রবিবার মোহনবাগানকে ৪-১ উড়িয়ে ডুরান্ড কাপ জিতেছে ইস্টবেঙ্গল। হ্যাটট্রিক করেছেন এডমুন্ড লালরিনডিকা। প্রথমার্ধে চার গোল দিলেও দ্বিতীয়ার্ধে কেন আর একটি গোল দিয়ে সমর্থকদের দীর্ঘলালিত স্বপ্ন পূরণ করা গেল না? কেন ইস্টবেঙ্গল রক্ষণাত্মক হয়ে গেল? ম্যাচের পর তার কারণ ফাঁস করলেন কোচ আন্তোনিয়ো লোপেজ় হাবাস।
স্পেনীয় কোচ জানালেন, দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে গিয়ে হঠাৎ ভুলে গোল হজম হলে চাপ বাড়তে পারত। তাই তিনি দলকে নির্দেশ দিয়েছিলেন কিছুটা ধরে খেলার। হাবাসের কথায়, “দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান অনেক বেশি আগ্রাসী হয়ে নেমেছিল। ওরা ব্যবধান কমিয়ে ফেলতে পারত। মনে রাখতে হবে ওরাও যথেষ্ট ভাল দল। একটা ভুল হয়ে গেলে বিপদ বাড়তে পারত। তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ওদের এখনও সমীহ করি। সেটা মাথায় রেখেছিলাম।”
হাবাসের সংযোজন, “প্রথম মিনিট থেকে ফুটবলারেরা যে বিশ্বাস, শৃঙ্খলা এবং আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছে তাতে আমি গর্বিত। আমাদের কাছে একটা স্বপ্নের ম্যাচ গেল। অন্যান্য ম্যাচে আমরা হয়তো চার-পাঁচটা সুযোগ থেকে দুটো গোল করতাম। আজ প্রায় সব ক’টা সুযোগেই গোল করেছি। খেলোয়াড়েরা নিজেদের প্রতি বিশ্বাস রেখেছে। সব ফুটবলারকে শুভেচ্ছা।”
ফাইনালে কোথায় দু’দলের পার্থক্য ছিল তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হাবাস বলেন, “আজকের জয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ মোহনবাগান অনেক শক্তিশালী ছিল। অসাধারণ একটা ফাইনাল খেললাম। এই দলের কোনও বিষয় নিয়ে কোনও ধন্দ ছিল না। তারা একই ভাবে খেলে গিয়েছে। তাই এই স্কোরের যোগ্য আমরা।”
হ্যাটট্রিক করা ফুটবলার এডমুন্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। হাবাস বলেছেন, “ইন্টার কাশীর সময় থেকেই এডমুন্ডকে চিনি। ও ওই দলের ফুটবলার ছিল। ও ভারতের অন্যতম সেরা ফুটবলার। এডমুন্ড সাধারণত স্ট্রাইকারে খেলে না। আজ খেলতে হয়েছে। দারুণ খেলেছে।”
আরও পড়ুন:
-
ছেলেদের ডুরান্ড জেতার দিনে ইস্টবেঙ্গলকে গর্বিত করলেন মেয়েরাও, আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলবেন সৌম্যারা
-
ডার্বি মানেই এডমুন্ড! তিন বড় ম্যাচে পাঁচ গোল, ইস্টবেঙ্গলকে ডুরান্ড জেতানো তারকা ট্রেনিং করেছেন বিদেশের ক্লাবেও
-
ইস্টবেঙ্গল ঝড়ে তছনছ বাগান, এডমুন্ডের হ্যাটট্রিকে ৪-১ জিতে ২২ বছর পর ফের লাল-হলুদের ডুরান্ড, রক্ষণের ভুলে নৌকাডুবি
এ দিকে, গোলের পর বাঁহাতের কব্জিতে ডান হাতে আঙুল রেখে কিছুটা একটা নির্দেশ করছিলেন এডমুন্ড। ম্যাচের সেরা হয়ে সেই সেলিব্রেশনের রহস্যফাঁস করে বলেন, “ম্যাচের আগে আমি এবং বোন প্রার্থনা করেছিলাম যাতে হ্যাটট্রিক করতে পারি। মাঠেই উত্তর দিলাম। ঈশ্বর প্রার্থনায় সাড়া দিয়েছেন। যে উচ্ছ্বাস করেছিলাম তার অর্থ, ঈশ্বরের থেকে ফোন পেয়েছি। ঈশ্বর আমার প্রার্থনায় সাড়া দিয়েছেন সেটাই বোঝাতে চেয়েছিলাম। হ্যাটট্রিক করে গর্বিত। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ট্রফি জেতা। আশা করি এটাই শুরু। ভবিষ্যতে আরও বেশি ট্রফি জিততে চাই।”
মোহনবাগানের কাছে প্রথম ম্যাচে হারের পরেও ফাইনালে উড়িয়ে দিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। এই জয় কি বদলা? ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্ডার জয় গুপ্তার কথায়, “সকলে আমাদের উত্তর মাঠেই দেখতে পেয়েছেন। কোচ বলেছিলেন বিপক্ষকে চাপে রাখতে। সেটাই করেছি। এএফসি ম্যাচে ভাল খেলাও আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। এ ভাবেই ট্রফি জিততে চাই। সামনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আসছে। সেখানেও ভাল খেলতে চাই।”