Advertisement
E-Paper

শরতেই শুরু হোক বীজ বোনা, শীতে ভরে উঠবে বাড়ির বাগান, ঘরেই ফলুক টাটকা পালংশাক

শাক কেনার বদলে যদি নিজের বারান্দা বা ছাদের টবেই ফলিয়ে নিতে পারেন, মন্দ হয় কি? প্রয়োজন শুধু উপযুক্ত টব, ঝুরঝুরে মাটি, পর্যাপ্ত রোদ আর নিয়মিত জলের জোগান।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:১৬
বাড়িতে পালংশাক চাষ কী ভাবে করবেন?

বাড়িতে পালংশাক চাষ কী ভাবে করবেন? ছবি: সংগৃহীত।

আর মাসখানেক পর থেকেই বাঙালির রান্নাঘরে দাপট দেখাতে শুরু করবে শাকপাতা। তার মধ্যে অন্যতম পালংশাক। কখনও পালং পনির, কখনও শাকভাজা, আবার কখনও ডালের সঙ্গে পালং। তবে বাজার থেকে শাক কেনার বদলে যদি নিজের বারান্দা বা ছাদের টবেই তা ফলিয়ে নিতে পারেন, তা হলে কেমন হয়? বাগান করার অভিজ্ঞতা না থাকলেও খুব বেশি ঝক্কি ছাড়াই বাড়িতে পালং শাক চাষ করা যায়। প্রয়োজন শুধু উপযুক্ত টব, ঝুরঝুরে মাটি, পর্যাপ্ত রোদ আর নিয়মিত জলের জোগান।

শাক কেনার বদলে যদি নিজের বারান্দা বা ছাদের টবেই তা ফলিয়ে নিতে পারেন।

শাক কেনার বদলে যদি নিজের বারান্দা বা ছাদের টবেই তা ফলিয়ে নিতে পারেন। ছবি: সংগৃহীত

কী ভাবে ফলাবেন পালংশাক?

শরৎ ও শীতকাল এই শাক চাষের উপযুক্ত সময়। ভারতের বহু অঞ্চলে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে পালংশাকের বীজ বপন করা হয়। খুব বেশি গরম পড়লে গাছে দ্রুত ফুল ধরতে পারে এবং পাতার স্বাদ তেতো হয়ে যেতে পারে। বোনার আগে ভাল মানের বীজ সংগ্রহ করুন। পুরনো বা নিম্নমানের বীজ হলে অঙ্কুরোদ্গমের হার কম হতে পারে। সাধারণত বীজ বোনার প্রায় ৬–১০ দিনের মধ্যে চারা গজাতে শুরু করে। আবহাওয়া ও পরিচর্যার উপর নির্ভর করে বীজ বোনার প্রায় ৩৫–৪৫ দিনের মধ্যে শাক তোলা যেতে পারে।

১. টব বাছাই: বাড়িতে পালংশাক চাষ করতে বড় বাগান থাকা বাধ্যতামূলক নয়। বারান্দা বা ছাদের এক কোণেই হয়ে যাবে। এমন চওড়া টব বা গ্রো ব্যাগ বেছে নিন, যার গভীরতা অন্তত ৬–৮ ইঞ্চি। টবের নীচে জল বেরিয়ে যাওয়ার জন্য ছিদ্র থাকা জরুরি। জল জমে থাকলে শিকড় পচে যেতে পারে। জায়গা কম থাকলে চওড়া, আয়তাকার পাত্র বেছে নিতে পারেন। এতে পাশাপাশি একাধিক চারা লাগানো যায়। তবে গাছগুলিকে খুব ঘেঁষাঘেঁষি করে বসাবেন না। পর্যাপ্ত জায়গা পেলে পাতাগুলি ভাল ভাবে বাড়তে পারে।

২. মাটি প্রস্তুতি: পালংশাকের জন্য প্রয়োজন ঝুরঝুরে, উর্বর এবং জল বেরিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত ব্যবস্থা রয়েছে, এমন মাটি। সাধারণ বাগানের মাটির সঙ্গে সমপরিমাণ জৈব সার বা ভাল ভাবে পচানো কম্পোস্ট এবং কোকোপিট মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে গাছ প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারে। মাটি যেন খুব শক্ত বা জমাট না হয়ে যায়, সে দিকে খেয়াল রাখুন। অতিরিক্ত ভারী মাটিতে জল জমে থাকার আশঙ্কা থাকে। আবার মাটি খুব শুকনো থাকলেও চারার বৃদ্ধি আটকে যেতে পারে।

শাকের বাহার বাড়িতেই।

শাকের বাহার বাড়িতেই। ছবি: সংগৃহীত

৩. বীজ বপন: বোনার আগে বীজ ৮–১২ ঘণ্টা জলে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এতে কিছু ক্ষেত্রে অঙ্কুরোদ্গম দ্রুত হতে পারে। চাইলে না-ও করতে পারেন। এ বার তৈরি করা মাটিতে বীজ ছড়িয়ে দিন অথবা সারি করে পুঁতে নিন। বীজ প্রায় আধ ইঞ্চি ভিতরে রাখুন। উপর থেকে পাতলা করে মাটি বা কম্পোস্ট ছড়িয়ে দিন। তার পর স্প্রে বোতল বা সরু মুখের জল দেওয়ার পাত্র দিয়ে আলতো করে জল দিন, যাতে বীজগুলি সরে না যায়।

৪. রোদের ব্যবহার: পালংশাকের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৪–৬ ঘণ্টা রোদ দরকার। তাই বারান্দা বা ছাদের এমন জায়গায় টব রাখুন, যেখানে সকালের রোদ আসে। তবে দুপুরের চড়া রোদ থেকে গাছকে কিছুটা আড়ালে রাখা যেতে পারে।

৫. জল দেওয়া: মাটিতে নিয়মিত জল দিতে হবে, কিন্তু জল জমিয়ে রাখা চলবে না। মাটির উপরের দিক শুকিয়ে আসছে কি না, তা দেখে জল দিন। বিশেষ করে বীজ থেকে চারা গজানোর সময়ে মাটির আর্দ্রতা বজায় রাখা জরুরি। মাটি দীর্ঘক্ষণ শুকনো থাকলে গাছে দ্রুত ফুল ধরতে পারে এবং পাতার স্বাদে পরিবর্তন আসতে পারে।

৬. সার প্রয়োগ: গাছের বৃদ্ধি ভাল রাখতে প্রতি ১৫ দিন অন্তর অল্প পরিমাণে তরল জৈব সার দেওয়া যায়। তবে অতিরিক্ত সার ব্যবহার করবেন না। পাতায় পোকা বা দাগ দেখা দিলে গাছ পরীক্ষা করুন। নিমতেল ব্যবহার করতে চাইলে পণ্যের নির্দেশ মেনে উপযুক্ত মাত্রায় প্রয়োগ করুন।

পাতা প্রায় ৪–৬ ইঞ্চি লম্বা হলে শাক তোলা শুরু করতে পারেন। সাধারণত বীজ বোনার ৪-৬ সপ্তাহের মধ্যে এই পর্যায়টি আসে, যদিও আবহাওয়া ও পরিচর্যার কারণে সময়ের তারতম্য হতে পারে।

Spinach Gardening Tips

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy