নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ড্র করল মোহনবাগান। ১-১ ফলে শেষ হল খেলা। এই ড্রয়ের পরেও গ্রুপ শীর্ষে থেকে আইএফএ শিল্ডের নক আউটে উঠল সবুজ-মেরুন। শেষ চারে জায়গা করে নিল পাহাড়ের দলও।
তবে জেতা উচিত ছিল মোহনবাগানের। ঘরের মাঠে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করল তারা। সবচেয়ে ভাল সুযোগ হাতছাড়া করলেন মিগুয়েল ফিগুয়েরা। পেনাল্টি নষ্ট করেন তিনি। নইলে জিতেই মাঠ ছাড়ত মোহনবাগান।
এই ম্যাচে শুরু থেকে জেমি ম্যাকলারেনের বদলে লি আরউইনকে খেলান মোহনবাগানের কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিস। ছিলেন ডেজ়ান দ্রাজিচও। শুরুতেই গোল পেতে পারত বাগান। ৯ মিনিটের মাথায় সমির জ়েলকোভিচের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে নর্থইস্টের গোলরক্ষক দীপেশ চৌহানের মাথার উপর দিয়ে চিপ করেন আরউইন। কিন্তু বল বারের উপর দিয়ে চলে যায়।
প্রথমার্ধে বেশ কয়েক বার আক্রমণ করে বাগান। ঘরের মাঠে সবুজ-মেরুন ফুটবলারেরা যে বেশি আক্রমণ করবেন, সেটা জানত নর্থইস্ট। তাই রক্ষণে চার জনকে রেখেছিল তারা। ফলে চেষ্টা করেও গোল করতে পারেনি বাগান। গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দু’দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে জোড়া বদল করেন দিমপেরিস। নামিয়ে দেন মিগুয়েল ও ম্য়াকলারেনকে। তার ফলও মেলে হাতেনাতে। ৪৯ মিনিটের মাথায় দ্রাজিচের লম্বা বল হেড করে নামিয়ে দেন ম্যাকলারেন। সেই বলে আরউইনের শট বাঁচাতে পারেননি দীপেশ। এগিয়ে যায় মোহনবাগান। সবুজ-মেরুন জার্সিতে প্রথম দুই ম্য়াচেই গোল করলেন স্কটিশ ফুটবলার।
গোল খাওয়ার পর শোধ করার মরিয়া চেষ্টা শুরু করে নর্থইস্ট। কিন্তু সুবিধা করতে পারছিল না তারা। তার মাঝেই প্রতিআক্রমণে সুযোগ তৈরি করে বাগান। দ্রাজিচের শট থইবা সিংহের হাতে লাগায় পেনাল্টি পায় তারা। কিন্তু মিগুয়েল গোল করতে পারেননি। তাঁর দুর্বল শট বাঁচিয়ে দেন দীপেশ।
আরও পড়ুন:
দু’মিনিট পর বাগানকে ধাক্কা দেয় নর্থইস্ট। দ্রুত প্রতিআক্রমণ থেকে বক্সে ঢুকে বিশাল কাইথকে পরাস্ত করে গোল করেন এথিয়ান গঞ্জালেজ়। সমতা ফেরায় পাহাড়ের দল।
কিছু ক্ষণ পরেই হ্যামস্ট্রিংয়ে সমস্যা হওয়ায় মাঠ ছাড়েন ম্যাকলারেন। তাঁর চোট চিন্তায় রাখবে দিমপেরিসকে। বাকি সময়েও সুযোগ তৈরি করেন মোহনবাগান। শেষ মুহূর্তে মিগুয়েলের শট ভাল বাঁচান দীপেশ। গোলরক্ষকের হাতে খেলা ড্র করে নর্থইস্ট।
এই ম্যাচ ড্র হওয়ায় মোহনবাগান ও নর্থইস্ট দু’দলেরই পয়েন্ট ৪। কিন্তু গোলপার্থক্যে শীর্ষে মোহনবাগান। এখন দেখার, সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গল না পঞ্জাব এফসি, কাদের বিরুদ্ধে খেলতে হয় তাদের।