জল দিন। বর্ষায় জল দেওয়া কমিয়ে দিন, মাটিতে জল জমলে গাছের শিকড় পচে যায়।
সার ও ডাল ছাঁটাই
মাসে একবার একটু গোবর সার ও নিম খোল টবের মাটিতে দিন। গাছের মরা, শুকনো ডাল এবং গোড়ার দিকের অপ্রয়োজনীয় ছোট ডালপালা কাঁচি দিয়ে ছেঁটে দিন। এতে গাছ আলো-বাতাস পাবে এবং ফলন ভাল হবে।
অক্টোবরে গরম বেশি থাকে না, বৃষ্টিও কমে যায়। ফলে বেদানা গাছ বসানোর জন্য এই মরসুম আদর্শ। ভাল মানের চারা কিনলে এবং গাছ সুস্থ ভাবে বেড়ে উঠলে দুই বছরের মধ্যেই প্রথম ফলন হওয়ার কথা।