‘ফোল্ডেবল’ (এমন কিছু যা ভাঁজ করা যায়) ফোন ‘আইফোন ডুয়ো’ বাজারে আনল প্রযুক্তি সংস্থা অ্যাপ্ল। এর মাধ্যমে তারা এমন এক বাজারে প্রবেশ করল, যেখানে এত দিন একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল স্যামসাঙের। যেমনটা আভাস পাওয়া গিয়েছিল, বাস্তবেও ফোনটি ঠিক তেমনই। স্যামসাঙের সাম্প্রতিক ফোল্ডেবল ফোন যেমন ‘স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮’-এর আদলে ‘আইফোন ডুয়ো’তেও লম্বা ও সরু গঠনের পরিবর্তে খাটো ও চওড়া ‘বুক স্টাইল’ বা বইয়ের মতো নকশা বেছে নেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যবহারকারীরা একটি ফোনেই দু’টি স্ক্রিন ব্যবহারের সুবিধা পাবেন। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকশ্যে এলেও ‘আইফোন ডুয়ো’ বাজারে বিক্রির জন্য পাওয়া যাবে অক্টোবরের শেষের দিকে।
আরও পড়ুন:
কিন্তু কত দাম করা হয়েছে অ্যাপ্লের এই বিশেষ ফোনের? জানা গিয়েছে অ্যাপ্লের ফোল্ডেবল ফোনটির দাম ভারতীয় মুদ্রায় ২,৯৯,৯০০ টাকা থেকে শুরু হচ্ছে। অর্থাৎ, ফোনটির ‘বেসিক মডেল’ কিনতে ভারতীয় গ্রাহকদের প্রায় তিন লক্ষ টাকা খসাতে হবে। তিন লক্ষের ‘আইফোন ডুয়ো’তে ২৫৬ জিবি স্টোরেজ থাকছে এবং এর বিক্রি শুরু হবে ২৩ অক্টোবর। ১৬ অক্টোবর থেকে এর প্রি-অর্ডার নেওয়া শুরু হবে। ২ টেরাবাইট স্টোরেজযুক্ত সর্বোচ্চ ভ্যারিয়েন্টটির দাম হবে ৪,৪৯,৯০০ রুপি অর্থাৎ, প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকা।
অ্যাপ্লের সিইও জন টার্নাস বলেছেন, “আইফোন ডুয়ো হল মূল আইফোনের পর থেকে আইফোনের ইতিহাসে সবচেয়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। সম্পূর্ণ নতুন নকশা এই ফোনটির। ব্যবহারের জন্যও সহজ। এটি প্রমাণ করে যে হার্ডওয়্যার এবং সফ্টঅয়্যার যখন সমন্বিত ভাবে তৈরি করা হয়, তখন অসাধারণ কিছু সৃষ্টি করা সম্ভব। পাশাপাশি এটি ফোল্ডেবল বা ভাঁজ করা ফোন ব্যবহারের ধারণাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করবে। সব আইফোনের মধ্যে এটির ডিসপ্লে সবচেয়ে বড় হওয়া সত্ত্বেও এটি অনায়াসেই পকেটে এঁটে যায়। ফোনটিতে শক্তিশালী ‘এ২০ প্রো’ চিপ রয়েছে, যা এক জন গ্রাহককে যে কোনও পরিস্থিতিতে এতে একসঙ্গে একাধিক কাজ করতে সাহায্য করবে।’’
‘আইফোন ডুয়ো’ হল অ্যাপ্লের প্রথম ফোল্ডেবল বা ভাঁজ করা যায় এমন ফোন। এটি সাধারণ আইফোনের গঠনশৈলী বা ‘ফর্ম ফ্যাক্টর’-কে নতুন রূপ দিয়েছে। এতে অ্যারোস্পেস-গ্রেড টাইটানিয়াম ফ্রেমের ভিতরে একটি বিশাল ৭.৬ ইঞ্চির ফোল্ডেবল স্ক্রিন এবং একটি ৫.৪-ইঞ্চির বাইরের ডিসপ্লে যুক্ত করা হয়েছে। আরও নির্দিষ্ট ভাবে বলতে গেলে, আইফোন ডুয়োর ভিতরের ডিসপ্লেটি আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স-এর ডিসপ্লের মাত্র ৫০ শতাংশ। অন্য দিকে বাইরের স্ক্রিনটি ৫.৪ ইঞ্চির। উভয় স্ক্রিনেই অ্যাপ্ল পেনসিল ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে।
