ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্ব জুড়ে পরিচিত। পাঁচ বার বালঁ দ্য’র প্রাপ্তি, শত শত গোল, অসংখ্য রেকর্ড। এ সবের মাঝেও পাঁচ সন্তানের লালনপালনে ফাঁকি দেন না ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। মস্ত সংসারের দায়িত্বপালন, সন্তানদের স্বাস্থ্যকর যাপন, প্রত্যেকের প্রতি আলাদা যত্ন— মাঠে দাপট দেখানোর পাশাপাশি এ সবের জন্যও সদা হাজির তিনি। পাঁচ সন্তান ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র, যমজ ইভা ও মাতেও, আলানা মার্তিনা এবং বেলা এসমেরালদার বাবা হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ব বোধ করেন রোনাল্ডো।
ফুটবল মাঠে যে একাগ্রতা, কঠোর পরিশ্রম ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে তিনি নিজেকে অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে গড়ে তুলেছেন, ঠিক একই রকম নিষ্ঠা দেখা যায় সন্তানপালনের ক্ষেত্রেও। তাই তিনি বিশেষ কয়েকটি নিয়মে বেঁধে রেখেছেন ছেলেমেয়েদের। রোনাল্ডোর অভিভাবকত্বের ধরন আপনার জন্যও শিক্ষণীয় হতে পারে।
পরিবারের সঙ্গে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ছবি: সংগৃহীত
অস্বাস্থ্যকর খাবারে নিষেধাজ্ঞা: রোনাল্ডোর বাড়িতে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, সফ্ট ড্রিঙ্ক বা জাঙ্ক খাবারের প্রবেশাধিকার নেই। তিনি চান, সন্তানেরা ছোট থেকেই পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুক। গ্রিল করা মাছ, ফল, শাকসব্জি, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার এবং সুষম আহারই তাদের রোজের খাদ্যতালিকার মূল অংশ। তা ছাড়া প্রচুর জল খাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সন্তানদের। তাই তাঁর ৫ সন্তান ছোট থেকেই জানে, যা পেটে যায়, তা-ই থেকে যায় মনে, মস্তিষ্কে এবং শরীরে।
রোনাল্ডো চান, তাঁর সন্তানেরা পড়াশোনা, খেলাধুলো, রিলদুনিয়ার বাইরে বেশি করে মন দিক। ছবি: সংগৃহীত
ফোন ব্যবহারে ফতোয়া: বার বার স্মার্টফোনের বায়না করার পরেও ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়রকে তা কিনে দেননি রোনাল্ডো। এই খবর সে সময়ে শিরোনাম দখল করেছিল। ফুটবলারের মতে, ছোট বয়সে ফোন হাতে দিলে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে শিশুমনে। তিনি চান, তাঁর সন্তানেরা পড়াশোনা, খেলাধুলো, রিলদুনিয়ার বাইরে বেশি করে মন দিক।
আগে পড়া, পরে খেলা: নিজে ফুটবল তারকা, দিনের অধিকাংশ সময়ে মাঠে কাটান। কিন্তু সন্তানদের জন্য তাঁর নিয়ম, পড়াশোনাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তার পর খেলা যাবে। স্কুল এবং স্কুলের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঠে যাওয়া যাবে না। ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র ইতিমধ্যেই ফুটবল জগতে নাম লিখিয়েছে ঠিকই, কিন্তু তা বলে পড়াশোনার সঙ্গে আপস করে না সে।
খেলাধুলোর চেয়েও পড়াশোনাকে বেশি গুরুত্ব দিতে বলেন রোনাল্ডো। ছবি: সংগৃহীত
যে যার পথে: চিকিৎসকের সন্তান চিকিৎসক, অভিনেতার সন্তান অভিনেতা, এই সূত্রে বিশ্বাসী নন রোনাল্ডো এবং তাঁর সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজ। এ কথা একটি সাক্ষাৎকারেই জর্জিনা জানিয়েছিলেন, তাঁদের সন্তানেরা যেমন পেশায় যেতে চাইবে, সে দিকেই যাবে। যদি ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র নিষ্ঠাবান হয়, তবেই সে ফুটবলের দিকে যেতে পারে।
সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন পর্তুগালের তারকা। ছবি: সংগৃহীত
সাদামাঠা যাপন: বিশ্বজোড়া খ্যাতি থাকা সত্ত্বেও সন্তানদের বিনয়ী থাকতে শেখান রোনাল্ডো। অন্যকে সম্মান করা, কৃতজ্ঞতাবোধ এবং পরিবারের মূল্য বোঝার উপর তিনি জোর দেন। আর তাই টাকাপয়সা, ধনদৌলতের আঁচ যেন তাদের বড় হওয়ার উপর না পড়ে, সে দিকে খেয়াল রাখেন রোনাল্ডো এবং জর্জিনা। নিজে নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্মেছেন রোনাল্ডো। তাই পরিশ্রম করে রোজগার করার অর্থ তিনি বোঝেন। সেই শিক্ষায় যাতে ছেলেমেয়েরা শিক্ষিত হয়, সে চেষ্টাই করেন তিনি।