একটি সাক্ষাৎকারে চিনের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মাও জ়ে দংকে ‘ডিক্টেটর’ বলেন কিলিয়ান এমবাপে। তাঁর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ চিনারা। তার প্রভাব পড়ল এমবাপের ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদেও। পরিস্থিতি সামাল দিতে চিনাদের কাছে ক্ষমা চাইলেন ক্লাব কর্তৃপক্ষও।
বেফাঁস এবং বিতর্কিত মন্তব্য করে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এমবাপে। চিনের অন্তত তিনটি সংস্থা তাঁর সঙ্গে বিজ্ঞাপনের চুক্তি বাতিল করেছে। নিজের ভুল বুঝে ক্ষমা চেয়েছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক। তাতেও বিশেষ লাভ হয়নি। চিনাদের রোষের মুখে পড়েছে তাঁর ক্লাবও। পরিস্থিতি সামলাতে চিনের কাছে ক্ষমা চাইতে হল রিয়ালকেও। সে দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের প্রতি শ্রদ্ধার কথা জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
এক বিবৃতিতে রিয়াল কর্তৃপক্ষ বলেছেন, ‘‘আমাদের ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপের একটি মন্তব্যের জন্য চিনের মানুষদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য আমরা তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইছি। চিন এবং সে দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং নাগরিকদের প্রতি আমাদের ক্লাবের যথেষ্ট শ্রদ্ধা রয়েছে। একই সঙ্গে, চিনের যে অসংখ্য সমর্থক রিয়াল মাদ্রিদকে ভালোবাসেন, সমর্থন করেন, তাঁদের আমরা সম্মান জানাই।’’ রিয়াল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বিভিন্ন সংস্কৃতি মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং বোঝাপড়া রক্ষায় তাঁরা আগ্রহী। চিনের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব আরও জোরদার করার কথাও বলেছেন রিয়াল কর্তৃপক্ষ।
ভুল বুঝতে পেরে মঙ্গলবার রাতেই এমবাপে লেখেন, “আমার মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এখন বুঝতে পেরেছি গোটা বিশ্বের কত চিনা এবং চিনা সম্প্রদায়কে দুঃখ দিয়েছি। যাঁরা ব্যথিত, তাঁদের সকলের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। এমন বলার একদমই আমার ইচ্ছা ছিল না। চিনের মানুষ এবং তাদের ইতিহাসের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। আমি মন থেকে দুঃখিত।”
দীর্ঘ দিন ধরে সমাজমাধ্যমে একটি মিম রয়েছে। তাতে চিনের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জ়ে দংয়ের ছবিতে বসানো রয়েছে এমবাপের মুখ। মিমটি ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। তার পর থেকে তাঁরা এমবাপের নাম দেন ‘ডিক্টেটর’। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমবাপে জানিয়েছেন, মিমটি তাঁরও পছন্দের। এই পর্যন্ত সমস্যা ছিল না। কিন্তু এর পরই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা একটি বেফাঁস মন্তব্য করে বসেন। এমবাপে বলেন, ‘‘উনি যেন কে একটা। মনে হয় চিনের কোনও ডিক্টেটর।’’
আরও পড়ুন:
এমবাপের এই মন্তব্যেই রেগে লাল চিনারা। জ়ে দংকে ‘ডিক্টেটর’ বলা তাঁদের একদমই পছন্দ হয়নি। তাঁদের মতে, সঠিক তথ্য না জেনে এমবাপে জ়েদংকে কটাক্ষ করেছেন। এতে চিনের জাতীয় স্বার্থে আঘাত লেগেছে এবং দেশের অপমান হয়েছে।