‘আইফোন ডুয়ো’র কাঠামো বা ‘গ্রেড ৫ টাইটানিয়াম’ এবং ‘সিরামিক শিল্ড ২’-এর সমন্বয়ে তৈরি। ‘স্টার হোয়াইট’ এবং ‘নাইট স্কাই’, আপাতত এই দু’টি রঙে পাওয়া যাবে ফোনটি। অ্যাপ্লের মতে, যে কোনও ভাঁজযোগ্য ডিভাইসের মূল চালিকাশক্তি হল এর কব্জা বা ‘হিঞ্জ’। ‘আইফোন ডুয়ো’র হিঞ্জে রয়েছে ‘কাস্টম ভেরিয়েবল টর্ক’ প্রোফাইল, কার্বন ফাইবারের প্লেট এবং বিশেষ চুম্বক ব্যবস্থা, যা ফোনটিকে পুরোপুরি সমান ভাবে ভাঁজ হতে সহায়তা করে। একটি বিশেষ ‘মাস্কলেস লেজ়ার লিথোগ্রাফি পলিমার’ ব্যবহারের মাধ্যমে এর ভাঁজের দাগ বা ‘ক্রিস’ যথাসম্ভব কমিয়ে আনা হয়েছে। এর সাইড বাটনে ‘টাচ আইডি’ যুক্ত করা হয়েছে এবং ভিতরের ফেসটাইম ক্যামেরাটি সক্রিয় না করা পর্যন্ত পর্দার নীচে সম্পূর্ণ অদৃশ্য অবস্থায় থাকে।
আরও পড়ুন:
আইফোন ডুয়ো-তে রয়েছে ‘এ২০ প্রো’ চিপ, যা আইফোন ১৮ প্রো মডেলগুলিতেও রয়েছে। এটি অ্যাপ্লের ‘ডাইনামিক্যালি অ্যাডাপ্টিভ আইওএস ২৭’ (আইওএস ২৭) সফ্টঅয়্যারে চলে। ডুয়োর সফ্টঅয়্যার ব্যবহার করে একই সঙ্গে দু’টি হোম স্ক্রিন দেখা, পাশাপাশি দু’টি অ্যাপ চালানো কিংবা নীচের অংশে কাজ করার সময় উপরের অংশে ভিডিয়ো পিন করে রাখার মতো সুবিধা রয়েছে।
ফটোগ্রাফির জন্য ‘আইফোন ডুয়ো’তে রয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের ‘ফিউশন’ মেন ক্যামেরা এবং ৪৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা। এতে ‘ডুও প্রিভিউ’-এর মতো বৈশিষ্ট্য (ফিচার) রয়েছে, যার মাধ্যমে ছবির ফ্রেমিং কেমন হচ্ছে তা বাইরের ডিসপ্লেতেই দেখে নেওয়া যায়। এ ছাড়া ‘স্মার্টটেক’ ফিচারটি এআই ব্যবহার করে সবার মুখে হাসি ফুটে ওঠার মুহূর্তেই স্বয়ংক্রিয় ভাবে ছবি তুলে ফেলে।
উল্লেখ্য, অ্যাপ্ল তাদের ‘সারপ্রাইজ় অ্যান্ড শাইন’ ইভেন্টে আইফোন ১৮ প্রো এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সও প্রকাশ্যে এনেছে। গত বছরের আইফোন ১৭ প্রো সিরিজ়ের তুলনায় এগুলিতে বেশ কিছু হার্ডওয়্যার-সংক্রান্ত উন্নয়ন আনা হয়েছে। ভারতে আইফোন ১৮ প্রো-এর দাম শুরু হচ্ছে ১,৬৪,৯০০ টাকা থেকে এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম শুরু হচ্ছে ১,৭৯,৯০০ টাকা থেকে। অ্যাপ্লের আইফোন ১৮ প্রো এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স মডেলগুলি কালো, রুপোলি, গ্লেসিয়ার এবং নতুন বারগান্ডি রঙে পাওয়া যাচ্ছে। আইফোন ১৮ প্রোতে রয়েছে ৬.৩ ইঞ্চির ডিসপ্লে। ২৫৬ জিবি, ৫১২ জিবি, ১ টেরাবাইট এবং ২ টেরাবাইট— চারটি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে ফোনটির। অন্য দিকে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স-এ রয়েছে ৬.৯ ইঞ্চির ডিসপ্লে। এটিও চারটি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে।
নতুন প্রো মডেলগুলি অ্যাপলের সর্বাধুনিক প্রজন্মের ‘এ২০ প্রো’ চিপ দ্বারা চালিত এবং এতে সংস্থার নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘সি২’ মডেম ব্যবহার করা হয়েছে। অ্যাপলের দাবি অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রো একবার চার্জে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে সক্ষম। অন্য দিকে, অপেক্ষাকৃত বড় আকারের আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স-এর ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ৩০ ঘণ্টা।