জমে উঠেছে ফিফা পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপ। এ বারের প্রতিযোগিতায় যে বলটি ব্যবহার হচ্ছে তার পোশাকি নাম ‘ট্রাইওন্ডা’। তা তৈরি করেছে বিখ্যাত ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থা অ্যাডিডাস। ১৯৭০ সাল থেকে টানা ১৫ বার বিশ্বকাপের বল নির্মাণের দায়িত্ব পাওয়ার রেকর্ড রয়েছে তাদের ঝুলিতে। আগের বলগুলির থেকে কোথায় আলাদা ‘ট্রাইওন্ডা’? আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে রইল তার হদিস।
অ্যাডিডাসের তৈরি বিশ্বকাপের বলটি কেটে ফেললে তার ভিতরে মিলবে একটি সেন্সর। সেটা প্রতি সেকেন্ড ৫০০ বার তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। খেলার সময় ফুটবলারদের লাথিতে ওই সেন্সরের ভেঙে যাওয়ার কথা। সেটা আটকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থা। কাগজের মতো পাতলা করে সেন্সরটিকে বানিয়েছে তারা।
অ্যাডিডাস জানিয়েছে, ‘ট্রাইওন্ডা’র সেন্সরের ওজন মাত্র ১৪ গ্রাম। এটি লাগানোয় ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে বল। সেই সমস্যা মেটাতে উল্টো দিকে বসানো হয়েছে তিনটি কাউন্টার প্যানেল। খেলার সময় সামান্য স্পর্শ পেলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে ওই সেন্সর। বলে দেয় মাঠের ঠিক কোথায় আছে ‘ট্রাইওন্ডা’।
এ ছাড়া মাঠে বল লাফালেই সুনির্দিষ্ট একটি সিগন্যাল পাঠাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সেন্সর। এ ছাড়া ‘ট্রাইওন্ডা’র ভিতরে থাকা প্রযুক্তির জেরে অফসাইড চিহ্নিতকরণ বা বল গোলের রেখা অতিক্রম করেছে কি না, এই ধরনের সূক্ষ্ম বিষয়গুলি বুঝতে সুবিধা হচ্ছে। ফলে অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে এ বারের ফিফা বিশ্বকাপ।
গত বছরের (২০২৫ সাল) অক্টোবরে অ্যাডিডাসের নতুন বলটি উদ্বোধন করেন পাঁচ বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার। তাঁরা হলেন, জার্মানির য়ুরগেন ক্লিন্সম্যান, ব্রাজিলের কাফু, ইটালির দেল পিয়েরো, স্পেনের জ়াভি এবং ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান। অনুষ্ঠান মঞ্চে জিদানের হাতে ছিল ‘ট্রাইওন্ডা’। বাকিরা যে বছর বিশ্বকাপ জিতেছিলেন, সেই বছরের বল হাতে দাঁড়িয়েছিলেন।