দিনভর গ্রাহকের উপরেই কড়া নজরদারি। রেকর্ড হচ্ছে তাঁর চলাফেরা। গোপনীয়তার অধিকার প্রশ্নে এ বার কাঠগড়ায় খোদ আইফোন! ব্যবহারকারীদের একাংশের অভিযোগ, সফ্টঅয়্যার আপডেটের নামে ডিভাইসে বসানো হচ্ছে গুপ্ত ট্র্যাকার। ফলে তাঁদের যাবতীয় তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার মেগা সুযোগ রয়েছে মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যাপ্লের।
সম্প্রতি, আইওএস ২৬-এর সফ্টঅয়্যার আপডেট করেন যাবতীয় আইফোন গ্রাহক। তার পরই এর মাধ্যমে ডিভাইসে গুপ্ত ট্র্যাকার বসানোর খবর ছড়িয়ে পড়ে। অ্যাপ্ল নির্মিত ফোনে একটি বিশেষ প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এর পোশাকি নাম ‘সিগনিফিকেন্ট লোকেশান্স’। একে নিয়েই তুঙ্গে উঠেছে বিতর্ক।
আইফোনের ভিতরে থাকা এই প্রযুক্তিটি বহু তথ্য মনে রাখতে পারে। এর জেরে দিনের মধ্যে কোথায়, কত বার ঘন ঘন গ্রাহক যাতায়াত করেছেন, তা দিব্যি রেকর্ড হয়ে থাকে। সেটা ব্যবহারকারীর বাড়ি, কফি শপ, জিম বা অফিসের লোকেশান হতে পারে। তবে তার উপর ভিত্তি করে মার্কিন টেক জায়ান্টটি নজরদারি চালাচ্ছে, এমনটা নয়।
টেক বিশ্লেষকদের দাবি, আইফোনের এই প্রযুক্তিটি ডিভাইসের মধ্যে যাবতীয় তথ্য রেকর্ড করতে পারে। ফলে ইচ্ছা করলেই সেটা অ্যাপ্লের পক্ষে হস্তগত করা সম্ভব নয়। তা ছাড়া তথ্য রেকর্ড হয় ‘এন্ড টু এন্ড এনক্রিপ্টেড’ মোডে। ফলে মার্কিন টেক জায়ান্টটির পক্ষে সেটা পড়ে ফেলা এক রকম অসম্ভব।
আরও পড়ুন:
এর পরেও ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয় থাকলে গ্রাহক ওই প্রযুক্তিটি বন্ধ রাখতে পারেন। তার জন্য প্রথমে সেটিংসে যেতে হবে তাঁকে। সেখান থেকে প্রাইভেসি অ্যান্ড সিকিউরিটিজ় বিকল্পটি বেছে নেবেন তিনি। এর ভিতরে মিলবে লোকেশান সার্ভিসেস। সেখান থেকে সিস্টেম সার্ভিসেসে ঢুকলে সিগনিফিকেন্ট লোকেশান বিকল্পটি চোখে পড়বে তাঁর।
বিশেষজ্ঞদের কথায়, ফেস আইডি বা পাসওয়ার্ড দিয়ে গ্রাহকের ওই বিকল্পটি খোলা উচিত। তার পর অফ সুইচ স্পর্শ করলেই বন্ধ হয়ে যাবে সিগনিফিকেন্ট লোকেশান। এর পাশাপাশি পুরনো তথ্য মুছে দিতে সেখানকার ক্লিয়ার হিস্ট্রি বিকল্পটি ব্যবহার করতে পারেন গ্রাহক।
আইফোনে দীর্ঘ দিন ধরেই রয়েছে সিগনিফিকেন্ট লোকেশান নামের প্রযুক্তি। গোপনীয়তা বজায় রাখতে সেটা বন্ধ রাখাই ভাল, বলছেন টেক বিশ্লেষকদের একাংশ।