Advertisement
E-Paper

একঘর লোকের সামনে অস্বস্তিকর প্রশ্ন! জবাব দেবেন কী ভাবে, কৌশল শেখালেন সুস্মিতা সেন

ঘরোয়া অনুষ্ঠান থেকে অফিস— জীবনে নানা সময়ে কখনও তীর্যক প্রশ্ন, কখনও কটাক্ষের মুখে পড়তে হয় কম-বেশি সকলকে। সেই সময় কি চুপ করে থাকবেন, না কি প্রশ্নের উত্তর দেবেন? সুস্মিতা সেন নিজের অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত শিক্ষার কথা জানালেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:৪৫
অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামলানোর উপায় শিখে নিতে পারেন সুস্মিতা সেনের কাছেও।

অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামলানোর উপায় শিখে নিতে পারেন সুস্মিতা সেনের কাছেও। ছবি:সংগৃহীত।

বাড়িভর্তি লোকজন, তার মাঝেই হয়তো অস্বস্তিকর একটি প্রশ্ন করে বসলেন কেউ। ঘরোয়া অনুষ্ঠান থেকে অফিস— জীবনের নানা পদে কখনও তীর্যক প্রশ্ন, কখনও কটাক্ষের মুখে পড়তে হয় কম-বেশি সকলকে। এমন প্রশ্নে আচমকা মাথা গরম হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে দু’চার কথা শুনিয়ে দেন কেউ কেউ। অনেকে আবার কষ্ট পেয়ে নীরবও হয়ে যান।

প্রাক্তন ব্রহ্মাণ্ডসুন্দরী সুস্মিতা সেন এই বিষয়ে তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এক সাক্ষাৎকারে। সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নানা সময় বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। কখনও কখনও প্রশ্ন করার ধরনে কেউ ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন। কখনও অন্য মানুষটিকে হয়তো অসম্মানও করেছেন।

তবে ২১ বছর বয়সে সুস্মিতাকে কেউ শিখিয়েছিলেন প্রশ্নকর্তা যত উদ্ধত হোন, প্রশ্ন যতই খারাপ ভাবে করা হোক না কেন, উত্তর দিতে হবে ভদ্র ভাবে। ৫০-এ পৌঁছেও সে কথা মনে রেখেছেন অভিনেত্রী। দুই সন্তানের মা তিনি। ব্যবসায়িক ভাবেও সফল।

প্রাক্তন ব্রহ্মাণ্ডসুন্দরীর কথায়, ‘‘সে দিনের সে-ই কথা মাথায় রয়ে গিয়েছে। কেউ যত খারাপ ভাবেই প্রশ্ন করুন না কেন, আমাকে ভদ্র ভাবেই উত্তর দিতে হবে। কারণ, পরে রয়ে যাবে আমার কথাটাই। ভবিষ্যতে হয়তো সেই উত্তরের অর্থ লোকে বুঝতে পারবেন।’’

তরুণী সুস্মিতাকে সে দিন বোঝানো হয়েছিল, সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে সকলের নজর, ক্যামেরা থাকবে তাঁরই দিকে। তাই তিনি কী বলবেন, কী ভাবে বলবেন, সেটাই বিশ্বের দরবারে পৌঁছোবে। তবে ক্যামেরা থাক বা না-থাক, দৈনন্দিন জীবনে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়ে প্রায় সকলকেই। সেই উত্তরটাও কি তবে ভদ্র ভাবেই দেওয়া উচিত, না কি কখনও অন্যের ভুলকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া প্রয়োজন?

তীর্যক প্রশ্নের মুখে মেজাজ না হারিয়ে সংযত ভাবে নিজের ভাবনাকে তুলে ধরাই কাম্য, মনে করেন বেঙ্গালুরু নিবাসী মনোবিদ সৃষ্টি বৎস্য। তাঁর কথায়, সুস্মিতা বলেননি, অন্য পক্ষ যখন অসম্মান করছেন, তখন তাঁর প্রতি বিনয়ী হতে হবে বা তাঁর মন রাখা কথা বলতে হবে। মেজাজ হারিয়ে রুক্ষ আচরণ বা বিনয়, কোনওটারই প্রয়োজন নেই। প্রশ্নের মুখে সংযত থাকা এবং দৃঢ় ভাবে উত্তর দেওয়ার কথাই বলতে চেয়েছেন অভিনেত্রী।

মনোবিদের কথায়, অফিসের মিটিং হোক বা পারিবারিক আসর, কিংবা বন্ধুমহলের আড্ডা, যদি মনে হয় অন্যের প্রশ্ন অসম্মানজনক, তখন যে কেউ চট করে মেজাজ হারান। গলার স্বর চড়ে যায়। তাতে পরিবেশ বদলে যায় নিমেষে। অপ্রীতিকর আবহ তৈরি হয়। কিন্তু এমন সময় মাথা ঠান্ডা রেখে যুক্তি দিয়ে নিজের বক্তব্য রাখতে পারলে, পরিস্থিতি সামলে নেওয়া সম্ভব।

সৃষ্টি জানাচ্ছেন, অনেক সময় অশান্তি এড়াতে কেউ কেউ চুপ করে যান, অথবা অনিচ্ছা সত্ত্বেও অন্যের মতকে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানান। তা আসলে মত প্রকাশ না করতে পারার দুর্বলতা।

সংযত হয়ে নিজের কথা বলতে পারা, আসলে আবেগ নিয়ন্ত্রণ, আত্মসম্মানবোধের শিক্ষা, যা নিজের অবস্থানকে স্পষ্ট করতে সাহায্য করে।

Relationship

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy