ইউএস ওপেন থেকে একাধিক তারকা খেলোয়াড় আগেই বিদায় নিয়েছিলেন। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন কার্লোস আলকারাজ়। বুধবার (স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত) তিনি বিদায় নিলেন কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই। আমেরিকার বেন শেলটনের কাছে আলকারাজ় হেরেছেন ৭-৬, ১-৬, ৩-৬, ৬-১, ৭-৬ গেমে।
খেলাটি শেষ হয়েছে নিউ ইয়র্কের সময় মঙ্গলরাত ভোর ৩.৩৩ মিনিটে। এত দেরিতে ইউএস ওপেনে এই প্রথম কোনও ম্যাচ শেষ হল। আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ঠিক দু’বছর আগে ইয়ানিক সিনারের বিরুদ্ধে আলকারাজ়ের ম্যাচ শেষ হয়েছিল রাত ২.৫০ মিনিটে। সে বার আলকারাজ় জিতেছিলেন। এ বার আর পুনরাবৃত্তি করতে পারলেন না। স্নায়ু ধরে রেখে জিতলেন শেলটন। দর্শকদের সমর্থনও ছিল তাঁর দিকেই। ম্যাচ গড়িয়েছে ৪ ঘণ্টা ২৮ মিনিট।
চোট সারিয়ে দীর্ঘ দিন বাদে কোর্টে ফিরলেও সময়টা সুখকর হল না আলকারাজ়ের কাছে। প্রথম কয়েকটি ম্যাচে তাঁকে বেশ স্বচ্ছন্দেই খেলতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু শেলটনের বিরুদ্ধে প্রথম সেট কষ্ট করে জিততে হয়। পরের দু’টি সেরে উড়ে যান আমেরিকার খেলোয়াড়ের কাছে। বিদায়ের মুখে দাঁড়িয়ে প্রত্যাবর্তন ঘটান আলকারাজ়। চতুর্থ সেটে প্রতিপক্ষকে দাঁড়াতে দেননি। পঞ্চম সেট হয় হাড্ডাহাড্ডি। কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়েননি। সেখান থেকে টাইব্রেকারে ম্যাচ জিতে নেন শেলটন।
অষ্টম গ্র্যান্ড স্ল্যামের লক্ষ্যে নেমেছিলেন আলকারাজ়। রজার ফেডেরারের পর দ্বিতীয় পুরুষ খেলোয়াড় হিসাবে ইউএস ওপেন ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। চোট সারিয়ে বছরের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যামে নেমেছিলেন। কিন্তু লক্ষ্য পূরণ হল না স্পেনীয় খেলোয়াড়েরা। গ্র্যান্ড স্ল্যামে টানা ১৮টি ম্যাচ জয়ের দৌড়ও থামল। গত বার ইউএস ওপেন জেতার পর এ বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনও জিতেছিলেন তিনি।
জয়ের পর শেলটন বলেছেন, “দর্শকদের জন্যই এই ম্যাচ জিততে পেরেছি। আমার কোচ এবং দল ছাড়াও, পরিবার ও বন্ধুবান্ধবেরা দর্শকাসনে ছিলেন। পাশাপাশি নিউ ইয়র্কের মানুষ ভোর ৩টে পর্যন্ত জেগে আমার খেলা দেখেছেন। শেষ পর্যন্ত আমেরিকার নাম ধরে চিৎকার করেছেন। এটাই আমাকে চাঙ্গা করে তুলেছে।”
আরও পড়ুন:
-
৯৯ রানে তিলক থামতেই শেষ হয়ে গেল দক্ষিণের লড়াই, বড় অঘটন না ঘটলে ১৪ বছর পর পূর্বাঞ্চলের দলীপ জয় নিশ্চিত
-
কোহলির সংস্থার জুতো পরছেন পাকিস্তানের দুই মহিলা ক্রিকেটার! এশিয়া কাপে চর্চায় নাশরাদেরা
-
এশিয়ান গেমসে বিলাসবহুল হোটেল পাবেন না শ্রেয়সেরা, বোর্ডের সাফ বার্তা, যথেষ্ট ভাল ব্যবস্থা রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটারদের জন্য
আলকারাজ় যে কাজ করতে পারেননি, তার আগেই সেই কাজ করে দেখান ফ্রান্সিস টিয়াফো। দু’সেট পিছিয়ে পড়েও ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে ওঠেন তিনি। আলেক্স মিকেলসেনকে ৫-৭, ৬-৭, ৭-৫, ৬-৩, ৭-৬ গেমে হারান টিয়াফো। প্রথম দু’টি সেট হারানো ছাড়াও পঞ্চম সেটে এক সময় ০-৩ পিছিয়ে ছিলেন। সেখান থেকে ম্যাচ জিতে নেন। ওই ম্যাচ চলেছে ৪ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট চলেছে। ম্যাচ জেতার পর নেট টপকে উল্টো দিকে চলে যান। সেখানে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন মিকেলসেন। তাঁকে সান্ত্বনা দেন টিয়াফো।