লালচে করে কষানো আলুরদম কিংবা রগরগে কষামাংসের সঙ্গে ফিনফিনে নরম রুটি! নৈশভোজে এমন খাবার পরিবেশন করতে চাইলে রুমালি রুটি খুঁজতে রেস্তরাঁর দ্বারস্থ হতে হবে না। তরকারি ‘রেডি’ থাকলে অল্প সময়ে বাড়ির চাটুতেই বানানো যাবে গরম গরম রুমালি রুটি।
রেস্তরাঁর মতো পাতলা এবং নরম রুমালি রুটি বানানো কঠিন কাজ নয়। তবে তার কিছু গূঢ় কৌশল আছে। সঠিক উপাদানের পরিমাপ জানতে হবে। জানতে হবে সেঁকার সঠিক কৌশলও। কারণ, তাতেই লুকিয়ে রয়েছে ঘরোয়া চাটুতে রুমালি রুটি বানানোর আসল রহস্য।
কী কী লাগবে?
২ কাপ ময়দা, ১/২ কাপ আটা, ১/২ কাপ হালকা গরম দুধ, মাখার জন্য পরিমাণমতো জল, ১/২ চা-চামচ নুন আর ১ টেবিলচামচ ঘি এবং পরিমাণমতো তেল।
তৈরি করার সময় যা যা খেয়াল রাখতে হবে
ময়দা মাখুন দুধ দিয়ে
একটি পাত্রে ময়দা, আটা ও নুন একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এ বার তাতে ১ টেবিল চামচ ঘি এবং হালকা গরম দুধ দিন। এর পরে প্রয়োজনমতো জল দিয়ে অন্তত ৮-১০ মিনিট ধরে খুব ভাল করে মেখে নরম ও তুলতুলে ময়দার মণ্ড তৈরি করুন।
বেলার আগে সময় দিন
মাখা ময়দার উপরে সামান্য তেল মাখিয়ে ভেজা সুতির কাপড় দিয়ে ঢেকে ৩০ মিনিটের জন্য রেখে দিন।
বেলার পরে ‘স্বচ্ছ’ হল কি?
ছোট ছোট লেচি কেটে নিন। সামান্য ময়দা ছড়িয়ে লেচিগুলোকে যতটা সম্ভব পাতলা করে বেলে নিন। রুটি এতটাই পাতলা হবে যাতে নীচে থেকে হাত দেখা যায়।
উল্টো চাটু
গ্যাস জ্বালিয়ে একটি লোহার চাটু উল্টো করে বসিয়ে দিন। সোজা চাটুর থেকে উল্টানো চাটুতে এই রান্না হয় বেশি ভাল।
নুন-জলের মিশ্রণে লুকিয়ে রহস্য
একটি ছোট বাটিতে ১ কাপ জলের সঙ্গে ১ টেবিলচামচ নুন গুলিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে রাখুন। এটি চাটুর উপর স্প্রে করার জন্য ব্যবহার করা হবে। চাটু খুব গরম হয়ে এলে তার উপর আগে থেকে তৈরি করা নুন-জল ছিটিয়ে দিন। এতে রুটি চাটুতে আটকে যাবে না।
বুদবুদ দেখলেই সতর্ক
এ বার পাতলা রুটিটি সাবধানে তুলে নিয়ে গরম চাটুর উপর ছড়িয়ে দিন। ৫-১০ সেকেন্ডের মধ্যেই রুটির গায়ে ছোট ছোট বুদবুদ দেখা দেবে। রুটিটি উল্টে দিন এবং একটি পরিষ্কার সুতির কাপড় দিয়ে হালকা চেপে চেপে ১৫-২০ সেকেন্ড সেঁকে নিন। তবে রুমালি রুটি খুব বেশি সময় সেঁকা যায় না, এতে রুটি শক্ত হয়ে যেতে পারে।
ভাঁজ করার ধরন
রুটি তৈরি হওয়ামাত্রই দ্রুত রুমালের মতো ৪ ভাঁজ করে নিন। তৈরি হয়ে গেল তুলতুলে গরম গরম রুমালি রুটি। হটপটে কাপড়ে মুড়ে রাখলে দীর্ঘক্ষণ নরম থাকে।