প্রধান নির্বাচক পদে যে অজিত আগরকর আর থাকবেন না, তা প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু কেন আগরকরের চুক্তি নবীকরণ করা হল না তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা চলছে। আসল কারণ প্রকাশ্যে এসেছে শনিবার। রোহিত শর্মার অবসর কাণ্ডে বোর্ডকর্তাদের সঙ্গে বিরোধিতা তো ছিলই। এমনকি ভিভিএস লক্ষ্মণের সঙ্গেও ঝামেলা হয়েছে তাঁর। ফলে আগরকর অনেক আগেই বুঝে গিয়েছিলেন পদে তাঁর আর থাকা হবে না।
ইংল্যান্ড সিরিজ়ের পর হারের কারণ নিয়ে কিছু দিন আগে মুম্বইয়ে সভা ডেকেছিলেন বোর্ডকর্তারা। আগরকর সেখানে যোগ দেননি পারিবারিক কারণে। বোর্ডসচিব দেবজিৎ শইকীয়া বিষয়টি ধামাচাপা দিলেও বেশির ভাগ বোর্ডকর্তাই আগরকরের অনুপস্থিতিতে খুশি হননি। আগরকর নিজে ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু গত কয়েক দিনে বোর্ডকর্তারা যা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তাতে স্পষ্ট ছিল, প্রধান নির্বাচক পদে তাঁরা নতুন মুখ চাইছেন।
ইংল্যান্ড সিরিজ়ের আগে প্রথম সমস্যা তৈরি হয়। তিনি চেয়েছিলেন, এক দিনের দলে রোহিত শর্মাকে বাদ দিয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে। সব নির্বাচক সেই সিদ্ধান্তে রাজি হওয়ার পর প্রজ্ঞান ওঝাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় রোহিতকে সিদ্ধান্তের কথা জানানোর। রোহিত নিতে প্রচণ্ড ভাবে বিশ্বকাপ খেলতে চান। তিনি এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। বোর্ডের এক কর্তাকে ফোন করেন এবং নিজের অসন্তোষ জানিয়ে দেন।
এর পরেই শইকীয়া রোহিতের পক্ষ নিয়ে মন্তব্য করেন। লর্ডস ম্যাচের আগে রোহিতের অবসরের সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেন। তাতে রেগে গিয়েছিলেন আগরকর। বোর্ডের এক সূত্র সংবাদসংস্থাকে বলেছেন, “সে দিনই অজিত বুঝতে পেরেছিলেন ওর পক্ষে আর দায়িত্বে থাকা সম্ভব নয়। এমনকি উনি জানতেনও না যে বোর্ড কোনও বিবৃতি জারি করেছে। উনি বুঝতে পেরেছিলেন ভবিষ্যতে দলের বড় নামদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া পুরোপুরি ওঁর নিয়ন্ত্রণে থাকবে না।”
আগরকরকে যাঁরা কাছ থেকে দেখেছেন তাঁরা জানেন দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি বরাবর সততা বজায় রেখেছেন। তিনি মনে করেছিলেন রোহিতের বিকল্প হিসাবে যশস্বী জয়সওয়ালকে বিশ্বকাপের আগে অন্তত ২০টি ম্যাচে খেলার সুযোগ করে দিতে হবে। লর্ডস টেস্টে রোহিত ভাল খেললেও আগরকর মনে করেননি যে সাউথ আফ্রিকায় গিয়েও রোহিত সফল হবেন না। পরে আগরকর বুঝতে পারেন, ভারতীয় ক্রিকেটের মহাতারকাদের অবসর কোনও দিনই নির্বাচকদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রশাসকেরাই।
এ দিকে, লক্ষ্মণের সঙ্গে দীর্ঘ দিন সতীর্থ হিসাবে খেললেও চোট লাগা ক্রিকেটারদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দু’জনের মতপার্থক্য হয়েছে। রাজ্য দলের এক প্রাক্তন কোচ বলেছেন, “যদি কেউ ভেবে থাকেন যে বিরাট কোহলি বা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো যে কোনও মূল্যে জয়ের মানসিকতা লক্ষ্মণের মধ্যে নেই, তা হলে তিনি ভুল ভাবছেন। যা-ই প্রতিযোগিতা হোক, লক্ষ্মণ চান সেরা একাদশই খেলুক।”
আরও পড়ুন:
এশিয়ান গেমসের জন্য আগরকর প্রথম সারির দল বেছেছেন। প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে প্রতিযোগিতাই দ্বিতীয় সারির সেখানে প্রথম দল বাছার কারণ কী। বিশেষ করে গত বার যেখানে রুতুরাজ গায়কোয়াড় দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কারণ ভারতের বাকি ক্রিকেটারেরা বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন। পাশাপাশি ইরানি কাপের দল, ভারত এ দল নিয়েও দু’জনের মতানৈক্য হয়েছে। ক্রিকেটারদের চোট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উৎকর্ষ কেন্দ্রে বার বার দায়ী করায় সম্প্রতি লক্ষ্মণও ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন।