Advertisement
E-Paper

‘আমরা তথাকথিত স্বামী-স্ত্রী নই’! বিয়ের ১৪ বছর পর সইফ-করীনার মতো সম্পর্ক কি স্বাস্থ্যকর?

প্রেমিক-প্রেমিকা থাকাকালীন প্রেমের যে উন্মাদনা, যে বন্ধুত্ব, তা নাকি কমে যায় বিয়ের কিছু বছর পর। এমনটাই দাবি অধিকাংশের। তাঁরাই যখন মা-বাবা হন, তখন আবার সম্পর্কের অভিমুখ বদলে যায়। সেখানেই নজির গড়েছেন করীনা কপূর খান এবং সইফ আলি খান।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৫০
করীনা-সইফের সম্পর্কের সমীকরণ।

করীনা-সইফের সম্পর্কের সমীকরণ। ছবি: সংগৃহীত।

বিয়ের পর সম্পর্কের সমীকরণ বদলে যায়, এটাই যেন স্বাভাবিক ধারণা। প্রেমিক-প্রেমিকা থেকে স্বামী-স্ত্রী, তার পর বাবা-মা— জীবনের প্রতিটি ধাপে সম্পর্কের নাম যেন বদলাতে থাকে। তার সঙ্গে যোগ হয় নতুন দায়িত্ব। ফলে সম্পর্কের ধরনও বদলে যায়। প্রেমিক-প্রেমিকা থাকাকালীন প্রেমের যে উন্মাদনা, যে বন্ধুত্ব, তা নাকি কমে যায় বিয়ের কিছু বছর পর। এমনটাই দাবি অধিকাংশের। তাঁরাই যখন আবার মা-বাবা হন, তখন আবার সম্পর্কের অভিমুখ পাল্টে যায়। কিন্তু দায়িত্ব বাড়লেও যদি দু’জনের বন্ধুত্বটা একই রকম থাকে, তা হলে দাম্পত্যের ভিত আরও মজবুত হতে পারে। সেখানেই নজির গড়েছে করীনা কপূর খান ও সইফ আলি খানের সম্পর্ক।

এক সাক্ষাৎকারে করীনা জানিয়েছেন, তাঁরা স্বামী-স্ত্রীর মতো নন। বিয়ের পরেও তাঁদের মধ্যে এমন একটি বন্ধুত্ব রয়েছে, যেখানে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরলে অথবা কফি বা এক গ্লাস ওয়াইন খেতে ইচ্ছে করলে সইফের কথাই তাঁর প্রথম মনে পড়ে, কোনও বন্ধুর কথা নয়। এখনও টানটা যেন প্রেমিক-প্রেমিকাসুলভ।

সম্পর্কের নজির গড়়লেন সইফ-করীনা।

সম্পর্কের নজির গড়়লেন সইফ-করীনা। ছবি: সংগৃহীত

করীনার কথায়, ‘‘আমরা একে অপরকে খুব সম্মান করি, খুব ভালবাসি। একে অপরের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আনন্দ পাই। এর থেকে ভাল আর কীই বা হতে পারে? এ রকম নয় যে, এমন সময়ে‌ আমায় কোনও বন্ধুকেই ফোন করতে হবে। আশা করি, আমাদের এই সমীকরণ যেন কোনও দিন না বদলায়। বদলে গেলে সমস্যা হবে।’’

মনোবিদদের মতে, করীনা-সইফের মতো সম্পর্ক দাম্পত্যের জন্য খুব স্বাস্থ্যকর। শুধু প্রেম বা দায়িত্ব দিয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যায় না। পরস্পরের সঙ্গ উপভোগ করা, কথা বলা, সম্মান করা এবং প্রয়োজনের সময়ে একে অপরের পাশে থাকা একই ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দাম্পত্যে প্রেম থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বন্ধুত্বের জায়গাটিও থাকা জরুরি। সঙ্গীর সঙ্গে এমন সম্পর্ক থাকা দরকার, যেখানে দিনের শেষে কোনও কথা বলার জন্য আলাদা করে সুযোগ খুঁজতে হবে না। নিজের ভিতর থেকেই তাগিদটা চাগাড় দেবে। আর সাক্ষাৎকারে সেই তাগিদের কথাই উল্লেখ করেছেন করীনা। তাঁর বক্তব্যে এই বন্ধুত্বের জায়গাটিই স্পষ্ট। তাঁর কাছে সইফ শুধু স্বামী নন, এমন একজন মানুষ যাঁর সঙ্গে সময় কাটাতে ভাল লাগে। এখনও যেন তাঁর প্রেমিক। এখনও একই ভাবে সময় কাটানোর জন্য মুখিয়ে থাকার উদাহরণ দিয়েছেন কপূর-কন্যা।

বিয়ের ১৪ বছর পরেও অটুট বন্ধুত্ব।

বিয়ের ১৪ বছর পরেও অটুট বন্ধুত্ব। ছবি: সংগৃহীত

তাই দাম্পত্যে যত দিন পর্যন্ত সম্ভব, বন্ধুত্ব এবং উন্মাদনাটাকে জিইয়ে রাখার চেষ্টা করা উচিত বলে মনে করেন মনোবিদেরা। আর তার জন্য কয়েকটি বিষয় মাথায় রেখে চলা যায়—

১. একে অপরকে সম্মান করা

২. সম্পর্কের মধ্যে বন্ধুত্বটা বাঁচিয়ে রাখা

৩. এক ছাদের তলায় থাকলেই সবসময়ে একসঙ্গে থাকাটাকে বাধ্যতামূলক করে না তোলা

৪. অন্যের নিজস্ব সময়কে সম্মান দেওয়া

৫. শুধু সংসারের কথা না বলা

৬. মতের অমিল হলে কথা বন্ধ নয়, কথা বলতে থাকা

৭. সন্তান আসার পরেও পরস্পরকে ভুলে না যাওয়া

মনে রাখতে হবে, বিয়ের পরে প্রেমের সম্পর্কের জায়গা বদলালেও বন্ধুত্বের জায়গাটা হারিয়ে যাওয়া উচিত নয়। বরং সময়ের সঙ্গে প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্ক যখন স্বামী-স্ত্রী, সঙ্গী এবং বাবা-মায়ের সম্পর্কে বদলে যায়, তখন সেই পুরনো বন্ধুত্বটিই হয়ে উঠতে পারে সম্পর্কের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।

Kareena Kapoor Khan Saif Ali Khan Relationship

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy