রাতে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে রান্নাঘরের তাক খুলতেই চোখে পড়ল কিছুটা চাল, কৌটোর নীচে পড়ে থাকা সামান্য ডাল, মশলার প্যাকেট আর হয়তো নুডল্স বা পাস্তা। সেই সব দেখেশুনে, কী রাঁধবেন ভাবতে না পেরে অনলাইনে খাবার অর্ডার করে দিলেন।
আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্যকর খাওয়া মানে দামি ‘সুপারফুড’ নয়। বরং হাতের কাছে এমন সব জিনিসপত্র মজুত রাখা যাতে ক্লান্ত শরীরেও চটজলদি গরম এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর খাবার বানিয়ে ফেলা যায়। বাজারে এখন অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত, হিমায়িত এবং প্যাকেটজাত খাবারের রমরমা। সেই প্যাকেট কিনে এনে জলে ফুটিয়ে নিলেই স্যুপ তৈরি হয়ে যায় কিংবা হিমায়িত কবাব থেকে পরোটা অল্প সেঁকে নিলেই হয় যায়। চটজলদি বানিয়ে নেওয়া যায়, এই ধরনের খাবারের এখন রমরমা। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, এই ধরনের খাবার স্বাস্থ্যবান্ধব নয়। তা হলে কোন খাবার রাখা দরকার হেঁশেলে, কী ভাবেই বা খাবারের জন্য বাজেট ঠিক করতে পারেন?
কেনাকাটার আগে বাজেট ঠিক করুন
প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকা তৈরির আগে খরচে সীমারেখা টানুন। রান্নাঘর সামলানোর প্রথম নিয়মই হল মাসের খাওয়া খরচ সম্পর্কে নির্দিষ্ট বাজেট থাকা। প্রথমে মাসিক খরচ নির্দিষ্ট করে তারপরে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনলে, খরচে লাগাম থাকে। এতে হুটহাট অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার প্রবণতা কমে।
দানাশস্য রাখতেই হবে পাতে
প্রতিদিনের খাবারে দানাশস্য থাকাটা জরুরি। ব্রাউন রাইস, ওট্স, মিলেট, জোয়ার-বাজরার মতো খাবার শরীরে শক্তি জোগায়। এর মধ্যে বেশ কিছু খাবারে যথেষ্ট মাত্রায় ফাইবারও পাওয়া যায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। নিজের পছন্দমনতো খাবার চাল, আটা, ওট্স বা মিলেট কিনে বায়ুনিরোধী কৌটোয় ভরে তাকে সাজিয়ে রাখুন।
প্রোটিনের উৎস ডাল, মাছ
মুসুর, মুগ, রাজমা, কাবলি ছোলা, পাঁচমিশালি ডাল, সয়াবিন প্রোটিনের ভাল উৎস। আয়রন এবং ফাইবারে ভরপুর এই ধরনের খাবারে যথেষ্ট মাত্রায় প্রোটিন এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণ মেলে। ডিম, মাছ এবং মাংসও প্রোটিনের ভাল উৎস।
বাদাম, বীজ
কাঠবাদাম, আখরোট, চিয়া, তিসিবীজ কিংবা সূর্যমুখীর বীজ মজুত রাখতে পারেন। এগুলি পরিমাণে অল্প লাগলেও প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট মেলে। এই ধরনের খাবার হৃদ্যন্ত্র ভাল রাখতে সাহায্য করে।
পাইকারিতে কিনুন
বড় প্যাকেট বেশি ছাড় পেলেই কেনা সবসময়ে বুদ্ধিমানের কাজ নয়, বিশেষত পরিবারে লোকসংখ্যা কম থাকলে। তা ছাড়া, অনেকটা পরিমাণ কিনলে, সেগুলি সঠিক ভাবে রাখতেও হয়, না হলে পোকা ধরে যেতে পারে বা নষ্ট হতে পারে। তবে চাল, ডাল, তেল যেগুলি প্রতিদিন কাজে লাগে, সেগুলিতে ভাল ছাড় পেলে, কিছুটা বেশি পরিমাণে কিনে রাখা যায়। পাইকারি বাজারের খোঁজ করতে পারেন, যেখানে তুলনামূলক সস্তায় জিনিস মিলবে।
এমনভাবে গুছিয়ে রাখুন, যাতে সব চোখে পড়ে
জিনিস কেনা রয়েছে অথচ দরকারে হাতের কাছে না মেলা কাজের কথা নয়। ছুটির দিনে সব তাক খালি করে মেয়াদোত্তীর্ণ জিনিস ফেলে দিন। যেগুলি রোজ লাগে হাতের কাছে রাখুন। চাল, ডাল, মশলা, তেল নির্দিষ্ট জায়গায় রাখলে হাতের কাছে পেতে সুবিধা হবে। রান্না করাও সুবিধা হবে।