‘ও কি সত্যিই আমায় ভালবাসে?’, ‘ও কি একদিন আমায় ছেড়ে চলে যাবে?’ এমন ভাবনা নিয়ে সারাক্ষণ উদ্বেগে ভোগেন? সুন্দর মুহূর্তেও বিচ্ছেদের ভয় কাজ করে? তা হলে সম্পর্কের আনন্দকে ছাপিয়ে বড় হয়ে যেতে পারে অনিশ্চয়তা। সঙ্গীর একটি ছোট আচরণও তখন মনে তৈরি করতে পারে একাধিক প্রশ্ন। আপনি কি সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগে থাকেন সে কারণে? এই দলে পড়েন কি না, ৫টি আচরণ বিচার করে দেখতে পারেন।
১. ছোট ছোট পরিবর্তন থেকে দুশ্চিন্তা
নির্দিষ্ট সময়ে সঙ্গীর মেসেজ না এলে, আগের মতো ইমোজি ব্যবহার না করলে বা হঠাৎ ব্যবহার করলে, ফোনে গলার স্বর একটু অন্য রকম লাগলে উদ্বেগ শুরু হয় কি? ‘আজ হয়তো ব্যস্ত’ ভাবার বদলে মনে হতে পারে, ‘ও কি আর আগের মতো আমাকে ভালবাসে না?’ কিংবা ‘আমি কি কিছু ভুল করেছি?’ অনিশ্চয়তা থেকে খুব দ্রুত নেতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয় কি? তা হলে বুঝতে হবে, আপনিও সেই দলে পড়েন, যাঁদের ছোট ছোট পরিবর্তন বেশি করে ভাবায়।
সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগে থাকেন সব সময়ে? ছবি: সংগৃহীত
২. বার বার নিশ্চয়তার খোঁজ
সঙ্গী যে ভালবাসেন, সেটি হয়তো আপনি জানেন। তা সত্ত্বেও বার বার প্রশ্ন করেন,— ‘‘আমাদের মধ্যে সব ঠিক আছে তো?’’, ‘‘তুমি কি এখনও আমাকে ভালবাস?’’, ‘‘আমার উপর কি রাগ করেছ?’’ সঙ্গীর আশ্বাসে কিছু সময়ের জন্য মন শান্ত হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ বা কয়েক দিন পর ফের একই প্রশ্ন মাথায় ঘুরতে শুরু করতে পারে। ফলে যতই নিশ্চয়তা খুঁজুন না কেন, নিরাপত্তার অনুভূতিটা যেন উবে যায় খুব দ্রুত।
৩. নীরবতাকে ভয়
সঙ্গী মেসেজের উত্তর দিতে একটু দেরি হলেই মাথায় একের পর এক সম্ভাব্য কারণ ঘুরতে থাকে। কখন শেষ বার অনলাইন ছিলেন, আগের কথোপকথনে কোনও অস্বাভাবিক শব্দ ব্যবহার হয়েছিল কি না, নিজের পাঠানো মেসেজটি ঠিক ছিল কি না— এ সব নিয়ে বার বার ভাবতে পারেন কেউ কেউ। এমনকি স্বাভাবিক একটি মেসেজ পাঠিয়েও পরে মনে হতে পারে, ‘এটা কি অন্য ভাবে নিল?’ অর্থাৎ একটানা কথোপকথনের স্বাভাবিক ফাঁকটুকুও তখন প্রত্যাখ্যান বা দূরে সরে যাওয়ার সঙ্কেত বলে মনে হতে পারে।
৪. অন্য কারও জন্য প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আতঙ্ক
হয়তো সব ঠিক রয়েছে, সঙ্গীর ভালবাসাও পাচ্ছেন, তবু মনে হতে থাকে, ‘নিশ্চয়ই এক দিন অন্য কাউকে ভাল লেগে যাবে, আর আমায় ছেড়ে দেবে।’ এমন ঘটনার কোনও সম্ভাবনা না থাকলেও এমন ভাবনা মাথায় ঘুরতেই থাকে। সঙ্গীর বন্ধু, পুরনো সম্পর্ক কিংবা নতুন কোনও পরিচিত মানুষকে ঘিরেও অকারণ তুলনা শুরু হতে পারে। হারিয়ে ফেলার ভয়টাই এত জোরালো হয়ে ওঠে যে, সম্পর্ককে সেই আতসকাচ দিয়ে দেখার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন:
৫. সঙ্গীকে একা থাকতে না দেওয়া
প্রত্যেকেরই নিজের মতো সময় কাটানোর দরকার পড়তে পারে। কিন্তু সঙ্গী যদি বলেন, ‘‘আজ একটু একা থাকতে চাই’’, তখনই যদি মনে হয় তিনি সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন, তা হলে বিষয়টি খেয়াল করার মতো। ঝগড়া হলে সঙ্গীকে একটু সময় দেওয়ার বদলে সঙ্গে সঙ্গে সব মিটিয়ে ফেলতেই হবে, এমন দাবি করেন কেউ কেউ। উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাও তখন অত্যন্ত অস্বস্তিকর মনে হয়।
ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা সহ্য করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিরাপদে আছে কি না, তা নিয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা এই ধরনের আচরণের কারণ হতে পারে। তবে এমন অনুভূতি থাকা মানেই আপনি ভালবাসার অযোগ্য, এমন ভাবার কারণ নেই। কিন্তু সম্পর্ক নিয়ে এত উদ্বেগ কাজ করলে পেশাদারের সাহায্য নেওয়া উচিত। যাতে আপনি শান্তি পান, সম্পর্কটাও সুন্দর থাকে।