ত্রিসীমানায় নেই কোনও টাওয়ার। তার পরেও দিব্যি কাজ করবে মোবাইল ফোন। শুধু তা-ই নয়, পাঠানো যাবে ভয়েস নোটও! এ-হেন মুঠোবন্দি ডিভাইস এ বার বাজারে আনছে ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (বিএসএনএল)। এক কথায়, সরকারি সংস্থাটির হাত ধরে এ দেশের আমজনতা স্যাটেলাইট ফোনের দুনিয়ায় পা রাখতে চলেছে বললে অত্যুক্তি হবে না।
বিএসএনএলের স্যাটেলাইট ফোনের সঙ্গে আর পাঁচটা সাধারণ স্মার্টফোনের যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। কারণ, প্রচলিত সেলুলার নেটওয়ার্কের মতো করে সংশ্লিষ্ট ডিভাইসটির নকশা তৈরি করা হয়নি। কৃত্রিম উপগ্রহ ভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকে স্যাটেলাইট ফোন। আর তাই টাওয়ারবিহীন এলাকাতেও দিব্যি কাজ করে এই মুঠোবন্দি ডিভাইস।
বিএসএনএল সূত্রে খবর, দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় টেলি যোগাযোগ পৌঁছে দেওয়ার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে এই ফোন। কারণ, এখনও সেখানে নেই কোনও মোবাইল টাওয়ার। তবে এ দেশে স্যাটেলাইট ফোন কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রিত। ফলে যে কোনও ব্যক্তি সরকারি সংস্থাটি নির্মিত ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন, এমনটা নয়।
জাতীয় স্তরের গণমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএসএনএলের স্যাটেলাইট ফোন হাতে পেতে টেলি যোগাযোগ দফতরে করতে হবে আবেদন। সেখানকার অনুমতি মিললে তবেই কেনা যাবে ওই ডিভাইস। এর দাম ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ১৬৬ টাকা বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে অবশ্য করের টাকাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বহুজাতিক কৃত্রিম উপগ্রহ ভিত্তিক নেটওয়ার্ক সরবরাহকারী সংস্থা ইনমারস্যাটের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই স্যাটেলাইট ফোন তৈরি করেছে বিএসএনএল। এর বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। টেলি যোগাযোগ পরিষেবার বাইরেও কাজ করবে এটি। দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে পাঠানো যাবে ভয়েস কল। বিপদে পড়লে এসওএসের (সেভ আওয়ার সোল) জরুরি সাহায্য চাইতে পারবেন গ্রাহক।
তা ছাড়া প্রতিকূল পরিবেশ যাতে স্যাটেলাইট ফোনটি কাজ করে সেই কথা মাথায় রেখে একে অত্যন্ত টেকসই ভাবে তৈরি করা হয়েছে। এক বার চার্জে লম্বা সময় কাজ করবে এর ব্যাটারি। মূলত, প্রতিরক্ষা, সমুদ্রে পাড়ি দেওয়া মৎস্যজীবী বা নাবিক, দুর্যোগ মোকাবিলা, খনিতে কর্মরত ব্যক্তি এবং দুর্গম এলাকার অভিযাত্রীদের জন্য এই মুঠোবন্দি ডিভাইসটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।