আইফোনে এ বার চিনা র্যাম? কৃত্রিম মেধা বা এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রযুক্তির দাপটে সেই পরিকল্পনা করছে অ্যাপ্ল। তার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কাছে অনুমতি চেয়েছে ওই বহুজাতিক টেক জায়ান্ট। কেন র্যামের জন্য বেজিঙের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে তাদের? আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে রইল তার হদিস।
মার্কিন গণমাধ্যমগুলির দাবি, সিএক্সএমটি নামের একটি চিনা সংস্থার থেকে আইফোনের জন্য বিপুল পরিমাণে ডি র্যাম কিনতে চাইছে অ্যাপ্ল। তবে এই বরাত দেওয়া তাদের পক্ষে একেবারেই সহজ নয়। তার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের অনুমতি লাগবে তাদের। যুক্তরাষ্ট্রের টেক জায়ান্টটির র্যামের জন্য বেজিঙের দিকে তাকানোর নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারণ।
আইফোনে সাধারণত দক্ষিণ কোরীয় (রিপাবলিক অফ কোরিয়া বা আরওকে) দু’টি সংস্থার র্যাম ব্যবহার করে থাকে অ্যাপ্ল। সেগুলি হল, স্যামসাং এবং এসকে হাইনিক্স। কিন্তু, বর্তমানে ডি র্যামের উৎপাদন যথেষ্ট কমিয়ে দিয়েছে তারা। সেই জায়গায় কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তির তথ্যভান্ডারের (ডেটা সেন্টার) জন্য এইচবিএম মেমোরি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ওই দুই কোম্পানি।
সূত্রের খবর, বর্তমানে খুব কম পরিমাণে ডি র্যাম অ্যাপ্লকে সরবরাহ করছে স্যামসাং। দক্ষিণ কোরীয় সংস্থাগুলির দাবি, এই যন্ত্রাংশ তৈরি করে খুব একটা লাভ হচ্ছে না তাদের। সেই কারণেই এআই সংস্থাগুলির সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে তারা। এর জেরে ব্যাহত হচ্ছে আইফোনের উৎপাদন।
আরও পড়ুন:
এই পরিস্থিতিতে অ্যাপ্লের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে চিনা সংস্থা সিএক্সএমটি। আইফোনের জন্য ডি র্যাম সরবরাহে রাজি আছে তারা। কিন্তু, তার জন্য চাই ট্রাম্প প্রশাসনের সবুজ সঙ্কেত। এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত যা দেয়নি হোয়াইট হাউস।
মার্কিন প্রশাসনের থেকে অ্যাপ্লের এই অনুমতি পাওয়া বেশ কঠিন। কারণ, চিনের বিরুদ্ধে রয়েছে অন্যের ঘরে আড়ি পাতার ভূরি ভূরি অভিযোগ। আমেরিকায় বহুল পরিমাণে ব্যবহৃত হয় আইফোন। প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদেরও প্রথম পছন্দের তালিকায় রয়েছে এই ডিভাইস। ফলে বেজিঙের সংস্থার র্যাম কেনায় ট্রাম্প সরকার সিলমোহর দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার।