ফ্যানের জন্যেই কি বেশি আসছে বিদ্যুতের বিল? প্রতি মাসে খরচ হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা? সমস্যার সমাধানে অনেকেই কিনছেন বিএলডিসি ফ্যান। নতুন প্রযুক্তির বিদ্যুৎসাশ্রয়ী এই হাওয়া-যন্ত্রের চাহিদা সেই কারণেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে বললে অত্যুক্তি হবে না। তবে বিএলডিসি ফ্যান ব্যবহারের জটিলতাও নেহাত কম নয়।
বিএলডিসি অর্থাৎ ব্রাসলেস ডিরেক্ট কারেন্ট। এর সঙ্গে সাধারণ ফ্যানের বিস্তর ফারাক রয়েছে। গৃহস্থ বাড়িতে ফ্যান চলার জন্য ৭০-৭৫ ওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। সেখানে ২৮-৩৫ ওয়াটেই চলতে পারে বিএলডিসি ফ্যান। অর্থাৎ এই হাওয়া-যন্ত্র ব্যবহার করলে ৭০-৮০ শতাংশ তড়িৎ খরচ বাঁচাতে পারবেন গ্রাহক।
কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে গরমকালে গড়ে টানা ৮-১০ ঘণ্টা ফ্যান চলে। আর তাই সাধারণের জায়গায় বিএলডিসি থাকলে বিদ্যুতের বিল বাবদ মাসে ৭০-১০০ টাকা কম খরচ হবে গ্রাহকের। বাড়িতে ফ্যানের সংখ্যা তিন বা চার হলে এই অঙ্ক বেড়ে ২০০-৪০০ টাকা পর্যন্ত হাতে পারে। অর্থাৎ বছরে অন্তত ১,০০০ টাকা সাশ্রয় হবে তাঁরা।
বিদ্যুতের বিল বাদ দিলে বিএলডিসি ফ্যানের কিছু বাড়তি সুবিধা রয়েছে। সেগুলি হল, এই ফ্যান ঘোরার সময় সে ভাবে পাওয়া যায় না কোনও শব্দ। তা ছাড়া রিমোটে চালানো যায় সংশ্লিষ্ট হাওয়া-যন্ত্র। লোডশেডিং হলে ইনভার্টারের সাহায্যে দীর্ঘ সময় চলতে পারে এই ফ্যান। যন্ত্রগুলির জীবনীশক্তিও সাধারণ ফ্যানের চেয়ে বেশি বলে মনে করেন আমজনতার একাংশ।
আরও পড়ুন:
তবে বিএলডিসি ফ্যানের বেশ কিছু অসুবিধাও রয়েছে। প্রথমত, এর দাম সাধারণ ফ্যানের চেয়ে বেশি। দ্বিতীয়ত, খারাপ হলে এলাকার কোনও মেকানিককে ডেকে সারানো যাবে না বিএলডিসি ফ্যান। সে ক্ষেত্রে সার্ভিস সেন্টারে পাঠাতে হবে সংশ্লিষ্ট হাওয়া-যন্ত্র। পাশাপাশি, এর মেরামতিতেও ভাল খরচ করতে হবে গ্রাহককে।