একাধিক গণমাধ্যম সূত্রে খবর, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ম্যাগলেভ ট্রেনের লাগাতার পরীক্ষা চালাচ্ছে চিন। ছ’মাসের মধ্যে এই নিয়ে তৃতীয় বারের জন্য স্বল্প-দূরত্বের পরীক্ষায় নজির গড়ল ওই রেলগাড়ি। দ্রুত গতির এই ট্রেনটিতে নেই কোনও চাকা। চৌম্বকীয় শক্তির উপর ভর করে রেললাইন উপর ভেসে চলতে থাকে সেটি। শক্তিশালী চুম্বক ট্রেনটিকে ট্র্যাকের ওপর সামান্য ভাসিয়ে রাখে। চাকার সঙ্গে রেলের ঘর্ষণ না থাকায় গতির ঝড় তুলতে কোনও সমস্যা হয় না এই ট্রেনের।
‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টে’ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনের হুবেই প্রদেশের দংহু গবেষণাগারে এক কিলোমিটার লম্বা রেললাইনে ট্রেনটির পরীক্ষা চালান সেখানকার গবেষকদল। ১.১ টন ওজনের অত্যাধুনিক ট্রেনটি স্থির অবস্থা থেকে মাত্র ৫.৩ সেকেন্ডে মধ্যেই ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছে যায়। তবে যাত্রী পরিবহণের কথা ভেবে এই পরীক্ষামূলক ট্রেনটিকে তৈরি করা হয়নি। মূলত ভবিষ্যতের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা ভেবেই এটি উদ্ভাবন করেছেন চৈনিক গবেষকেরা।
সূত্রের খবর, আগামী দিনে মহাকাশ গবেষণা, অন্তরীক্ষে রকেট পাঠানো এবং অন্যান্য উচ্চ-গতির পরীক্ষায় ম্যাগলেভকে ব্যবহার করতে পারে বেজিং। গতির ঝড় তুলতে পারলেও প্রায় ২০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে এটিকে নিয়ন্ত্রিত ভাবে থামাতে সক্ষম হয়েছেন বেজিঙের গবেষকেরা। এই ব্রেকিং পরীক্ষায় সাফল্য পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রবল গতিতে চলা কোনও ট্রেনকে নিরাপদে থামানোর জন্য অত্যন্ত উন্নত ও নির্ভরযোগ্য ব্রেকিং ব্যবস্থা প্রয়োজন পড়ে।
আরও পড়ুন:
এই ট্রেন প্রথম রেকর্ড গড়ে ২০২৫ সালের জুন মাসে। মাত্র ৭ সেকেন্ডে প্রায় ৬৫০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে পৌঁছোয় সেটি। গবেষকরা পরবর্তী কালে এর গতি বাড়িয়ে প্রায় ৭০০ কিমি/ঘণ্টা এবং তার পর ৭৯৮ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত নিয়ে যান। চিন ও জাপানে যাত্রিবাহী ম্যাগলেভ ট্রেনগুলি সাধারণত ঘণ্টায় প্রায় ৩২০ কিলোমিটার গতিতে চলে। চিনের দ্রুততম বাণিজ্যিক উচ্চ-গতির ট্রেনগুলি ঘণ্টায় প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার গতি তুলতে পারে।