Advertisement
E-Paper

রোমশ পায়ে ডিম বেঁধে ঘোরে পুরুষেরা! বিচিত্র সব বৈশিষ্ট্য-সহ নতুন দুই প্রজাতির মাকড়সার হদিস সমুদ্রের নীচে

সামুদ্রিক এই মাকড়সারা সামুদ্রিক প্রাণী, উদ্ভিদের গায়ের উপর দিয়ে হেঁটে বেড়ায়। তবে স্থলের মাকড়সার সঙ্গে তাদের ফারাক রয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৫৯

ছবি: সংগৃহীত।

মাকড়সা দেখলে গা ঘিনঘিন করে? তা হলে সাম্প্রতিক যে দু’টি প্রজাতির মাকড়সার হদিস বিজ্ঞানীরা পেয়েছেন, তা দেখলে শিউরে উঠতে পারেন। ওই দুই প্রজাতির সামুদ্রিক মাকড়সার খোঁজ পেয়েছিলেন কানাডার বিজ্ঞানীরা। তাদের বৈশিষ্ট্য দেখে বেশ বিস্মিতই হয়েছিলেন তাঁরা।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের অগস্টে সালিশ সাগরে বেশ কয়েক বার ডুব (স্কুবা ডাইভ) দিয়ে গবেষণা চালিয়েছিলেন কানাডার গবেষকেরা। ওয়াশিংটন এবং কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রভিন্সের মাঝে রয়েছে সালিশ সাগর। সেখানে ১৮ মিটার গভীরে ডুব দিয়ে ওই দুই প্রজাতির মাকড়সার খোঁজ মিলেছিল। ‘অর্গানিজমস ডাইভার্সিটি অ্যান্ড ইভলিউশন’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় সেই গবেষণা। তাতে বলা হয়েছে, গত এক শতাব্দীতে প্রথম বার নতুন কোনও সামুদ্রিক মাকড়সার সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

নতুন একটি প্রজাতির মাকড়সার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্যালিপালিন পিলোসাসপেডস’। ‘পিলোসাস’ একটি ল্যাটিম শব্দ যার অর্থ রোমশ। ‘পেডস’ মানে পা। নতুন ওই প্রজাতির মাকড়সার মেরুদণ্ড দীর্ঘ এবং বাঁকানো, যাতে ঢাকা পড়ে তার নীচের দিকের পাগুলি। সেগুলি রোমে ঢাকা বলেই মাকড়সার এই নামকরণ। ওই প্রজাতির মাকড়সার চোখ লাল। ত্রিকোণা মুখে রয়েছে তিনটি ওষ্ঠ। খাবার ধরার জন্য রয়েছে বিশেষ নখ। শরীরে রয়েছে ‘ওভিজার’ নামে চিরুনির মতো বিশেষ অঙ্গ, যা দিয়ে তারা শরীর পরিষ্কার করে।

দ্বিতীয় প্রজাতির নাম ট্যানিস্টাইলাম কিহিন। কিহিন শব্দের অর্থ হল সমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ার শব্দ। তার পাগুলি তুলনায় ছোট। পেটটা দেহের বাকির অংশের তুলনায় সরু। চোখগুলি কালো। এই প্রজাতির মাকড়সার শরীর পরজীবীতে ঢাকা থাকে। ঠিক মতো শরীর পরিষ্কার করতে পারে না বলে এমনটা হয়।

গবেষকেরা বলছেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৪০০ প্রজাতির সামুদ্রিক মাকড়সা আবিষ্কৃত হয়েছে। গত ৫০ কোটি বছর ধরে তারা পৃথিবীতে বিবর্তিত হয়ে রয়ে গিয়েছে। সামুদ্রিক এই মাকড়সারা সামুদ্রিক প্রাণী, উদ্ভিদের গায়ের উপর দিয়ে হেঁটে বেড়ায়। তবে স্থলের মাকড়সার সঙ্গে তাদের ফারাক রয়েছে। বৈশিষ্ট্য অনুসারে তাদের মাকড়সা বলা যায় না। তবে তাদের যোগ রয়েছে মাকড়সা, বিছের সঙ্গে। সামুদ্রিক মাকড়সার দাঁত থাকে না। শুঁড় থাকে, যা দিয়ে শিকারের শরীর থেকে রস চুষে খায়। নিজের ত্বক দিয়ে এরা শ্বাসপ্রশ্বাস নেয়। অগভীর জলে বসবাসকারী এই সামুদ্রিক মাকড়সাগুলির সাধারণত চারটি চোখ থাকে। মুখটি দেহের চেয়ে আকারে বড় হয়। বিপাকতন্ত্র এবং প্রজননতন্ত্র শরীরের মূল অংশে আটকে না থেকে পায়ের ভিতরে শাখা-প্রশাখা তৈরি করে।

সামুদ্রিক মাকড়সার প্রজনন ক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা থাকে পুরুষ মাকড়সার। যত দিন না ডিম ফুটে বাচ্চা বার হয়, ততদিন সেগুলি পুরুষ মাকড়সা বিশেষ পদ্ধতিতে পায়ে নিয়ে বহন করে।

সালিশ সাগরে এমনিতে বহু নতুন জীবের সন্ধান মিলেছে। তবে এখনও পর্যন্ত সেখানে সামুদ্রিক মাকড়সার ১৭টি প্রজাতির খোঁজ মিলেছিল। সে কারণেই গবেষকেরা জীববৈচিত্র্যের খোঁজে বার বার ওই সাগরে ডুব দিয়েছিলেন। আর তাতেই সামুদ্রিক মাকড়সার নতুন দুই প্রজাতির বিষয়ে আরও তথ্য তারা জানতে পারেন। জানতে পারেন অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য।

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy