চিনের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মাও জ়ে দংকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে চাপে পড়ে গিয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপে। চাইতে হয়েছিল ক্ষমা। আপাতত সে সব অতীত। ফের গোলে ফিরেছেন ফরাসি তারকা। লা লিগায় রেসিং স্যান্টানডেরকে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
রেসিংকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে রিয়াল। পেনাল্টি থেকে গোল করেন এমবাপে। দলকে এগিয়ে দেন তিনি। বাকি দুই গোল জুড বেলিংহ্যাম ও ইয়ান ডিয়ামন্ডের। আগের দিন আলাভেসকে ৬-১ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা। তবে তাদের ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে রিয়াল।
লা লিগায় ১১ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সা। ১১ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আতলেতিকো মাদ্রিদ। ১১ ম্যাচে তৃতীয় স্থানে থাকা রিয়ালের পয়েন্ট ২৭। এখনও অনেক ম্যাচ বাকি। বার্সা ও রিয়ালের ব্যবধান ৩ পয়েন্টের। একটি ম্যাচেই সেই ব্যবধান মিটে যেতে পারে।
তবে গত কয়েক দিন ভাল যায়নি এমবাপে ও রিয়াল মাদ্রিদের। দীর্ঘ দিন ধরে সমাজমাধ্যমে একটি মিম রয়েছে। তাতে চিনের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জ়ে দংয়ের ছবিতে বসানো রয়েছে এমবাপের মুখ। মিমটি ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। তার পর থেকে তাঁরা এমবাপের নাম দেন ‘ডিক্টেটর’। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমবাপে জানিয়েছেন, মিমটি তাঁরও পছন্দের। এই পর্যন্ত সমস্যা ছিল না। কিন্তু এর পরই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা একটি বেফাঁস মন্তব্য করে বসেন। এমবাপে বলেন, “উনি যেন কে একটা? মনে হয় চিনের কোনও ডিক্টেটর।”
এমবাপের এই মন্তব্যেই রেগে লাল চিনারা। জ়ে দংকে ‘ডিক্টেটর’ বলা তাঁদের একদমই পছন্দ হয়নি। তাঁদের মতে, সঠিক তথ্য না জেনে এমবাপে জ়েদংকে কটাক্ষ করেছেন। এতে চিনের জাতীয় স্বার্থে আঘাত লেগেছে এবং দেশের অপমান হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বেফাঁস এবং বিতর্কিত মন্তব্য করে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এমবাপে। চিনের অন্তত তিনটি সংস্থা তাঁর সঙ্গে বিজ্ঞাপনের চুক্তি বাতিল করেছে। নিজের ভুল বুঝে ক্ষমা চেয়েছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক। এমবাপে লেখেন, “আমার মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এখন বুঝতে পেরেছি গোটা বিশ্বের কত চিনা এবং চিনা সম্প্রদায়কে দুঃখ দিয়েছি। যাঁরা ব্যথিত, তাঁদের সকলের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। এমন বলার একদমই আমার ইচ্ছা ছিল না। চিনের মানুষ এবং তাদের ইতিহাসের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। আমি মন থেকে দুঃখিত।”
সেখানেই শেষ নয়, তার পর এক বিবৃতিতে ক্ষমা চেয়েছে এমবাপের ক্লাবও। রিয়াল কর্তৃপক্ষ বলেছেন, “আমাদের ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপের একটি মন্তব্যের জন্য চিনের মানুষদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য আমরা তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইছি। চিন এবং সে দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং নাগরিকদের প্রতি আমাদের ক্লাবের যথেষ্ট শ্রদ্ধা রয়েছে। একই সঙ্গে, চিনের যে অসংখ্য সমর্থক রিয়াল মাদ্রিদকে ভালোবাসেন, সমর্থন করেন, তাঁদের আমরা সম্মান জানাই।” রিয়াল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বিভিন্ন সংস্কৃতি মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং বোঝাপড়া রক্ষায় তাঁরা আগ্রহী। চিনের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব আরও জোরদার করার কথাও বলেছেন রিয়াল কর্তৃপক্ষ। সেই সব বিতর্ক সরিয়ে অবশ্য গোলে ফিরেছেন এমবাপে।