ব্যয় সঙ্কোচনের মুখে কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিল মোবাইল-সহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য প্রস্তুতকারী সংস্থা স্যামসাঙের ভারতীয় শাখা। সংস্থার তরফে প্রায় ১০০ জন কর্মকর্তাকে চাকরি ছাড়তে বলা হয়েছে বলে খবর। তেমনটাই উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান খরচ, গ্রাহকদের চাহিদা কমে যাওয়া এবং সামগ্রিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার চাপে স্যামসাং ইন্ডিয়ার টেলিভিশন ও গৃহস্থালি সরঞ্জাম (হোম অ্যাপ্লায়েন্স) ব্যবসার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি তাদের কর্মীসংখ্যা কমাতে শুরু করেছে।
একাধিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংস্থাটি এখনও পর্যন্ত ৮০ থেকে ১০০ জন কর্মকর্তাকে চাকরি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। ধাপে ধাপে এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। প্রভাবিত হবেন বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা। এর মধ্যে সদর দফতরের পরিচালক ও টিম লিড থেকে শুরু করে শাখা ও এলাকা ব্যবস্থাপকরাও (ব্রাঞ্চ ও এরিয়া ম্যানেজার) রয়েছেন।
আরও পড়ুন:
স্যামসাং ইন্ডিয়ার ব্যবসার জন্য এমন এক সময়ে এই পদক্ষেপ করা হল, যখন প্রতিষ্ঠানটি বেশ কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এক দিকে মেমোরি চিপের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়া, অন্য দিকে ভারতীয় রুপির দাম কমে যাওয়া, স্মার্টফোনের বিক্রি হ্রাস এবং কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি সংস্থাটির বিক্রি এবং মুনাফার উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
জানা গিয়েছে, বর্তমানে স্যামসাঙের টেলিভিশন এবং গৃহস্থালি সরঞ্জাম (হোম অ্যাপ্লায়েন্স) ব্যবসার উপরই এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে এর ব্যাপ্তি আরও বড় হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, স্যামসাঙের বৈদ্যুতিন (ইলেকট্রনিক্স) সরঞ্জামের ব্যবসার আওতাধীন বিক্রয় এবং বিপণন বিভাগের ২৫% পর্যন্ত কর্মী ছাঁটাইয়ের মুখে পড়তে পারেন। এর মধ্যে সংস্থার নিজস্ব কর্মীরা যেমন রয়েছেন, তেমনই বিভিন্ন কর্মী সরবরাহকারী সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত। স্মার্টফোন বিক্রয় বিভাগের বিশাল কর্মীবাহিনীর বাইরেও স্যামসাঙের অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম বিক্রয় দলে প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ জন কর্মকর্তা রয়েছেন।
আরও পড়ুন:
ছাঁটাইয়ের শিকার এক কর্মী সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, গত কয়েক দিন ধরে অল্প অল্প করে প্রতিদিন বরখাস্তের চিঠি দেওয়া হচ্ছে এবং কোনও কোনও কর্মীকে নোটিস পিরিয়ড বা বাধ্যতামূলক কাজের সময়সীমা পূর্ণ না করেই চলে যেতে বলা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্যামসাং ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিন মাসের বেতনের পাশাপাশি চাকরির প্রতিটি বছরের জন্য অতিরিক্ত এক মাসের বেতন দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে।
স্যামসাং ইন্ডিয়া বর্তমানে নানাবিধ চাপের মুখে রয়েছে। সংস্থাটিকে মেমোরি চিপের অত্যধিক মূল্যবৃদ্ধির পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে। পাশাপাশি, চলতি অর্থবর্ষে ভারতীয় রুপির দাম প্রায় ১০% কমে যাওয়ায় স্মার্টফোন ও অন্যান্য বৈদ্যুতিন পণ্যের দাম বেড়ে গিয়েছে। এমন এক সময়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যখন ভারতের স্মার্টফোন বাজার নিজেই কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে উল্লিখিত শিল্পের বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, স্মার্টফোন বিক্রির পরিমাণ বছরে ১১-১২% হারে হ্রাস পেয়েছে। স্যামসাঙের জন্য স্মার্টফোন ব্যবসাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভারতে তাদের মোট আয়ের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই আসে মোবাইল ফোন ব্যবসা থেকে।
পাশাপাশি এ বছর জোরদার প্রচেষ্টা চালানো সত্ত্বেও উচ্চমূল্যের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের বাজারে নিজেদের অবস্থান সম্প্রসারণ করতেও হিমশিম খাচ্ছে সংস্থাটি। কাঁচামালের উচ্চমূল্যও সংস্থাটির গৃহস্থালি ইলেকট্রনিক পণ্য ব্যবসার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যেই ছাঁটাই-খড়্গ হাতে তুলে নিল স্যামসাং ইন্ডিয়া। তবে বর্তমান যে কর্মী ছাঁটাই হচ্ছে, সেটাই হয়তো শেষ নয়। মনে করা হচ্ছে, দীপাবলির পর আর একটি ধাপে ছাঁটাই হতে পারে গৃহস্থালি সরঞ্জাম ও টেলিভিশন ব্যবসার ক্ষেত্রে।